মার্কিন গণমাধ্যমে আলোচনায় মুসলিম নারী বুশরা অ‍্যামিওয়ালা

এইচ বি রিতা

বুশরা অ্যামিওয়ালা শিকাগো নগরে বসবাস করেন। শহরতলির একটি স্কুল বোর্ডের নির্বাচিত সদস্য তিনি। তিনিই যুক্তরাষ্ট্রে কনিষ্ঠতম মুসলিম নির্বাচিত কর্মকর্তা। বুশরা নতুন প্রজন্মের কর্মী ও রাজনীতিবিদদের একজন। বর্ণবৈচিত্র্যের নারী হিসাবে তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের বেশি নজরে পড়েছেন। মার্কিন রাজনীতিতে ভবিষ্যতে তিনি তাঁর প্রতিনিধিত্ব বাড়িয়ে তুলবেন বলে সবাই আশাবাদী।

নিউইয়র্কের আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, মিনেসোটার ইলহান ওমর, ম্যাসাচুসেটসের আয়না প্রেসলি এবং মিশিগানের রাশিদা তালেব যখন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ঝড় তুলেছিলেন, তখন রাজনৈতিক পণ্ডিতরা আশ্চর্য হয়ে পড়েছিলেন। তাদের মনে অবশ্য প্রশ্ন থেকে গিয়েছিল, তরুণ নেতাদের এই ক্রমবর্ধমান তরঙ্গ কি অব্যাহতভাবে বেড়ে চলবে?
প্রতিশ্রুতিশীল এই তারকাদের উঠে আসার তিন বছর পরই এই কাতারে যোগ হয় নিউইয়র্কের জামাল বৌমান ও মিসৌরির কোরি বুশ। এটি শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এই কাতারে তরুণী বুশরা আ্যামিওয়ালার সংযোজন পণ্ডিতদের আরও অবাক করে দিয়েছে।
‘চেঞ্জিং আমেরিকা’র এক সাক্ষাৎকারে বুশরা বলেন,

‘অগ্রগতির পথে সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে শালীনতা, উদারতা ও মনোবল নিয়ে নারীরা নিজেদের যাত্রাপথ অব্যাহত রেখেছেন, তা সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।’

অনুপ্রাণিত বুশরা রাজনীতিতে পা রাখা মার্কিন নতুন প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি। দেশের কনিষ্ঠতম মুসলিম নির্বাচিত এই কর্মকর্তা বলেন, তিনি নিজ জেলার শিক্ষাবোর্ডে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম।

ডিপল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক সর্বপ্রথম জাতীয় গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে আসেন একজন শিক্ষার্থী হিসাবে প্রচারণা শুরুর পর। কবি আমান্ডা গোরম্যানের পাশাপাশি ২০১৮ সালে গ্ল্যামার ম্যাগাজিনের ‘কলেজ উইমেন অফ দ্য ইয়ার’–এর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। তাঁর সাফল্যের গল্প ও সম্ভাবনা নিয়ে পিবিএস ডকুমেন্টারি ‘অ্যান্ড শি কুড বি নেক্সট’ এবং পরে অনির্ধারিত সিরিজ ‘রান দ্য সিরিজ’ নির্মাণ হয়েছে। তবে এখনো তার নাম তুলনামূলকভাবে অজানা রয়ে গেছে বলে জানান বুশরা।
বুশরা বলেন,

‘নারী হিসাবে আমরা আমাদের পরিচয়, বিশেষত আমাদের পোশাক ও একজন মুসলিম নারী হিসাবে আমাদের হিজাবকে অনেক ক্ষেত্রে খাটো করে উপস্থাপন করা হয়। সব সময় মুসলিম তরুণদের এমন সব জায়গায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে মানুষ আমাদের নামও জানেন না।’

নিজের সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করার ওপর জোর দিচ্ছেন বুশরা। প্রথমে তিনি নিজ সম্প্রদায়ের দারিদ্র্য, ক্ষুধা, গৃহহীন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং শিক্ষাগত বৈষম্যের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে চান।
এই মুহূর্তে বুশরার রাজনীতি স্থানীয়। তবে তিনি মার্কিন রাজনীতিতে আরও বেশি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারবেন বলে নানা সংবাদমাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছে।

লেখক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষক

আরও পড়ুন