বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের চেয়ে একাধিক বিয়ে অনেক ভালো

সালমা তালুকদার

কত পাপ কত অন্যায় ঘটে চলেছে রাতের অন্ধকারে আর দিনের আলোয় বদ্ধ দরজার ভেতরে। কে কার কয়টা অন্যায়ের খোঁজ রাখে! অন্যায় কিছু থাকে গোপন। কিছু প্রকাশ হয়। যেগুলো প্রকাশ হয় সেগুলো প্রকাশ হওয়ার বলেই প্রকাশ হয়। আর এই প্রকাশিত ঘটনা থেকে বাকিরা সাবধান হয়।

ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ব্যাক্তির সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী কমেন্ট, বিচারের সময়/গুরুত্ব ওঠানামা করে। স্বাভাবিক….তবে যে বা যারা অন্যায় করে সে বা তারা ছাড়া প্রকৃত ঘটনা আর কেউ জানে না। অন্যায়কারী যদি নিজের মন থেকে পুরো সত্য বাহির না করে কারো বাবার সাধ্য নাই কথা বের করে। এরমধ্যেই কত ঘটনা ঘটে যায়। গুরুত্ব বুঝে এক ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য নতুন ঘটনার উদয় হয় নয়তো পুরোণো ঘটনার চর্চা নতুন করে শুরু হয়। সাধারণ জনগনের প্রতিবাদ করা উচিৎ ঠিক আছে। সাথে এটাও শেখা উচিৎ যে নিজে কিভাবে চলবে। নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে চললে অথবা অন্যায় করলে এক সময় না এক সময় তাকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। আর বিচারের আগে অপমান, লাঞ্চনা ভোগ করতে হবে।

যে জন্য এতক্ষন বকবক করলাম সেটা এবার বলি। পরপর যে ঘটনা দুটো ঘটলো তা থেকে কি শেখা উচিৎ আমাদের? আমি আমার কথা বলি, সম্পর্ক গোপন করার বিষয় নয়। গোপন ব্যাপার ফাঁস হবেই। স্বাভাবিক। তবে কারটা ফাঁস হবে আর কারটা গোপন থাকবে আমরা জানি না। তাই সম্পর্কের চাইতে বিয়েটাকে স্বাভাবিক বলে মনে করি আমি। কোন নারীই তার স্বামীকে ভাগ করতে চায় না। মানে স্বামী তার একান্ত নিজের থাকবে। এভাবেই নারীরা চিন্তা করে। তাই পুরুষরা হয় গোপনে বিয়ে করে নয়তো পরকিয়া করে। সমাজ কি বলবে সেই চিন্তা করে বিষিয়ে ওঠা সম্পর্ক ও এক ছাদের নিচে টেনে নিয়ে যায়। এখানে একটা কথা বলতে চাই, আমি এমন নারীকে চিনি, যিনি তার স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন। এবং স্বামী ও দুই জায়গায় দুই বউ নিয়ে ভালোই আছেন। অর্থনৈতিক ভাবে কতটুকু কুলোতে পারছেন সেটা তার উপরই ছেড়ে দেই। অনেক সময় মানসিকভাবে শান্তিতে থাকবেন বলে দুটো বিয়ে করার কথা ভাবেন। যদি দুই বউ এর কারো কোন সমস্যা না থাকে তাহলে সংসার দুটো ভালো ভাবেই কেটে যায়।

কিন্তু তারাই হচ্ছে চালাক কিংবা বোকা অথবা হিসাবী কিংবা স্বার্থপর, যারা একটা বউ রেখে ফুলে ফুলে মধু খেয়ে বেড়ায়। সে সুযোগটা করে দিচ্ছে মেয়েরাই। প্রথমত স্ত্রী তার সতীনকে মেনে নিবে না। দ্বিতীয়ত স্বামীর আরেকজন স্ত্রী লাগবে। যেহেতু আরেকটা বিয়ে করলে স্ত্রী ও তার নিজের পরিবার মেনে নিবে না। সমাজও কটাক্ষ করবে তাই গার্লফ্রেন্ডই ভালো। কিন্তু এতে করে ঝামেলা বরং বাড়েই।

আচ্ছা এত কথা বলার পর ও কি ঐ দুটো ঘটনার মধ্যে কোন মিল খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ! তাহলে আমি কেন পাচ্ছি!

মামুনুল হক ও আনভীর দুই জনের ঘটনাই কিন্তু নারী ঘটিত। একটি পরকিয়া….অন্যটিও এখন শুনি পরকিয়া। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাকি একসাথে থাকা। যাই হোক না কেন দু’জন পুরুষই কিন্তু নারী ঘটিত কারনে আজকে বিতর্কিত। বৈধ কোন সম্পর্ক থাকলে এমন দিন দেখা লাগতো না। এখানে নারীরা সহনশীল হলে দুই জনই একের অধিক স্ত্রী রাখতে পারতেন। আর আনভীর তো অনায়াসে চারটা বিয়ে করে চার জায়গায় চার বউ নিয়ে থাকতে পারতেন। আমার এসব কথায় অবশ্য ভাবার কোন কারণ নেই যে, আমি পুরুষকে একের অধিক বিয়ে করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করছি। কেবল সমসাময়িক ঘটনা দুটোকে এক জায়গায় এনে পর্যালোচনা করার চেষ্টা করছি।

দেখেন আমরা নারীরা যদি স্বাবলম্বী হই তাহলে কিন্তু অনেকটাই ভালো থাকা যায়। স্বামী, সংসার, সন্তান, চাকরী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করা যায়। তবু আমরা দেখবেন কখনোই এক স্বামী রেখে আরেক স্বামী কল্পনাও করতে পারি না। কিন্তু অনেক সংসারে অনেক স্বামী মুখে বলতে পারছে না, অথচ আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন আরেকজন স্ত্রী হলে ভালোই হত। এই ইচ্ছে বুঝে ফেললে স্বামী স্ত্রীতে কথা-কাটাকাটি, ঝগড়া অনেক সময় মারামারিও হয়। তবু এই স্বামী ছাড়া বাঁচবো না। এই সংসার ছাড়বো না। এমনটা চলতেই থাকে। কান্নাকাটি, হাহাকার আরো কত কি। ধীরে ধীরে সম্পর্কের অবনতি হয়। এই কি সংসার! সংসারে যদি স্বামী স্ত্রী দুজন দুজনের সুখ দুঃখের সাথী হতে না পারলো। একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে সুন্দর করে হাসি দিতে না পারলো। চোখে চোখে ভালোবাসার কথা বিনিময় না হলো, সেই সম্পর্কের নাম কি বিবাহ! নাকি অভিশাপ?

আমার মতামত, কিছু ব্যাপার আমাদের প্রকৃতির উপর ছেড়ে দিতেই হবে। সেই ব্যাপারটাই হচ্ছে, আমরা নারীরা কখনো দুই অথবা তিন স্বামী নিয়ে চলার চিন্তা করি না। যেটা পুরুষ করে। এখন যদি বলি তাহলে নারীরা একটু সহনশীল হয়ে পুরুষকে মানে আপনার স্বামীকে আরেকটি বিয়ে করার সুযোগ দিন, তাহলে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠবেন। কিন্তু একটু ভেবে দেখেন কথা কিন্তু ভুল বলিনি।

সমাজের উঁচু জায়গার মানুষ আনভীর আর ধর্মীয় নিতী নৈতিকতা নিয়ে চলা মামুনুল হক আজকে একই জায়গায় পতিত হয়েছেন। এবং সেই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে নারী। এখন কোন নারী তার স্বামীর মন বুঝে তাকে অন্য কোন নারীকে গ্রহণ করার সুযোগ দিবেন সেটা পরের কথা। তার আগে বলতে চাই বেশিরভাগ নারী হয়তো চাইবেন না এমনটা। তাতেই কিন্তু পরকিয়ার জন্ম, লুকিয়ে বিয়ে করার চিন্তা মাথায় আসে।

অথচ ব্যাপারটা মেনে না নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে এসে কিন্তু স্বামী স্ত্রী আলাদাও হওয়া যায়। অবশ্যই সেক্ষেত্রে সন্তানদের বিষয়ে অনেক মানবিক হতে হবে। যদিও বাবা মা আলাদা হয়ে যাওয়ার মধ্যে কোন মানবিকতা নেই। আবার একসাথে থেকে আরেকজন নারীকে গ্রহন করার মাধ্যমে সমাধানেও আসা যায়।

যাই হোক না কেন, একটা বিষয়ে তো একমত যে দুটোই নারী ঘটিত কাহিনী। যার সমাধান হাতের কাছেই আছে কিন্তু আমাদের ইগো, সমাজ কি বলবে সেই চিন্তা, তদুপরি এটা কেমন কথা যে, আমি নারী বলে দুটো তিনটি বিয়ে করতে পারব না। আর সে ছেলে বলে এই কাজ করবে। অনুমতি না দিলে পরকিয়া করবে! বোন, আপনি চাইলে দুটো তিনটি বিয়ে করতে পারবেন কিন্তু আপনিই করবেন না। কেন যেন আমাদের এসব চিন্তা আসে না। আবার একেবারেই যে আসে না তা কিন্তু না। আজকাল অনেক নারীই ২/৩ টি বিয়ে করছেন তবে এটা ঠিক একই সাথে দুটো স্বামীর ঘর কোন নারী করছেন না। বা করলেও হাতে গোনা অল্প কয়জন। লুকিয়ে চুরিয়ে। কারন হতে পারে একজন নারী তার সন্তানের মা বলে। আবার হতে পারে নারীর স্বভাবসুলভ আচরণের জন্য। অর্থাৎ নারী সব সময় একটি সংসার সাজিয়ে গুছিয়ে থাকতে অভ্যস্থ। দুটো সংসার সামলানো কঠিন। আর পুরুষ তো কেবল সংসারে আসা যাওয়া করে। বাকি অনেক কিছুর খবর না রাখলেও চলে। এখন হয়তো সন্তানের প্রসঙ্গে বলবেন, বাবার কি কোন দায়িত্ব নেই? বাবার দায়িত্ব থাকবে না কেন! কিন্তু বাবা যদি তার ইনকাম দিয়ে দুটো পরিবার এবং দুটো পরিবারের সন্তানের ভরনপোষণ বহন করতে পারে তাহলে তাকে সে সুযোগ দেয়া উচিৎ। তবে যে নারীর এসব ভালো লাগবে না তার নিশ্চয়ই অধিকার আছে দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় বিয়ে করা পুরুষদের থেকে আলাদা হওয়ার।

তবে এটাও সত্যি কোন নারী তার স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি দিলেও আজকাল খুব কম পুরুষ দুটো বিয়ে করতে রাজি হবে। প্রথমতঃ ইনকাম কম কিন্তু এক স্ত্রী নিয়ে আর ভালো লাগছে না। দ্বিতীয়তঃ সমাজ কি বলবে দুটো বিয়ে করলে। এসবকিছু মিলে আজকে মামুনুল হক আর আনভীরের দেখেন কি অবস্থা!

ভাইরে, দুই দিনের এই দুনিয়ায় মানসম্মানই যদি কামাতে না পারলাম। তাহলে আর দুনিয়াদারি করে লাভ কি! একটা ব্যাপার খেয়াল করেন, আপনি আপনার স্বামীকে অনেক ভালেবাসেন। স্বামী হবে অন্যের। টেরও পাবেন না। স্ত্রীকে জানপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন, সেও আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে প্রেমিকের হাত ধরে। সন্তান আপনার কলিজার টুকরা। মানিক রতন। আদরে আহলাদে বড় করছেন। দেখবেন কথা নেই বার্তা নেই হুট করে একদিন সন্তান পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে। কঠিন বাস্তবতা। এই ই হয় আসলে। এই ই হয়ে আসছে। একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কাউকেই জান জীবন দিয়ে ভালোবাসার কিছু নেই। যে যেখানে যেভাবে আছেন সৃষ্টিকর্তার সব কাজের উপর সন্তুষ্ট থেকে আলহামদুলিল্লাহ আমল করা উচিৎ।

আজকে আপনি মরে গেলে আপনার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করবে। অথবা স্বামী মরে গেলে স্ত্রী বিয়ে করবে। তখন ভালোবাসা কোথায় থাকবে! এসব সম্পর্ক শুধুমাত্র একটি পৃথিবী পরিচালনার জন্য। আর কিছুই নয়।

আজকে আপনি একজন বিধবা, ডিভোর্সি অথবা অসহায় যে কোন নারীকে আপনার সতিন হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। অথচ আপনি জানেনও না আপনার চোখের আড়ালে সে একাধিক নারীর সাথে মিলিত হয়। কারোটা প্রকাশ পায়। কারোটা পায় না।

প্রকাশ হলে একটা পরিবারের উপর কেয়ামত নেমে আসে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় নিষ্পাপ শিশুগুলো। অথচ আপনি আপনার স্বামীর পর নারী আসক্তি টের পেয়ে যদি তাকে বিয়ে করতে বলেন। দেখবেন সে জীবনেও বিয়ে করবে না। যারা করবে আমি মনে করি এটা ভালো। বিয়ে একটা বৈধ বিষয়। এখানে লুকোছাপা বা ধরপাকড়ের কোন ব্যাপার নেই।

লেখকঃ কলাম লেখক ও

আরও পড়ুন