উসমানী শাসনামলে সোলেমানিয়া মসজিদ নির্মাণের মজার ইতিহাস

হাফিজুর রহমান

সুলতান সুলেইমান যখন মসজিদটি নির্মাণ করার জন্য সংকল্প করেন,তখন স্থপতি  মিমার সিনানকে দায়িত্ব দেন।মিমার সিনান বলেন,মাননীয় সুলতান! আমি এমন একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চাই,মানুষ তার ক্ষতি না করলে কেয়ামত পর্যন্ত তা ঠিকে থাকবে। যেই কথা সেই কাজ।মিমার সিনান কাজ শুরু করলেন।কিন্তু কয়েকমাস চলে গেল কাজ এগুচ্ছেনা।

উজিরে আলা একদিন কাজ পরিদর্শন করতে এসে দেখলেন,মিমার সিনান সাগরপাড়ে একটি নৌকায় বসে নৌকাটিকে ঝাঁকাচ্ছেন।একবার এদিকে যান তো আরেকবার ওদিকে যান।তিনি মিমার সিনানকে এ গাফিলতির কারণ জিজ্ঞাসা করলেন,কেন আপনি কাজ শুরু করছেন না?

কিন্তু মিমার সিনান কোনো উত্তর দিলেন না।উজির সুলতানের কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে অবহিত করেন।সুলতান সুলেইমান একদিন কাজ পরিদর্শন করতে এসে একই কান্ড দেখতে পান।তখন খুব রেগে গেলেন এবং মিমার সিনানকে কঠিন জবাবদিহি করলেন।জবাবে মিমার সিনান বললেন,সুলতান! আমি এমন একটি কাজ করতে চাই যা আগে কেউ করেনি। কাজটি করতে সময় লাগবে তাই আমাকে আমার মতো কাজ করতে দিলে যারপরনাই কৃতজ্ঞ থাকব। সুলতান তাকে অনেক বিশ্বাস করতেন।এরপর মিমার সিনান মসজিদটি নির্মাণ করেন।

আঠারো-উনিশ শতকে জাপান থেকে স্থপতিদের একদল প্রতিনিধি দল ইস্তামবুলে সফরে এসেছিলেন স্থাপত্যশিল্প নিয়ে গবেষণা করতে।এমন সময় এক বড় ভূমিকম্প হয় যাতে ইস্তামবুলের বড় বড় স্থাপনাগুলোর অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।কিন্ত তারা অবাক হয়ে যায় সোলেমানিয়া মসজিদ দেখে।ভূমিকম্পের সময় মসজিদ কমপ্লেক্সটি নাকি দুলতেছিল। একবার এদিকে যায় তো আরেকবার ওদিকে যায়। ঠিক সেই দুলতে থাকা নৌকার মতো।

এরপর জাপান এই মসজিদের নির্মাণ নিয়ে অনেকদিন গবেষণা করে জাপানে ভূমিকম্প প্রতিরোধে সোলেমানিয়া মসজিদের এই প্রযুক্তি ব্যাবহার শুরু করে।

মিমার সিনান মসজিদটি তৈরি করতে ফাউন্ডেশনের এমন এক প্রযুক্তি ব্যাবহার করেছেন যা ভূমিকম্প ও বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুলবে,কিন্তু ক্ষতি হবে না।

– একসময় মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে কতই সমৃদ্ধ ছিল!

উৎসঃ লেখকের “আমার দেখা তুরস্ক: বিশ্বব্যবস্থার নতুন শক্তি তুর্কি জাতির ভেতর-বাহির” বই থেকে
লেখকঃ- হাফিজুর রহমান তুরস্কের গাজী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করে এবং পরবর্তীতে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে  যোগদান করেন

 

আরও পড়ুন