সাম্প্রদায়িকতার জয়;উদারতার পরাজয়!

আবুল কালাম ফজলে রাব্বি

৯২ শতাংশ মুসলিম দেশের একুশে বইমেলায় জঙ্গি অপবাদের অজুহাতে ইসলামী প্রকাশনাগুলো তেমন বরাদ্দ না পেলেও ৭৪ নং স্টলে বরাদ্দ পেয়েছে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগে অভিযুক্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন।

একুশের বইমেলায় ইসকনকে কাদের ইশারায় এই জায়গা দেওয়া হল, এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে ।

সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা চৈতন্য’র  একটি থিউরী হলো, ‘তারা কীর্তন করবে, কিন্তু কখন কেউ তাদের বাধা দিতে পারবে না বা বন্ধ করতে পারবে না।এক্ষেত্রে কেউ যদি তাদের কীর্তনে বাধা দেয়, তবে প্রয়োজনে তার সাথে মারামারি করতে হবে’। (বাংলা দেশের ইতিহাস(মধ্য যুগ),পঞ্চম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৬২)

চৈতন্যের  থিউরী- ‘নামাজ হোক, আজান হোক আর মসজিদ হোক ঢোল তবলা বাজাতে হবে, বন্ধ করা যাবে না, যদি কেউ বাধা দেয়, তবে তাদের সাথে মারামারি বা দাঙ্গা করতে হবে’-অনুযায়ী
আপনার লক্ষ্য করবেন,

২০১৪ সালে স্বামীবাগ মন্দিরের পাশে মসজিদে তারাবীর নামাজ নিয়ে যখন মারামারি হলো, তখন তার মূল কারণ ছিলো, মসজিদের তারাবী বা অন্য ওয়াক্তের নামাজ বা আজানের সময় মন্দিরের ঢাল-তবলা বা কীর্তন বন্ধ না করা।

আবার ২০১৬ সালে সিলেট কাজলশাহ এলাকায় ইসকন মন্দির ও পাশ্ববর্তী মসজিদের মুসল্লীদের মধ্যে মারামারি হলো, তখনও ঘটনা ছিলো এক। মানে জুম্মার নামাজের সময় ইসকন মন্দিরে কীর্তন বা ঢোল তবলা বন্ধ না করা।

এই ঘটনার পর মিডিয়ায় একচেটিয়া দোষ দেয়া হয় মুসলমানদের।পুলিশ ঐ সময় ইসকনের  পক্ষ নিয়ে মসজিদের ভেতরে নামাজরত মুসল্লীদের উপর গুলি চালায়। এসময় অনেক মুসল্লী আহত হয়। ঘটনার পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। এরপর চলে গণগ্রেফতার ও মুসলমান নির্যাতন। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য ঐ সময় সমস্ত মিডিয়া একপাক্ষীক ইসকনের পক্ষে লিখলেও আসলে সংঘর্ষ কেন হয়েছিলো সেটা নিয়ে কেউ অনুসন্ধান করে নাই।

ঐ সময় মসজিদের ইমাম সাহেব, এলাকার স্থানীয় মুরব্বী, মুসল্লী ও নেতাদের বক্তব্য  নিয়ে একটি ভিডিও’র লিংক দিলাম।
https://www.facebook.com/202647270140320/posts/620022498402793/

তবুও অজানা,আর কতকাল মুসলিম সমাজ বিশেষত মুসলমানদের ধর্মীয় অভিভাবকরা কথিত সম্প্রীতি ও উদারতার মিথ্যে স্বপ্নে বুক বেঁধে থাকবে ! আর কত…?!

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে গাফলতের এই ঘুম ভাঙবার নয়!কারণ,স্বয়ং ধর্মীয় অভিভাবকরাই নিরেট ধর্মীয় ইস্যুগুলোতেও ঘুরে ফিরে  আবার সেই তাদের কাছেই চূড়ান্ত ফতোয়ার জন্য ধরনা দিচ্ছে !!

মুসলমানদের এই অসহায়ত্বের দিন কি মুসলমানরা আর কোনদিনই কাটিয়ে উঠতে পারবে না !!!

আরও পড়ুন