দ্বিতীয় প্রেম

।। আবদুল্লাহ আরমান ।।

একবুক আশা নিয়ে যে মানুষটির হাতে আমার বাবা-মা আমাকে সমর্পণ করেছিলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর আকস্মিক মৃত্যু আমার কপালে বৈধব্যের তিলক এঁকে দিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দুঃখের মহাসাগরে জীবন এবং সংসার নিয়ে সাজানো আমার স্বপ্ন ও আশার তরীর সলিল সমাধি হয়েছে। চোখের পলকে আমি হারিয়েছি আমার জীবনসঙ্গী, আমার অবলম্বন ও ভালোবাসার মানুষটিকে।

সেই দুর্ঘটনায় আমার যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। কিন্তু আমার জীবনে তাঁর এই অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপস্থিতি জীবন, মৃত্যু, জীবন-দর্শন ও পরকাল নিয়ে আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সিরাতুল মুস্তাক্বীম, জীবনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও পরকালীন মুক্তির সরল-সঠিক পথ। আত্মবিস্মৃত হয়ে এতদিন যে রবকে আমি ভুলে ছিলাম এখন কেবল তিনিই আমার বেঁচে থাকার একমাত্র প্রেরণা। বিধবা জীবনের চরম একাকীত্ব ও অসহায়ত্বের নির্মমতা যখন আমাকে আচ্ছন্ন করে তখন জায়নামাজ বিছিয়ে আমার রবের সামনে দাঁড়িয়ে যাই। মনের অব্যক্ত কষ্টগুলো যখন অশ্রু হয়ে ঝরে জায়নামাজ সিক্ত করে তখন হাজার কষ্টের মাঝেও হৃদয়ে জান্নাতি সুখানুভূতি দোলা দিয়ে যায়। তাই সারাদিনের আর্দ্র কষ্টগুলোকে চোখের কোণে জমিয়ে রাখি গভীর রাতে আমার রবের জন্য বিসর্জন দেবো বলে।

সামিয়া; আমার একমাত্র মেয়ে। আমাদের স্মৃতিময় দাম্পত্য জীবনে আল্লাহর দেওয়া উপহার। সামিয়াকে ওর বাবা আদর করে ‘প্রিন্সেস’ বলে ডাকতো। কিন্তু মৃত রাজার এই প্রিন্সেসের অসহায়ত্ব আমার হৃদয়কে কাঁদায় প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিটি মুহূর্তে। বাবা হারানো আমার ইয়াতীম মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ওর ভবিষ্যতের কথা ভেবে কেঁদে কেঁদে কত রাত যে নির্ঘুম কাটিয়েছি তা নিজেও জানি না।

মাঝেমধ্যেই ও আমাকে জিজ্ঞাসা করে, “মামুনি, আমার আব্বু কোথায়? আব্বু আসে না কেন? কবে আসবে…..?”
ওর ছলছল চোখ ও নিষ্পাপ চেহারায় বাবাকে কাছে পেতে আকুলতার যে স্পষ্ট আভা ফুটে ওঠে তা আমার মাতৃ-চোখে ঠিকই ধরা পড়ে। প্রশ্নগুলোর নির্মমতা আমাকে নির্বাক ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়। আমি মা হয়ে কিভাবে পারি সত্যি কথাটা বলে তার ছোট্ট হৃদয়ে বাবার প্রতি লালিত ভালোবাসাকে হত্যা করতে! মিথ্যা বলা অন্যায়, পাপ। কিন্তু সত্যি বলে ওর কুসুম-কোমল হৃদয়কে রক্তাক্ত করার মতো যথেষ্ট সাহসী আমি নই। তাই বলতাম, “তোমার বাবা জরুরী কাজে অনেক দূরে গিয়েছে আম্মু। কিছুদিন পর এসে আমাদের দু’জনকে নিয়ে যাবে…..”।
দিন যায়, মাস যায়, ওর বাবা আসে না।
আর আমার মিথ্যা বলাও শেষ হয় না! জানি না এর শেষ কোথায়….!!

সামিয়ার বাবার মৃত্যুর পর আমি বাবার বাড়ি চলে আসি। আমার মা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। আমার ষাটোর্ধ বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। পেনশনের টাকা তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস। তবু সাধ্যমতো আমার আর সামিয়ার ব্যয়ভার বহন করে যাচ্ছেন। কিন্তু সামিয়ার চিকিৎসা, বাড়তি খাবার, পোশাক ইত্যাদির জন্য সে টাকা মোটেও যথেষ্ট নয়। আমার প্রয়োজনের কথা নাই-বা বললাম। হাতখরচ কিংবা অনিবার্য কিছু ক্রয়ের জন্য বারংবার বাবা-ভাইদের টাকা চাইতে লজ্জা লাগে। তাই হাজারো প্রয়োজন ও শখ হৃদয়ের সিক্ত মাটিতে দাফন করতে হয় প্রতিনিয়ত। তবে আমার নিজের আর্থিক কষ্টকে আজকাল আর কষ্টই মনে হয় না। আমার শুধু একটাই কষ্ট ওর বাবার রেখে যাওয়া আদরের প্রিন্সেসকে আমি ভালো রাখতে অক্ষম।

আমার জামা-কাপড়গুলোও পুরাতন হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে ভাইয়েরা তাদের পছন্দমতো যে কাপড় এনে দেয় তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। অথচ সামিয়ার বাবা বেঁচে থাকতে প্রায় প্রতি মাসেই কাপড় ও নানারকম প্রসাধনী কিনে দিতো। এই বাড়তি খরচের জন্য মাঝেমধ্যে তাঁকে বকা দিতাম। তখন একগাল হেসে আমার দুই কাঁধ ধরে বলতো “তোমার জীবদ্দশায় আমার মৃত্যু হলে হয়তো আমার এই ভালোবাসার মর্ম তুমি বুঝবে…..”। হ্যা, এখন সেই হারানো ভালোবাসার মর্ম আমি বুঝি। কিন্তু বুঝতে যে বড্ড দেরী হয়ে গেছে….।

সবাই বলে আমি নাকি দেখতে-শুনতে বেশ ভালোই। বয়সও ত্রিশের গন্ডি পেরোয়নি। মাঝেমধ্যেই বড় ভাই ও বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব আসে। পরিবারের সবাই চায় আমি আবার নতুন করে সংসারী হই। বিশেষ করে ভাবীদের ইঙ্গিতপূর্ণ চাহনী বলে দেয় আমি ও আমার সন্তান এ বাড়ির অনাকাঙ্ক্ষিত মেহমান। তাই অযাচিত মেহমান যত তাড়াতাড়ি চলে যায় ততোই মঙ্গল!

যতগুলো বিয়ের প্রস্তাব এসেছে সবার একই শর্ত; “তারা শুধু আমাকে চায়, আমার মেয়েকে নয়!!” একজন মা হিসেবে এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার চেয়ে জেনে-শুনে মৃত্যুকে আলিঙ্গন আমার জন্য অধিক সহজ। যে মেয়েকে মাসের পর মাস আমার গর্ভে ধারণ করেছি, যার কান্নার আওয়াজে আমি প্রসব বেদনার মরণ যন্ত্রণা ভুলেছি, আমার সেই নাড়ি ছেঁড়া ধনকে ফেলে রেখে আমি অন্যের জীবন সাজাতে যাবো! অসম্ভব, একেবারেই অসম্ভব।

মেয়েটা আমাকে ছাড়া কিছুই বোঝে না। আমি না খাওয়ালে খায় না, আমার গলা না জড়িয়ে ঘুমায় না। আমিই ওর বাবা, আমিই ওর মা আবার আমিই খেলার সাথী। আমার বাবাহীন এই ছোট্ট মেয়েটিকে আমি কার কাছে রেখে যাবো !? ও ইয়াতীম, এটাই কি ওর অপরাধ? যে পুরুষ জেনে-শুনে আমার সেই অবুঝ ইয়াতীম শিশুকে ফেলে আসতে বলে তার হৃদয়ে নূন্যতম মনুষ্যত্ববোধ আছে এটা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় এদের মধ্যে অনেকের পূর্ব স্ত্রীর সন্তানও আছে। বিয়ে হলে তাদের মাতৃত্বের দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। তাহলে আমার সন্তানের ক্ষেত্রে তাদের এই দ্বিমুখীতা কেন! যে স্বার্থপর পুরুষ ছোট্ট শিশুর অসহায়ত্ব বোঝে না এমন পাষাণের সাথে আর যাই হোক সংসার করা সম্ভব নয়।

ছেলে পক্ষের এই নির্মম শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমি অনেকগুলো প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। আমার সাফ কথা, আমার মেয়েকে যে মেনে নেবে না আমিও তাকে আমার জীবনে জায়গা দিতে পারবো না।

গতকাল রাতে বাবা আমার রুমে এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “মা’রে, তোর কষ্ট কেউ না বুঝলেও আমি বুঝি। এজন্য তোকে আমি বিয়ের জন্য জোর করতে পারি না। যতদিন তোর এই বুড়ো বাপ বেঁচে আছে ততদিন তুই এই বাড়িতে মাথা উঁচু করে থাকতে পারবি। কিন্তু আমি মরে গেলে কে তোকে দেখবে বল? জীবনের বাস্তবতা বড়োই কঠিনরে মা। মরার আগে তোর একটা ব্যবস্থা করতে পারলে নিশ্চিন্ত হতে পারতাম। জীবন তোর, সিন্ধান্তও তোর। আমার কথাগুলো ভেবে দেখিস মা,ভেবে দেখিস……”। আরও কিছু কথা বলে চোখ মুছতে মুছতে বাবা ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন।

বারংবার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় ভাবীদের মাঝেও আমাকে নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়েছে। আগে যেসব কটুকথা আমাকে ইঙ্গিত দিয়ে বলতো এখন তা সরাসরিই বলে। আমি মেয়েটার কথা ভেবে প্রতুত্তর করি না। সারাদিনের কষ্টগুলো বুকের কোণে জমিয়ে রাতের অপেক্ষায় থাকি। গভীর প্রহরে সিজদায় লুটিয়ে অন্তর্যামীকে অশ্রুর ভাষায় মনের কথাগুলো জানানো ছাড়া আমার মতো নিরুপায় নারীর কিইবা করার আছে!

মাসখানেক পর আজ আরেকটা প্রস্তাব এসেছে। বাবা আমার পাশে বসে একটু বাড়তি উচ্ছ্বাস নিয়ে বললেন, “মা, ছেলেটা খুবই ভালো। ক্বওমী মাদরাসা শিক্ষক। ওনার আগের স্ত্রী প্রসব জটিলতায় মারা গিয়েছে। তোর সম্পর্কে বিস্তারিত জানে। সবচেয়ে বড় কথা সামিয়ার কথা জেনে ছেলেটা আপত্তি তো করেইনি বরং বাড়তি আগ্রহ দেখিয়েছে ”

শেষের বাক্যটা শুনে অবচেতন মনের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও বিস্ময় নিয়ে বাবার দিকে তাকালাম। নিজের কানকে যেন বিশ্বাসই করতে পারছি না। বুঝতে বাকী রইলো না গত একমাসে গভীর রাতে ঝরা আঁখিজল আসমানের মালিকের দরবারে কবুল হতে শুরু হয়েছে।
আমার চোখের ভাষা বাবা বুঝে ফেললেন। মুচকি হেসে বললেন “তাহলে তুই মানসিক প্রস্তুতি নে মা, আমি কথা এগোই”। আমি শুধু মাথা নিচু করে বললাম “আপনি যা ভালো মনে করেন বাবা…..”।

জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ের প্রস্তাবিত পাত্রি হিসেবে কারও সামনে বসে আছি। সংকোচ, লজ্জা ও জড়তার পাশাপাশি কোনো এক অজানা কারণে মনের কোণে আনন্দের শীতল ছোঁয়াও অনুভব করছি। অথচ আমার দেহ-মনে সামিয়ার আব্বু ব্যতীত অন্য কোনো পুরষকে অধিকার দেওয়ার কথা কখনও কল্পনা করিনি। কিন্তু আজ অন্য একজনের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে স্বেচ্ছায় আমি নিজেকে উপস্থাপন করেছি। জীবনটা বড়োই অদ্ভুত, বাস্তবতা বড়োই নির্মম। কেউ কারো জন্য থেমে থাকে না, থেমে থাকতে পারে না। বাস্তবতা মানুষকে ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন করে।

মানুষটার দিকে আড়চোখে একবার তাকালাম। মাঝারি গঠনের শ্যামলা রঙের মানুষ তিনি। চেহারায় নম্রতা ও ধার্মিকতার স্পষ্ট ছাপ আছে। বেশভূষা ও পোশাকের রঙ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওনাকে বেশ রুচিশীলই মনে হলো।
হঠাৎ সামিয়া দৌড়ে এসে ওনাকে জড়িয়ে ধরে বললো, “আব্বু আব্বু, তুমি আমাকে নিতে এসেছো? কবে নিয়ে যাবে…..?”
ওর হঠাৎ আগমন ও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কথায় সকলে হতবাক হয়ে গেলো। রুমে পিনপতন নীরবতা। আমারতো লজ্জায় মাথা কাটা যাওয়া অবস্থা। এই পাকনা মেয়ে বলে কি! সবাই ভাববে আমি ওকে শিখিয়ে দিয়েছি। রাগে – লজ্জায় আমার শরীর ঘামতে শুরু করেছে।

উনিও সামিয়ার এমন কথার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে সাবলীলভাবে বললেন, “হ্যা আম্মু, তোমার নানু ভাই অনুমতি দিলেই তোমাকে কয়েকদিন পর এসে নিয়ে যাবো,কেমন”। এ কথা বলেই ওর গালে চুমু দিয়ে কোলে তুলে নিলেন। ওনার এই বুদ্ধিমত্তা ও ব্যবহারে উপস্থিত সবাই যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছে। যাওয়ায় আগে আমাকে সুন্দর পরিবার গঠনের রূপরেখা বিষয়ে আব্দুল্লাহ আরমান রচিত “বিনি সুতোর বাঁধন” বইটি উপহার দিয়েছেন।

আজ আমার দ্বিতীয় বাসর। উনি সালাম দিয়ে ঘরে ঢুকেই আমাকে বললেন, “সাবিহা, আমি জায়নামাজ বিছিয়ে দিচ্ছি, তুমি ওযু করে এসো। দু’রাকাআত নফল নামাজ পড়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করা সুন্নাহ্”।
নামাজের পর উনি আমার কপালে হাত রেখে আরেকটি সুন্নাতী দোআ পড়লেন।

নারীরা কাঁদে। কারণে অকারণে কাঁদে। অতি সুখে কাঁদে, সামান্য দুঃখেও কাঁদে। তাদের কান্নার কোনো কারণ লাগে না।
আমিও একজন নারী। তাই উনি যখন আমার মাথায় হাত দিয়ে দোআ পড়ছিলেন তখন অঝোরে কাঁদছিলাম। কান্নার কারণ আমি নিজেও জানি না। হয়তো এই কান্না সুখের কান্না। হয়তো হারানো সুখ ফিরে পাওয়ার কান্না।

তিনি আমাকে আলতো করে বুকে জড়িয়ে কাঁদার সুযোগ দিলেন। তাঁর বুকে মাথা রেখে আমি কাঁদলাম, প্রাণ ভরে কাঁদলাম।
অনেকক্ষণ পর তিনি আমার দু-চোখ মুছে দিয়ে বললেন, “ আল্লাহর কসম, তোমাকে পেয়ে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমার কাছে তোমার মর্যাদা রাসূল (সাঃ)’র স্ত্রী উম্মে সালামার (রাঃ) মতো, যাকে তিনি সন্তানসহ ঘরে এনেছিলেন। তাঁকে দিয়েছেন স্ত্রীর যথাযথ মর্যাদা আর তাঁর সন্তানকে দিয়েছেন অকৃত্রিম পিতৃস্নেহ। সন্তান সহ বিয়ে করা প্রিয় রাসূল (সাঃ) ও তাঁর সাহাবীগণের হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ। এই হারানো সুন্নাহটি আমল করতে পেরে রাসূল (সাঃ)’র একজন উম্মত হিসেবে আমি সত্যিই গর্বিত।
তাছাড়া আমি গুনাহগার মানুষ। আমার আমলনামায় এমন কোনো সওয়াব নেই যা দ্বারা আমি নাজাতের আশা করতে পারি। কিন্তু তোমাকে বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে সওয়াবের পাল্লা ভারী করার সুযোগ দিয়েছেন! কেননা রাসূল সাঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি একজন বিধবার ভরণ-পোষণের ব্যাপারে চেষ্টা করে, সে আল্লাহ্‌র পথে জিহাদকারীর মত। অথবা সে ঐ ব্যক্তির মত, যে দিনে সিয়াম পালন করে ও রাতে (‘ইবাদাতে) দন্ডায়মান থাকে। (বুখারী ৬০০৬)। সুবহানাল্লাহ! আমার মতো নগণ্য মানুষকে আল্লাহ এই মহান দায়িত্ব গ্রহনের তাওফীক দিয়েছেন এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।

তাছাড়া তোমার মৃত স্বামী আমার দ্বীনি ভাই। তাঁর অনুপস্থিতিতে তোমাদের দায়িত্ব গ্রহণ একজন মুসলিম হিসেবে আমার দ্বীনি দায়িত্ব ছিলো। আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি মাত্র…..”।

এভাবে আমাকে বিয়ে করতে পেরে তিনি কতোটা খুশী ও গর্বিত তা নানাভাবে বারংবার বোঝাতে চেষ্টা করছেন। আর আমি অপলক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছি। কত সুন্দর মনের মানুষ তিনি, কত সুন্দর চিন্তা তিনি হৃদয়ে ধারণ করেন। তাঁর সরল অভিব্যক্তির মাঝে লৌকিকতার লেশমাত্র নেই। অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও সত্যিকারের দ্বীনি চেতনা লালনকারী এই মানুষটিকে ভালো না বেসে থাকা অসম্ভব!

“প্রেম জীবনে একবারই আসে” আমার নারী-মন এই প্রচলিত কথাটির সত্য-মিথ্যা যাচাই করার ক্ষমতা রাখে না। কিন্তু বিনা দ্বিধায় আমি এতটুকু বলতে পারি,আমি ওনাকে ভালোবেসে ফেলেছি। উনি আমার দ্বিতীয় স্বামী, দ্বিতীয় প্রেম ও দ্বিতীয় ভালোবাসা…!!

(গল্প ও চরিত্র কাল্পনিক)

লেখকঃ ইসলামী বিষয়ে গল্প ও  কলাম লেখক

আরও পড়ুন-সত্যিকারের পুরুষ চাই

আরও পড়ুন