দিতে শিখবেন

তারিক হক

বইমেলা ২০১৭ তে ঢাকা এসেছিলাম । দুপুর দুটোর সময় সময় দরজায় কে যেন কড়া নাড়লো । দরজা খুলে দেখি একটি ভিখারি । কিভাবে বাসায় ঢুকলো বুঝলাম না ।

দেখেই বললাম, “মাফ করেন “। চোখে কান্না , করুণ মুখ ।

বললো : আমারে দুগা ভাত দিবেন ?

বললাম : ভিক্ষা করেন কেন ? কাজ খুঁজুন ।

উত্তর : আমারে কাজ দিবেন ?

আমি কোনো উত্তর দিতে পারলাম না । কোনোভাবে রুটি-তরকারি দিয়ে তাকে বিদায় করলাম । কেন যেন মনের মাঝে এই কথাটি ঘুরছিলো, “আমারে কাজ দিবেন? ” ?

পাঠক, আমি জানি আপনি মহৎ , দয়াশীল । কখনো কি আপনাকে কেউ “কিপটুস” বলেছে ?

আপনি কি সবাইকে সব কিছু দিতে পারেন ? আমার এক আত্মীয় আছেন, দিনের অনেক সময় ফেইসবুকে থাকেন কিন্তু কাউকেও লাইক দেন না ।

আমি জিজ্ঞেস করলাম , কেন স্ট্যাটাসগুলি ভালো লাগে না ?
-লাগে তবে লাইক দেব কেন ? কি লাভ ?

আমি তাকে বললাম, ” আপনি জীবনে ততটুকুই পাবেন , যতটুকু অন্যকে দেবেন “।

আমার ৬০ তম জন্মদিনে আমার ছেলে আমাকে একটি দামি গাড়ি উপহার দিয়েছিলো । আমার জার্মান প্রতিবেশিনী আমাকে জিজ্ঞেস করলো : বাহ্ , গাড়িটি তো বেশ সুন্দর । কত দিয়ে কিনেছো ?

আমি বললাম : এটা আমি কিনি নি । আমার ছেলে আমার জন্মদিনে এটা উপহার দিয়েছে ।
উনি বললেন : আমি এটা বিশ্বাস করি না ।
– কেন ?
– আমার ছেলে বার্লিনে থাকে । কালেভদ্রে ফোন করে । “Christmas” এর সময় একটি চকলেটও পাঠায় না ।

আমি গর্ব করে বললাম, ” বাঙালির ছেলে তো । একটু অন্য রকম ” ।

আপনাকে যে “হাতেম তাই ” বা “হাজি মহসিন ” হতে হবে এমন কোনো কথা নেই ।
রিক্সাওয়ালার মেয়ে পরীক্ষার ফিস দিতে পারছে না , দারওয়ানের মায়ের অসুখে ডাক্তার দেখানোর টাকা নেই , কাজের বুয়ার চোখ থেকে অনবরত পানি পড়ছে অপারেশন না করলে চোখ অন্ধ হয়ে যাবে তাতে কি আমার কিছু আসে যায়?

আজ বিকেলে “পিজা হাট” এর পার্টিটি জম্পেশ হবে কিনা সেটা নিয়ে আমরা ভাবি তাই না ?

জার্মানিতে এখন প্রচুর রেফিউজি ঢুকেছে । অনেক জার্মান স্লোগান দিচ্ছে , “বিদেশি তাড়াও” । তাদেরকে আমি বলি, “দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কথা ভুলে গেছো ? তোমাদের হয়তো বা কোনোদিন এমন অবস্থা হতে পারে” ।

দিতে শিখুন । আপনি যা দেবেন , তার দশগুণ আল্লাহ আপনাকে ফিরিয়ে দেবেন ।

তারিক হক মোটিভেশনাল স্পিকার ও জার্মানি প্রবাসী বাংলাদেশী

আরও পড়ুন