মাসনা প্রসঙ্গঃ আমাদের বাড়াবাড়ি

মুতমাইন্নাহ মুনিরা

আমাদের বাঙ্গালি মুসলমানদের সব কিছুতেই বাড়াবাড়ি। আমাদের অনেক সাহস! আমরা নেতার এক ডাকে ময়দানে নেমে জীবন দিতে পারি! অথচ সত্যকে সত্য,মিথ্যাকে মিথ্যা বলার সৎ সাহসটুকুও অনেকসময় আমরা হারিয়ে ফেলি।

এতোদিন সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এখন সত্য যখন দিনের আলোর মত স্বচ্ছ হয়ে আমাদের সামনে এসেছে তখন একে কোরআন হাদিস দ্বারা জায়েজ প্রমাণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছি।

আমরা আলেমদের কে ইসলাম মনে করি।আলেমরা নবী রাসূলদের উত্তরসূরী কিন্তু নবী রাসূল নন।তারা ইসলাম নয়।ইসলাম হচ্ছে আল্লাহর কোরআন ও রাসূলের সুন্নাহ…..। যখন আপনি আলেমদেরকে ইসলাম মনে করবেন তখন তাদের দোষ দেখলে মনে হবে এটা ইসলামের দোষ,নাউজুবিল্লাহ!

চোখের সামনে গত দুইদিন যাবত দুইটা বিষয় নিয়ে খুব লেখালেখি দেখছি-

১) দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগেনা বা তাকে জানানো জরুরী নয়, ইসলামী শরিয়ার নিয়ম অনুযায়ী।

২) স্ত্রীকে সীমিত পরিসরে মিথ্যা বলা জায়েজ….!

প্রথমত, কেউ যদি প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে তার বিয়ে হয়ে যাবে, তবে হানাফি ও শাফেয়ী মাজহাবের মতে এটি মাকরূহ হবে। অন্যদিকে মালেকি ও হাম্বলি ফকিহদের মতে, ‘এলান’ জরুরি। ঘোষণা দেওয়া ছাড়া বিয়ে হবে না।

একাধিক বিয়ে করা ফরজ না।কোরআনে অনুমতি দিয়েছেন আল্লাহ।তবে সমতা রক্ষা করতে পারবেন না উল্লেখ করে এক স্ত্রীকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে বলেছেন।তাদের জন্য একাধিক বিয়েকে নিরুৎসাহিত করেছেন যারা সমতা রক্ষা করতে পারবে না।

রাসূল (সাঃ) নিজেও তো খাদিজা (রাঃ) এর জীবদ্দশায় কোনো বিয়ে করেননি। এর পর একসাথে একাধিক স্ত্রী ছিল।তবে প্রত্যেকটা বিয়েই করেছিলেন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে প্রয়োজন সাপেক্ষে।

আলী (রাঃ) এর দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে-

রাসূল (সাঃ) বলেন, বনু হিশাম ইবনু মুগীরা আলীর কাছে তাদের মেয়েকে বিবাহ দেবার জন্য আমার কাছে অনুমতি চেয়েছে। কিন্তু আমি অনুমতি দিব না, আমি অনুমতি দিব না, আমি অনুমতি দিব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আলী আমার কন্যাকে তালাক দেয় এবং এর পরেই সে তাদের মেয়েকে বিবাহ করতে পারে। কেননা ফাতেমা হচ্ছে আমার কলিজার টুকরা এবং সে যা ঘৃণা করে, আমিও তা ঘৃণা করি এবং তাকে যা কষ্ট দেয়, তা আমাকেও কষ্ট দেয়’ (বুখারী হা/৫২৩০; মুসলিম হা/২৪৪৯)।

দ্বিতীয়ত, যারা বলছেন,স্ত্রীকে সীমিত পরিসরে মিথ্যা বলা জায়েজ…..আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি তারা এই হাদিসের অপব্যবহার করছেন।
বরং শুধু স্বামী না প্রয়োজনে স্ত্রীরও স্বামীর কাছে মিথ্যা বলা জায়েজ আছে…।কখন?

সহিহ বুখারির সর্বজনগ্রাহ্য শরাহ ‘ফাতহুল বারি’। এই কিতাবে ‘সন্ধির অধ্যায়’র ‘باب ليس الكاذب الذي يصلح بين الناس’-পরিচ্ছেদে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. লিখেছেন:

একমত যে, স্বামী বা স্ত্রী একে অপরকে মিথ্যা বলা (জায়েজ) তখনই, যদি এই মিথ্যা বলার কারণে স্বামী বা স্ত্রীর কোন হক নষ্ট না হয়।’

শায়েখ সালেহ আল উসাইমিন রহ. তার লিখা ‘রিয়াদুস সালেহিন’র ব্যাখ্যা গ্রন্থে বউকে মিথ্যা বলার উদাহরণ দিতে গিয়ে লিখেছেন:

স্বামী – স্ত্রী একে অপরকে মিথ্যা বলতে পারে, যে মিথ্যায় প্রেম বাড়ে, মুহাব্বাত বাড়ে। যেমন, স্ত্রীকে বললেন: ‘তুমি অমূল্য’, ‘দুনিয়ার সকল নারীর চাইতে তোমাকে আমি বেশি ভালোবাসি’ ইত্যাদি।’ (১/১৭৯০)

স্বামী স্ত্রী একে অপরকে মিথ্যা বলার মানে হলো,যে মিথ্যায় কোন হক নষ্ট হওয়ার ব্যাপার নেই, যে মিথ্যায় ভালোবাসা বাড়ে।মানে সত্যকে একটু ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলা আরকি।

আর আরেকটা বিয়ে করার মত কাজ সেরে এসে আপনি নির্দিধায় স্ত্রীর কাছে মিথ্যা বলেই যাবেন,সেটাকে ইসলাম কখনোই সাপোর্ট করবে না।একেতো স্ত্রীর কাছে লুকোচ্ছেন বিয়ের কথা তার উপর যখনি মাসনার সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন স্ত্রীকে হয়ত মিথ্যা বলে যাচ্ছেন,,,,আপনি তাকে ধোকা দিচ্ছেন অনেক বড়।যেখানে স্ত্রীদের মাঝে লুকোচুরি থাকে সেখানে সমতা আসবে কোত্থেকে??? আপনি চার বিয়ে জায়েজ জায়েজ বলে চিল্লান অথচ কখন কি শর্তে তা জায়েজ সেটা স্পষ্ট মানেন না কেনো?

পবিত্র কুরআনে চারজন স্ত্রীর কথা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাথে সাথে এও বলে দেয়া হয়েছে যে, যদি তোমরা তাদের মধ্যে সমতা বিধান তথা ন্যায় বিচার করতে না পার, তাহলে এক স্ত্রীর উপরই নির্ভর কর। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, একাধিক বিয়ে ঠিক তখনই বৈধ হতে পারে, যখন শরীআত মোতাবেক সবার সাথে সমান আচরণ করা হবে; তাদের সবার অধিকার সমভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এ ব্যাপারে অপারগ হলে এক স্ত্রীর উপরই নির্ভর করতে হবে এবং এটাই ইসলামের নির্দেশ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক স্ত্রীর বেলায় সবার সাথে পরিপূর্ণ সমতার ব্যবহার করার ব্যাপারে বিশেষ তাকিদ দিয়েছেন এবং যারা এর খেলাফ করবে, তাদের জন্য কঠিন শাস্তির খবর দিয়েছেন। নিজের ব্যবহারিক জীবনেও তিনি এ ব্যাপারে সর্বোত্তম আদর্শ স্থাপন করে দেখিয়েছেন। এমনকি তিনি এমন বিষয়েও সমতাপূর্ণ আদর্শ স্থাপন করেছেন যে ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন ছিল না।

এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তির দুই স্ত্রী রয়েছে, সে যদি এদের মধ্যে ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ণ সমতা ও ইনসাফ করতে না পারে, তবে কিয়ামতের ময়দানে সে এমনভাবে উঠবে যে, তার শরীরের এক পার্শ্ব অবশ হয়ে থাকবে। [আবু দাউদঃ ২১৩৩, তিরমিযীঃ ১১৪১, ইবন মাজাহঃ ১৯৬৯, আহমাদঃ ২/৪৭১]

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“আর তোমরা যদি আশংকা কর যে, পিতৃহীনাদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিবাহ কর (স্বাধীন) নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশংকা কর যে, সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে (বিবাহ কর) অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত (ক্রীত অথবা যুদ্ধবন্দিনী) দাসীকে (স্ত্রীরূপে ব্যবহার কর)।এটাই তোমাদের পক্ষপাতিত্ব না করার অধিকতর নিকটবর্তী।” (সূরা আন নিসা-৩)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,

‘‘তোমরা যতই সাগ্রহে চেষ্টা কর না কেন, স্ত্রীদের মাঝে ন্যায়পরায়ণতা কখনই বজায় রাখতে পারবে না। তবে তোমরা কোন এক জনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না এবং অপরকে ঝোলানো অবস্থায় ছেড়ে দিও না।’’ (সূরা আন নিসাঃ ১২৯)

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, একাধিক বিবাহ করে স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা বজায় না রাখা বড়ই অনুচিত ও বিপজ্জনক ব্যাপার।

আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, ‘‘যে ব্যক্তির দু’টি স্ত্রী আছে, কিন্তু সে তন্মধ্যে একটির দিকে ঝুঁকে যায়, এরূপ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার অর্ধদেহ ধসা অবস্থায় উপস্থিত হবে।’’ (আহমাদ ২/৩৪৭, আসহাবে সুনান, হাকেম ২/১৮৬, ইবনে হিব্বান ৪১৯৪নং)

শোনেন, প্রয়োজন আর খাহেশাত এক না। অধিকাংশ বাঙ্গালি দ্বিতীয় বিয়ে করে খাহেশাত থেকে। প্রয়োজন নয়। যেইসব আপারা ব্যাপারগুলো খুব করে প্রচার করছেন,এখন হঠাৎ যদি জানতে পারেন,আপনার জামাই আরো কয়েক বছর আগেই দ্বিতীয় বিয়ে করে রাখছে । এতোদিন যে অফিসিয়াল ট্যুরে যাওয়ার কথা বলে বলে বাসার বাইরে বাইরে সময় কাটাতো তা আসলে সব মিথ্যা ছিল।দ্বিতীয় বউকে সময় দিতো তখন। আচ্ছা আপনার কেমন লাগবে তখন?!!!

অনেক কষ্ট নিয়ে আপনি জামাইর সাথে চিৎকার চেচামেচি করছেন,ঝগড়া হচ্ছে…আপনি বললেন,, আমাকে তুমি তিনটা বছর তাহলে এভাবেই জঘন্য মিথ্যা বলে আসছো? আপনার বুজুর্গ স্বামী আপনাকে উত্তর দিলো-স্ত্রীকে সীমিত পরিসরে মিথ্যা বলা জায়েজ আছে কেমন লাগবে তখন?

আজ একটা মিথ্যাকে ঢাকতে শরিয়াতের এই বিষয়গুলোর অপব্যবহার করে যখন সামনে নিয়ে আসলেন আপনারা, এখন দেখবেন….হুজুর শ্রেনী, সাধারণ মানুষ, রিক্সা ওয়ালা, কুলি মজুর থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর মানুষ এই কাজে উৎসাহিত হয়ে প্রথম স্ত্রীর আড়ালে বিয়ে করে ফতোয়া ঝাড়বে স্ত্রীকে মিথ্যা বলা জায়েজ!বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি লাগে না!

আর সব চেয়ে বড় কথা হলো,

বর্তমানে আমাদের সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ে হয় পরকীয়ার মাধ্যমে।প্রথমে স্ত্রীর আড়ালে অন্য বেগানা নারীর সাথে সম্পর্ক, তারপর এটাকে জায়েজ করতে ইজাব কবুল, সাক্ষী…..!হ্যাঁ বিয়ের পর আপনারা অনেক কিছুই বলতে পারেন,,,অসহায় নারীর দায়িত্ব নিয়েছেন, সুন্নাহ কাজ করেছেন,আল্লাহর বিধানকে মেনে নিতে হবে ব্ল্যা ব্ল্যা ব্ল্যা…।আচ্ছা শুরুতে যে কিছুদিন পরকীয়ার মত জঘন্য পাপ করলেন সেটাকে কি বলবো আমরা?
অল্প বয়সের অবুঝ কাজ নাকি বুঝের বয়সের ভীমরতি?!

শোনেন একটা গল্প বলি,
“এক জ্ঞানী লোক ছিল।ঘরে তার অল্প বয়সী যুবতী বউ আর ফুটফুটে এক দুধের শিশু।বউ সারাদিন কাজ টাজ করে, সন্তান সামলিয়ে স্বামী ঘরে আসার সময় হলে শাড়ি পড়ে সেজেগুজে বসে থাকতো।

ভাত যদি কোনোদিন ভুলে নরম হয়ে যেতো সে আবার নতুন করে ভাত রান্না করতো স্বামীর জন্য।পুরো স্বামী ভক্ত অবলা স্ত্রী যাকে বলে আরকি।
স্বামী সারাদিন ইলম অর্জনে বাহিরে ব্যস্ত থাকতো।হঠাৎ স্ত্রী জানতে পারলো তার স্বামী এই অল্প বয়সেই আরো এক বিয়ে করেছে।স্ত্রী অনেক বেশি কষ্ট পেলো….খোজখবর নিয়ে জানতে পারলো সেই মেয়ে তার নিজেরই এক পরিচিত বান্ধুবী।যার সাথে অনেক কথা হতো এক সময়,,,,ছবিও আদান প্রদান হতো ইনবক্সে।

অথচ কিভাবে কিভাবে সেই মেয়েই এখন তার সতীন।নিজের স্বামীর সাথে তার ফ্রেন্ডের সম্পর্ক ছিল তারপর তারা লুকিয়ে বিয়ে করেছে।
ব্যস, যখন জানাজানি হয়ে গেছে সব….এরপর অনেক কাহিনী…..এখন মাসনাই হয়ে গেছে একমাত্র বউ।মাসনার সংসারে রান্না,কাপড় ধোয়া থেকে টয়লেট ক্লিন , সব কাজ করে জামাই।তবুও কোনো অভিযোগ নেই

সনা এবং মাসনার পরিবার বড় বউকে তালাক দিতে বাধ্য করেছে অথচ তারা বিয়ের আগে থেকেই জানতো তাদের জামাই বিবাহিত, বাচ্চা আছে।
একসময় বড় বউ চেয়েছে মানিয়ে নিতে….কিন্তু ছোট বউ চায়নি,চায়না। এটা কেমন সমতা! অথচ দ্বীনের পূর্ণ জ্ঞান ছিল তার মধ্যে!”

এটা হচ্ছে আমাদের সমাজের গল্প,আমার জানা এক মাসনার গল্প।এখন সেই বড় বউ যার বয়স ২৫/২৬মাত্র,আর সাথে ফুটফুটে এক শিশু সন্তান….তার জায়গায় নিজেকে একটু কল্পনা করতে পারবেন? এখন আপনি হয়ত বলবেন,সব মেয়েরাই যদি এই মাইন্ড সেটআপ করে বসে থাকে তাহলে অসহায়,বিপদগ্রস্ত,বিধবা,ডিভোর্সি বোনগুলোর কি হবে?

আমার দিক থেকে আমি বলবো,আমার যদি সামর্থ থাকে আর আমার আশপাশে যদি এমন অসহায় কোনো বোন থাকে আমি তাকে সম্পূর্ণ খরচ দিয়ে কোনো ডিভোর্স হয়ে যাওয়া ভাই কিংবা যার স্ত্রী মারা গেছে এমন কোনো ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে বলবো,আমি একাধিক বিয়ের বিপক্ষে না।ইসলাম যাকে জায়েজ বলেছে তার বিপক্ষে বলার সাহস বা অধিকার আমার নেই। আমি শুধু বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

কোনো ভাইয়ের যদি নিজের উপর ১০০% বিশ্বাস থাকে,যে আপনার সব ধরনের সামর্থ্য আছে একাধিক বিয়ে করার ক্ষেত্রে।যদি ইনসাফ করার সম্পূর্ণ সক্ষমতা থাকে তাহলে আপনি নির্দ্বিধায় পর্যায়ক্রমে মাসনা…ছুলাছা….রুবায়া…নিয়ে আসতে পারেন ইনশাআল্লাহ। আপনার জন্যেই এই বিধান।

বি.দ্র. ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।

লেখক : লেখক ও ছাত্রী, জামেয়া কাসেমিয়া কামিল মাদ্রাসা

আরও পড়ুন