Ads

মুক্তিযোদ্ধার নাতী- নাতনীরা জানে না নানা-দাদা কোথায় যুদ্ধ করেছিল!

।। বিশেষ সংবাদদাতা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।।

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের পর নাতী ও নাতনীকে ভর্তির আয়োজন কতটা যৌক্তিক তা সময়ই বলে দিবে বা দিচ্ছে । মুক্তিযোদ্ধার নাতী-নাতনীদের কোটা ভিত্তিতে গণহারে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি মেধাবীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত । এভাবে তাদেরই নানা-দাদার প্রতি চরম অভক্তি করা হচ্ছে বলে অনেকের অভিমত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক ড মোহাঃ ইয়ামিন হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন কয়েকদিন আগে ।  তিনি জানান,

“গত জুন মাসের ১০ তারিখে আমি ও আমার বেশ কয়েকজন সহকর্মী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করি। এই প্রক্রিয়ায় আমি ও আমার এক সহকর্মী মিলে প্রায় ৪৫/৪৬ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করি যারা মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি হয়। প্রতিবন্ধী কোটায় যাদেরকে ভর্তি করা হয়, তারা সবাই প্রকৃতপক্ষে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তাদের অবস্থা দেখে খুবই খারাপ লেগেছে। মহান আল্লাহ তাদের ডিগ্রী সম্পন্ন করে উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন। আমিন!

মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতির সর্বোচ্চ গর্বিত সন্তান। মহান আল্লাহ তাঁদেরকে ইহকাল ও পরকালে ভালো রাখুন। এবার আসল কথায় আসি, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনী যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটায় ভর্তি হয়েছেন, তা আমার বোর্ডে ২৮-৩০ জন হবেন। এদের মধ্যে ৮০% বা বেশি মুক্তিযোদ্ধাদের মেয়ের সন্তান। মুক্তিযোদ্ধাদের বেশিরভাগই বেঁচে নেই, মহান আল্লাহ তাঁদেরকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা হিসেবে কবুল করুন। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এই ২৮-৩০ জন ক্যান্ডিডেটের মধ্যে মাত্র একজন বলতে পারছেন তার নানা কোন সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। আমরা যারা সেদিন কষ্ট করে নিয়মানুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি, তাদের জন্য এটা চরম কষ্টের দিন।

মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের সন্তানেরা যদি তাদের পূর্বপুরুষদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ সম্পর্কে না জানেন, তাহলে তাদের ঐ কোটায় সুবিধা দেওয়ার মানে কী?

এটা অনেকটা কবরে শুয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের কষ্ট দেওয়ার মতো। এরাই আবার বিসিএসসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় কোটায় চাকুরী করবেন- পাপটা কার হবে, ভেবে দেখা দরকার! পরিশেষে, আমি মনে করি, যারা তাদের নানা বা দাদার মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরের নম্বর জানে না, তাদেরকে ঐ কোটায় চাকরি দিলে তাদের মুক্তিযোদ্ধা পূর্বপুরুষেরা কষ্ট পাবেন। মহান আল্লাহ দয়া করে জাতিকে রক্ষা করুন।”

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

আরও পড়ুন