সম্পর্কের সূতো নিজেরাই

ইতি আক্তার

যেকোনো সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে হলে, সম্পর্ক জড়িয়ে থাকা দুটি ব্যক্তিরই সমান অবদান থাকে। সম্পর্কের ভীতটা মজবুত করার জন্য প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু কর্তব্য থাকে। একে অপরের অনুভূতিকে বুঝতে হবে। মতামতকে শ্রদ্ধা করে, বিপদে পাশে থেকে, অব্যক্ত কথা গুলো বুঝে নিয়ে, সর্বোপরি একে অপরকে সম্মান করে সম্পর্কের ভীত মজবুত করা যায়। আমাদের তরুণ সমাজে একটা বিষয় প্রায় পরিলক্ষিত হয়। তারা আবেগকে প্রধান্য দিয়ে অনেক বড় বড় সিদ্ধান্ত উপনীত হয়। কিন্তু দিন শেষে যখন বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে পারে ততক্ষণ সম্পর্কের ফাঁটল ধরে যায়। শুধু আবেগ নয় বিবেক দিয়ে, বাস্তবতাকে সামনে রেখে, একে উপরের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রেখে যেকোন সিদ্ধান্ত নিতো হবে।

দাম্পত্য জীবন দুই ধরনের হয়। অপরিচিত দাম্পত্য মানে পরিবারের পছন্দে দুজন অপরিচিত ব্যক্তি। পূর্বপরিচিত মানে বিবাহের আগে থেকেই একে অপরকে ভালভাবে জানা। অপরিচিত দাম্পত্য জীবনে তারা একে অপরকে চিনতে চিনতে জীবনের অনেকটা সময় ব্যয় করে দেয়। অনেক সময় চিনে উঠতেও পারে না। তাদের সম্পর্ক অনেক সময় টিকে থাকে পরিবারের উপর নির্ভর করে। নিজেদের পছন্দ অপছন্দের চেয়ে তারা বেশি নির্ভর করে পরিবারের উপর। আর পূর্বপরিচিত দাম্পত্য জীবনে তারা আগে থেকেই পরিচিত বিধায় তারা তাদের জীবনের শুরুটা করে আনন্দ উচ্ছ্বাসের ভিতরে। তবে সারাজীবন সে উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারে তাও কিন্তু না ।  এক্ষেত্রেও অনেক  বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে যায় ।

দাম্পত্য জীবন যেমন প্রকারেরই হোক না কেন কিন্তু একটা সময় আসে যখন তারা মানিয়ে নিতে চায় না। একে অন্যকে মেনে নিতে কষ্ট হয়। এর পরিপ্ক্ষিরেতে হয় বিবাহ বিচ্ছেদ। এই বিবাহ বিচ্ছেদ হুট করে আসে না। অনেকখানি পথ, অনেকটা প্রক্রিয়াকরণের পরই এমন একটা সিদ্ধান্ত দিন আসে। কোনো জিনিস স্বয়ংসম্পূর্ণ না তেমন কোনো মানুষও স্বয়ংসম্পূর্ণ না। আমরা যদি আমাদের জীবনসঙ্গীকে ভালোবেসে তার অপূর্ণতাকে কাছে টানতে পারি তখনই আমাদের সংসার পরিপূর্ণ হবে।” মানিয়ে নেয়া ” এ কথাটা সম্পর্ক রক্ষায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একে অপরের ভুল ত্রুটি, অক্ষমতা সব কিছুকে মানিয়ে নিতে হবে। একে অপরের ভাল লাগা মন্দ লাগাকে প্রাধান্য দিলেই জীবন সুন্দর হবে।একে অন্যের সহযোগী ভাবতে হবে। বিশ্বাস, ভালবাসা, দায়িত্ব সবটা মিলিয়েই সম্পর্কের সূতাটা মজবুত করতে হবে।

আরও পড়ুন