Ads

সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখাঃ মানবতা অমূল্য

।। ড. মোহাঃ ইয়ামিন হোসেন ।।

“আলম সাহেব একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার বয়স পঁয়তাল্লিশ। একদিন, তিনি এক অভিজাত রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেতে বসেন। ভাত, তরকারি, এবং সালাদ তার টেবিলে সাজানো। তিনি সাদা ভাত খেতে পছন্দ করেন এবং হাত দিয়ে খেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। খাবারের প্রথম লোকমা মুখে তোলার আগে তিনি রেস্টুরেন্টের কাঁচের দেয়ালের ওপাশে একটি পাঁচ-ছয় বছর বয়সী দরিদ্র মেয়েকে দেখেন। মেয়েটি ক্ষুধার্ত চোখে ভেতরের কাস্টমারদের খাওয়া দেখছে। আলম সাহেব মেয়েটিকে ডাকেন, কিন্তু মেয়েটি প্রথমে বুঝতে পারে না। পরে বুঝতে পেরে, সে ভয়ে রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকে।

মেয়েটির মাথায় তেলহীন এলোমেলো চুল, ময়লা ছেঁড়া ফ্রক, এবং খালি পা। রেস্টুরেন্টের অন্যান্য কাস্টমাররা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। একজন কাস্টমার বেয়ারাকে অভিযোগ করে, কিন্তু আলম সাহেব তাকে থামিয়ে দেন এবং জানান যে তিনি মেয়েটিকে ডেকেছেন। এরপর বেয়ারাটি চলে গেলে, মেয়েটি কিছুটা স্বস্তি পায়। আলম সাহেব তাকে খেতে বসতে বললে, মেয়েটি বেরিয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পরে তার ছোট ভাইকে নিয়ে ফিরে আসে। ছোট ভাইটির বয়স তিন বছর, খালি গা, খালি পা এবং পরনে জিপারহীন প্যান্ট।

মেয়েটি আলম সাহেবকে জানায়, “এটা আমার ছোট ভাই।” দুই ভাইবোনের ভালবাসা দেখে আলম সাহেব মুগ্ধ হন। তারা একসঙ্গে বসে খেতে শুরু করে। মেয়েটি নিজের খাবারের লোকমা নিজে খায় এবং ছোট ভাইকেও খাওয়ায়। খাওয়ার শেষে আলম সাহেব জানতে চান তাদের পরিবারের সম্পর্কে। মেয়েটি জানায় যে তাদের মা আছে, কিন্তু বাবা নেই। তিনি বেয়ারাকে ডেকে এক প্যাকেট খাবার তাদের মায়ের জন্য দিতে বলেন। খাবারের প্যাকেটটি হাতে নিয়ে তারা ধীরে ধীরে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যায়। শেষে, বিল আসার পর আলম সাহেব দেখেন, বিলের কাগজে কোনো সংখ্যা নেই, কেবল লেখা আছে, “মানবতা অমূল্য। এর দাম নির্ধারণ করবো এমন ক্ষমতা আমাদের নেই। স্যার আপনাকে ধন্যবাদ।”

আরও পড়ুন-

প্রতিদিনের কাজগুলো যেভাবে সাদাকায়ে জারিয়া হবে

মানুষ হিসেবে আমাদের করণীয়

১. সহানুভূতি প্রদর্শন:

দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সাহায্যের হাত বাড়ানো।

২. নম্রতা ও ভদ্রতা:

সকলের প্রতি নম্র ও ভদ্র আচরণ করা, বিশেষ করে যারা আমাদের সাহায্য বা সহায়তার অপেক্ষায়।

৩. সমাজসেবা:

সমাজের অসহায় ও দরিদ্রদের সাহায্য করার চেষ্টা করা এবং তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা।

৪. শিক্ষা ও সচেতনতা:

শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এবং তাদের সচেতন করা।

৫. দাতব্য কাজ:

নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দাতব্য কাজ করা এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

৬. সচেতনতা বাড়ানো:

মানবতার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

৭. শিশুদের সহায়তা করা:

পথশিশুদের খাদ্য, শিক্ষা, এবং আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা।

আরও পড়ুন-

সেলুনসহ যেসব জায়গায় লাইব্রেরি স্থাপন প্রজন্মকে এগিয়ে নিবে

ভবিষ্যৎ জাতির জন্য পরিকল্পনা থাকা উচিত

১। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ:

দরিদ্র ও অসহায় শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

২. স্বাস্থ্য সেবা:

দরিদ্র পরিবারের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা।

৩. খাদ্য নিরাপত্তা:

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষুধার্তদের খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা।

৪. সামাজিক সচেতনতা:

সমাজে মানবতা ও সহানুভূতির প্রচার করা এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা।

৫. আর্থিক সহায়তা:

দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য সহায়তা করা।

৬. ব্যতিক্রমী শিক্ষা ও  প্রশিক্ষণ:

সকল শিশুদের জন্য ব্যতিক্রমী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, যা তাদের ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে।

৭. মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষা:

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের মধ্যে সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ এবং সম্মানবোধ গড়ে তোলা।

৮৷ সামাজিক উন্নয়ন:

সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে মানবিক মূল্যবোধের প্রচার করা এবং সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

৯. নীতিগত সহায়তা:

সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং তাদের উন্নয়নে কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করা।

এই উদ্যোগগুলি আমাদের সমাজকে আরও মানবিক ও সহানুভূতিশীল করতে সাহায্য করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ প্রদান করবে।

লেখকঃ প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

ফেসবুকে লেখক  মোঃ ইয়ামিন হোসেন 

আরও পড়ুন