দাম্পত্য সিরিজঃ অরাজনৈতিক ঝগড়া (পর্ব- ২)

মাহেজবিন সিদ্দিকা মম 

উনি হেসে বললেন,

– তুমি যে এতো সর্দি লাগালে, তোমাকে নিয়ে কাশ্মীর যাবো কেমন করে বল তো?

আমি বললাম,

– তা কালকের ফ্লাইট নাকি?

– করলে তো অপমানটা ভালোমতোই। কাল যাবো কেমন করে?

– হাহাহা। নাহ, আপনি এমন ভাবে বললেন আমি তো ভাবলাম কালকেই উড়াল দিচ্ছেন আপনি।

উনি আবার একটু রসিয়ে বললেন

– উড়াল কি আর একা দিবো নাকি? তুমি ধরে ফেলবা না উড়াল দিলে?

-” ওহে বৎস, তুমি হইলা মৎস, আমি হইলাম জাল, তোমারে আমি ধরিবই চিরকাল।”

– এগুলো কথা তুমি কোথায় পাও বলতো?

– আপনার বউ যে কত প্রতিভাবান তা তো আপনি জানেন না। পাত্তাই তো দেন না আমাকে।

– পাত্তা দিবনা কেন? তবে কাশ্মীরেও কিন্তু হাব্বা খাতুন নামে এক বিখ্যাত মহিলা কবি ছিলেন।

– জানি, বুলবুল সরওয়ারের “ঝিলাম নদীর দেশে পড়েছি”।

– তাহলে তোমার একটা পরীক্ষা নিই। বলতো কাশ্মীরে দেখার মত কি কি জায়গার কথা বলা আছে বইটিতে?

– দেখার মতো আছে ঝিলাম নদী, ডাল ও নাগিন লেক, পেহেলগাঁও, চেশমা শাহী, হযরত বাল মসজিদ, গুলমার্ক, তখত ই সুলাইমান, নিশাত বাগ, শালিমার বেগ,মসজিদ ইত্যাদি ইত্যাদি।

এই সময় তিনি বলতে লাগলেন,

– এর মাঝে শালিমার বেগ কিন্তু সম্রাট জাহাঙ্গীর নির্মান করেন তার স্ত্রী নূরজাহানের জন্য।

– হুহ, এসব জেনে আমার কি হবে বলেন? সম্রাট শাহাজাহানও তো তাঁর স্ত্রী মমতাজের জন্য তাজমহল বানিয়ে দিলেন, আর আপনি আপনার বউ হাফ মমতাজ মানে শুধু মমর জন্য কি বানালেন বলেন তো?

– আরে হতাশ হচ্ছো কেন? হুমায়ূন আহমেদ তাঁর স্ত্রী গুলতেকিনের উঠোনে একশত সাতটি অমরাবতী এনে দিতে চেয়েছিলেন। আমি অমরাবতী না পারি, তোমার প্রিয় দোলনচাঁপা এনে দিতে পারবো কিন্তু।

– ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের কাশ্মীর যাওয়ার কি হবে? ওখনকার বর্তমান পরিস্থিতি তো খুব একটা ভালো না।

– হুমমম, নরেন্দ্র মোদী ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছেন।এরপর থেকেই গোটা কাশ্মীর বিক্ষোভে উত্তাল।

– কাশ্মীরের জন্য কষ্ট হয়। এদের ইতিহাসটাই এমন বেদনাদায়ক। পৃথিবীর স্বর্গ নামে পরিচিত এই কাশ্মীর বরাবরই রাজনৈতিক বলীর স্বীকার। ১৯৪৭ সালে যদি হরি সিং ভারতে যোগ না দিয়ে আলাদা থাকতো তাহলে হয়তো ভালো হতো। ১৯৪৮ এই তো আবার পাকিস্তান কাশ্মীরের একটি অংশ দখলে নিয়ে নাম দিলো আজাদ কাশ্মীর। আবার ১৯৬২ সালে চীন ভারত যুদ্ধে তো চীন কাশ্মীরের আকসাই চীন দখল করে নিলো। ভূস্বর্গ কাশ্মীর হয়ে গেলো ছিন্ন বিচ্ছিন্ন।

উনি তখন গাম্ভীর্যের সাথে বললেন,

– কাশ্মীরের তরুন নেতা বুরহান ওয়ানির কথা জানো তো, ওই যে ২০১৬ সালে যাকে হত্যা করা হলো।

– অবশ্যই জানি, প্রতিবাদী মানুষদের আমার ভালো লাগে।

– তা কি আর আমার জানতে বাকি আছে। তুমি নিজেও তো একই পথের পথিক। কোটা সংস্কার আন্দোলনে কি করেছো তা কি আমি ভুলে গিয়েছি নাকি। – ভেরি গুড, এটা কিন্তু আপনার জন্যেও সতর্কবাণী। তেড়িবেড়ি করলে যে আপনার বউ আপানার বারোটা বাজাবে সেটা মনে রাখবেন।

– ওরে শের -ই – সংসার মানে আমার সংসারের বাঘ, আপনার কথায় আমি ভয় পেয়েছি কিন্তু।

– হিহিহি, কাশ্মীরের শের শেখ আব্দুল্লাহ গাদ্দারি করেছিলেন, তাই আমি আপনার সংসারের শের হতে চাই না। সংসারের রাণী হওয়াতেই আমার আনন্দ। – ঠিক আছে, এখন এক কাপ চা খাওয়াও, হৃদয় দরিয়া শুকিয়ে গিয়েছে তোমার সাথে কথা বলতে বলতে।

– কি!!!! এতো বড় কথা!!! আমার সাথে কথা বললে হৃদয় দরিয়া শুকিয়ে যায়?? আপনার কপালে চা নাই। আমি গেলাম…….

(চলবে)

আগের পর্ব-দাম্পত্য সিরিজঃ অরাজনৈতিক ঝগড়া (পর্ব-১)

লেখকঃ সাহিত্যিক ও শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 

আরও পড়ুন