ওসমানী সালতানাতের যতকথা (পর্ব-০৩)

জান্নাত খাতুন

বলকান অঞ্চলের ৫৩০ কিলোমিটার লম্বা পর্বতের সারিকে (Balkan Mountain Range) বা বলকান পর্বতমালা বলা হয়। বলকান পর্বতমালার নিচে চারিদিকে ত্রিভুজাকৃতি ভূমি রয়েছে। যার তিনটি দিকেই রয়েছে সাগর।যাকে Balkan Peninsula বলা হয়। ১৩৭০ সালে ওসমানীয়রা বলকান উপদ্বীপের থ্রেস থেকে গোলাম বা দাসদের একটি সেনাবাহিনী গঠন করা শুরু করলো। যা ৫০০ বছর যাবৎ ওসমানীয় সেনাবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও মর্যাদাশালী বিভাগ ছিলো। গোলামদের সেনাবাহিনী কীভাবে তৈরি করা হলো। ইতিহাসের এক বিস্ময়কর যুদ্ধ কোনটি ছিলো? যেখানে মাত্র ৮০০ জন সৈন্য ৫০ হাজার সৈন্যের দলকে পরাজিত করেছিলো। কীভাবে ৫০ হাজার সৈন্যের দলটি পরাজিত হলো? চলুন ওসমানী সালতানাতের যতকথা সিরিজের তৃতীয় পর্বে এ সম্পর্কে জানা যাক।

ওসমানী সালতানাতের শত্রু ইউরোপীয় খ্রিস্টান এবং বাইজেন্টিন সম্রাজ্যের কাছে সুশৃঙ্খল এবং দক্ষ বিশাল সেনাবাহিনী ছিলো। এর বিপরীতে ওসমানীয়দের কাছে শক্তি এবং মনোবল থাকলেও তাদের কাছে ছিলো না সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী যারা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত যুদ্ধে টিকে থাকবে। তাই ওসমানী সুলতান প্রথম মুরাদ এমন একটি বাহিনী গঠন করতে চাইলেন যা অত্যধিক প্রশিক্ষিত, প্রকৃত ঈমানদার, সুশৃঙ্খল, দক্ষ এবং সবচেয়ে বেশী সুলতানের প্রতি আনুগত্যশীল হবে। যা এক অভিজাত সেনাবাহিনী। সুলতান এরকম বাহিনী তুর্কী মুসলিমদের মধ্য থেকেও তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু সুলতান তুর্কী মুসলিমদের ওপর বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কারণ তুর্কী মুসলিমদের প্রথম আনুগত্য সালতানাত বা সাম্রাজ্যের প্রতি নয় বরং তাদের গোত্রের প্রতি। আর এই তুর্কীরা যে কোন সময় গোত্রের স্বার্থ বিবেচনায় সাম্রাজ্যের আনুগত্য পরিত্যাগ করতে পারতো। যা যু্দ্ধের ময়দানে ওসমানীয়দের ক্ষতি করতে পারতো। সুলতান চাইছিলেন এমন একটি বাহিনী গঠন করতে যা এসব থেকে মুক্ত থাকবে। যারা একান্তভাবে সুলতানের প্রতি আনুগত্যশীল হবে। তাই ১৩৭০ সাল নাগাদ সুলতান প্রথম মুরাদ থ্রেস অঞ্চলের খ্রিস্টান পরিবার থেকে খ্রিস্টান বালকদের নিয়ে একটি সেনাবাহিনী গঠনের কাজ শুরু করেন। থ্রেসের প্রতিটি খ্রিস্টান পরিবারের একটি করে বালক সুলতানের বাহিনীর জন্য দিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিলো। ৮ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সী ছেলেদের এই বাহিনীর জন্য নেওয়া হতো। তাদেরকে আনাতোলিয়ায় এনে ইসলাম গ্রহণ করানো হতো, ইসলামি রীতিনীতি শিখানো হতো, তুর্কী ভাষা এবং তুর্কী রীতিনীতিও শিখানো হতো। ৮ বছর যাবৎ প্রত্যেককে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এর মাধ্যমে এরা হয়ে উঠতো দক্ষ যোদ্ধা। তারপর তাদের বিভিন্ন বিষয় ও কাজের বিশেষজ্ঞ বানানো হতো। এদের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সবার চেয়ে বেশী ছিলো। এই সেনাবাহিনীকে জেনিসারি (Janissary) বলা হতো। যার অর্থ নতুন সেনাবাহিনী। জেনিসারিদের দক্ষতা এবং শৃঙ্খলা সবচেয়ে বেশী ছিলো। জেনিসারিদের যে কোন ভুলের নুন্যতম শাস্তি ছিলো মৃত্যুদণ্ড। জেনিসারিকে বলা হতো সুলতানের গোলামদের সেনাবাহিনী। কিন্তু এই গোলামদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ছিলো অন্য সবার চেয়ে বেশী।

জেনিসারিরা ওসমানী সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলো। যারা কনস্ট্যান্টিনোপল জয় করেছিলো। যারা অনেক সুলতানের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা নিয়েছিলো এবং যারা কয়েকশো বছর পর এক ঐতিহাসিক বিদ্রোহও করেছিলো। প্রথমে খ্রিস্টান পিতা মাতা খুব কষ্ট পেত এই ভেবে যে, তাদের ছেলেকে তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তারপর তাদের এই কষ্ট আর থাকতো না। কারণ তাদের ছেলে পেত এক সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং ওসমানী সালতানাতের প্রশাসনেও তারা বেশ সম্মান পেত। এরপর থেকে বাবা মা তাদের সন্তানদের খুশি মনে জেনিসারি বাহিনীতে দিতেন। সুলতান একটি অভিজাত বাহিনী তৈরি করেছিলেন। অন্যদিকে ওসমানী সালতানাতের সীমানা বৃদ্ধি অর্থ্যাৎ গাজা করেছিলেন। গাজা মানে হলো এমন যুদ্ধ যার ফলে অমুসলিম শাসনাধীন অঞ্চলগুলো ইসলামি শাসনের অধীন নিয়ে আসা। গাজা এবার হবে ইউরোপে। তাই ইউরোপে ওসমানী সালতানাতের রাজধানী প্রয়োজন ছিলো। যাতে সুলতান নিজের নেতৃত্বে যে কোন যুদ্ধের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করতে পারেন। তাই সুলতান প্রথম মুরাদ ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শহর এড্রিন (Edrine) জয় করেন এবং এড্রিনকে ওসমানী সালতানাতের নতুন রাজধানী বানান। সুলতান কখনো বুরসা কখনো এড্রিনে থাকতেন। সুলতানের অনুপস্থিতিতে এড্রিনে সুলতানের শিক্ষক লালা শাহীন পাশা গভর্নর হিসেবে এড্রিন শাসন করতেন যথাযথভাবে। তুর্কীরা তাদের শিক্ষককে সম্মান দেওয়ার জন্য লালা শব্দটি ব্যবহার করতো। সুলতান মুরাদ এড্রিন জয় করার ফলে ইউরোপীয় খ্রিস্টানরা তাদের রাজত্ব হারানোর ভয়ে থাকতো। বিশেষ করে সার্বিয়ার রাজা।

কারণ এড্রিন শহরের সীমানা ছিলো সার্বিয়ার সাথে। তাই ১৩৭১ সালে সার্বিয়ার রাজা ওসমানীয়দের ইউরোপ থেকে পুরোপুরি বিতাড়িত করার পরিকল্পনা করতে লাগলো। তখন সুলতান মুরাদ আনাতোলিয়ায় ছোট বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত ছিলেন। এড্রিনে লালা শাহীন পাশা ও ১০০০ সৈন্য ছিলো। সার্বিয়ার রাজা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৫০ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী তৈরি করলো যুদ্ধের জন্য। লালা শাহীন পাশা শুধু এড্রিনের গভর্নর ছিলো না তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সেনাপতি। তাঁর কাছে গোপন সংবাদ পৌঁছালো যে, সার্বিয়ানরা ওসমানীয়দের ওপর ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে হামলা করবে। যুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র পারমাণবিক বোমাও না, সৈন্য সংখ্যা না ।  যুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র শত্রুর গোপন তথ্য। যা গুপ্তচররা দিয়ে থাকে। লালা শাহীন পাশাকে গুপ্তচর জানালো যে, মারিটসা (Maritsa) নদীর তীরে এক আনন্দ অনুষ্ঠান করছে। তার পরদিন সার্বিয়ানরা এড্রিনে হামলা করবে। লালা শাহীন পাশা এই খবর পেয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে ৮০০ সৈন্য নিয়ে মারিটসা নদীর তীরে লুকিয়ে পড়েন। যখন সার্বিয়ান সৈন্যরা ঘুমন্ত ও নেশায় মত্ত তখন আচমকা লালা শাহীন পাশা সার্বিয়ানদের ওপর হামলা করেন। সার্বিয়ানদের শিবিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সার্বিয়ানদের গুপ্তচররাও জানতো না যে, ওসমানীয়রা সংখ্যায় হাজারেরও কম। তাই নেশায় মত্ত সার্বিয়ানরা যে যেখানে রাস্তা পেয়েছে সেখান দিয়ে পলায়ন করছিলো। সার্বিয়ানদের সামনে ছিলো মারিটসা নদী এবং পিছনে ছিলো ওসমানীয়রা। বাধ্য হয়ে সার্বিয়ানরা মারিটসা নদীর দিকে পালাতে লাগলো। কিন্তু পালাতে গিয়েও ওসমানীয়দের হাতে হাজারো সার্বিয়ান নিহত হয়। সার্বিয়ানদের রক্তে মারিটসা নদী লাল হয়ে যায়। ইতিহাসে এই যুদ্ধ “Battle Of Maritsa” নামে খ্যাত। মারিটসা যুদ্ধকে সার্বিয়ানদের পরাজয়ের যুদ্ধও বলা হয়। এই যুদ্ধটি ইতিহাসের সেই গুটিকয়েক যুদ্ধের অন্যতম যেখানে একটি ছোট সেনাদল বৃহৎ সেনাদলকে পরাজিত করেছে।

সার্বিয়ান যারা ওসমানীয়দের বিতাড়িত করতে এসেছিলো এখন তারাই তাদের সম্রাজ্য হারিয়ে ফেললো। সার্বিয়ান সম্রাজ্যের অনেক অঞ্চল স্বাধীন হয়ে গেল এবং সবাই ওসমানীয়দের জিজিয়া কর প্রদান করতে লাগলো। ইউরোপের বিশাল সাম্রাজ্য সার্বিয়ার ওসমানীয়দের হাতে পরাজয় ইউরোপের খ্রিস্টানদের জন্য মৃত্যুর পয়গাম ছিলো। কারণ ইউরোপীয় খ্রিস্টানরা স্পেনে মুসলমানদের ৮০০ বছরের সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য দেখেছিলো। যাকে তারা পুরো শক্তি দিয়েও মারিটসা যুদ্ধের সময় পর্যন্ত নির্মূল করতে পারেনি। স্পেনে গ্রানাডা সাম্রাজ্য মুসলমানদের সর্বশেষ সাম্রাজ্য ছিলো। একদিকে ইউরোপে মুসলিমদের সাম্রাজ্য শেষ হচ্ছিলো। অন্যদিকে ওসমানী সালতানাতের মাধ্যমে ইউরোপে মুসলিমদের নতুন সম্রাজ্য সৃষ্টি হচ্ছিলো। ওসমানী সাম্রাজ্যকে ধংস করার জন্য ইউরোপীয় খ্রিস্টানরা একত্রিত হয়ে গেল। পোপ সারা ইউরোপকে ওসমানী খিলাফাতের বিরুদ্ধে একত্রিত করছিলো। পোপের নেতৃত্বে নয়া ক্রুসেড শুরু হতে যাচ্ছিলো। এর আগে খ্রিস্টানরা বাইতুল মুকাদ্দাসের অধিকার নিয়ে ক্রুসেড করে। যেখানে মুসলিমরা সালাহুদ্দীন আইয়্যুবীর নেতৃত্বে বিজয়ী হয়। ইউরোপীয় খ্রিস্টানরা ওসমানীয়দের বিরুদ্ধে নয়া ক্রসেডের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে ওসমানীয়দের নিকট ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটা ছিলো জিহাদ। ওসমানী সালতানাতের সৈনিকরা দক্ষ যোদ্ধা ছিলো। অন্যদিকে ইউরোপীয়রা এতটা দক্ষ ও ঐক্যবদ্ধ ছিলো না। ইউরোপীয়দের একজন নেতার দরকার ছিলো। আর তা তারা সার্বিয়া থেকে পেয়ে গেল। সেই নেতা ছিলো সার্বিয়ান প্রিন্স লাজার (Prince Lazar)। ১৩৮০ সালে প্রিন্স লাজার ওসমানীয়দেরকে জিজিয়া কর দিতে অস্বীকার করে এবং ওসমানীয়দেরকে একটি ছোট যুদ্ধে পরাজিত করে।

১৩৮৭ সালে বসনিয়াও জিজিয়া কর দিতে অস্বীকার করে এবং বসনিয়ার রাজাও ওসমানীয়দের একটি ছোট যুদ্ধে পরাজিত করে। ওসমানীয়দের এই দুটি পরাজয় ইউরোপীয়দের মনোবল চাঙ্গা করে। ইউরোপীয়দের মনে হলো যে, তারা খুব সহজেই ওসমানীয়দের ইউরোপ থেকে বিতাড়িত করতে পারবে। প্রিন্স লাজারের তত্ত্বাবধানে ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের সেনাবাহিনী জমা হচ্ছিলো। যাতে পোপেরও সমর্থন ছিলো। পোপের বিশেষ বাহিনী নাইটের অনেক সদস্যও এই সেনাবাহিনীর অংশ ছিলো। প্রিন্স লাজার ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের নায়ক হয়ে উঠেছিলেন। প্রিন্স লাজারের নেতৃত্বে ১ লক্ষ সৈন্যের বিশাল সেনাবাহিনী ওসমানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হলো। ওসমানীয়রা ইউরোপীয়দের ব্যাপারে বেখবর ছিলো না। সুলতান মুরাদ আনাতোলিয়ায় ছেলে ইয়াকুবকে রেখে এড্রিন পৌঁছান। আজ যেখানে কসোভোর কেচনিক (Kacnaik) শহর আছে সেখানে সুলতান মুরাদ ৬০ হাজার সৈন্যসহ ইউরোপীয়দের মোকাবেলায় ছিলেন। ওসমানীয়দের জন্য এটি ভাগ্যনির্দেশক যুদ্ধ ছিলো। ইতিহাসে এই যুদ্ধ Battle of Kosovo নামে খ্যাত। যুদ্ধে সুলতানের ছেলে বায়োজিদ একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সুলতান জেনিসারিদের সুরক্ষিত ঘেরাও এর ভিতর। যুদ্ধের শুরুতে ইউরোপের খ্রিস্টানদের পাল্লা ভারী ছিলো। ইউরোপীয়রা ওসমানী সেনাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। তখন সুলতান মুরাদ এক দুঃসাহসী সিদ্বান্ত নেন। তিনি জেনিসারিদের যুদ্ধ করতে পাঠিয়ে নিজে নিরাপত্তাহীনভাবে রয়ে গেলেন। এর ফলে সুলতান মারা যেতে পারতেন। আর হলোও তাই। একজন নাইট সুলতানের নিকট পৌঁছে তাঁকে খঞ্জর দিয়ে আঘাত করে এবং সুলতান মুরাদ শহীদ হয়ে যান। সুলতান মুরাদ শহীদ হওয়ার পর ইউরোপের খ্রিস্টানদের নেতা প্রিন্স লাজারও নিহত হয়।

সুলতান মুরাদের ছেলে শাহজাদা বায়োজিদ ওসমানী সৈন্যদের নেতৃত্ব দিতে থাকেন এবং প্রিন্স লাজারের ছেলে ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। দু পক্ষেই জমছিলো লাশের পাহাড়। হঠাৎ এক অবাক করা কান্ড ঘটলো। খ্রিস্টানদের একটি বাহিনী পিছু হটতে শুরু করলো। এর ফলে বাকী খ্রিস্টান বাহিনীও পিছু হটে পালিয়ে গেল। কসোভোর যুদ্ধ ফলাফল হীনভাবে শেষ হয়। দু পক্ষই তাদের নেতাকে হারিয়ে হাজারো লাশ নিয়ে ফিরে গেল। কিন্তু বিজয় তো আল্লাহর হাতে। তাই কসোভার যুদ্ধ ওসমানীয়দের কৌশলগত বিজয়ে রুপান্তরিত হলো। কসোভো যুদ্ধ সার্বিয়ানদের শক্তি নিঃশেষ করে দেয়। সার্বিয়ানরা ওসমানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পরিবর্তে ওসমানীয়দের জিজিয়া কর দিয়ে তাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে থাকে। শুধু সার্বিয়াই নয় বলকান অঞ্চলের প্রায় সকল খ্রিস্টান সাম্রাজ্য ওসমানীয়দের আনুগত্য মেনে নেয় এবং জিজিয়া কর প্রদান করতে থাকে। জিজিয়া কর ছাড়াও ওসমানী সালতানাতকে তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী সৈন্যও সরবরাহ করতে থাকে। কসোভোর যুদ্ধে সুলতান প্রথম মুরাদ শহীদ হলেও সুলতান মুরাদ তাঁর উত্তরসূরিদের জন্য ১ লক্ষ বর্গমাইলের বিশাল সাম্রাজ্য রেখে যান। সুলতান মুরাদ একজন সফল শাসক ও বিজেতা ছিলেন, যিনি তাঁর বাবার সাম্রাজ্যের আয়তন ৩ গুণ বৃদ্ধি করেন। সুলতান মুরাদ মারা গেছেন এই তথ্য শাহজাদা বায়োজিদ এবং তাঁর সঙ্গীরা জানতেন। তাই বায়োজিদ এই খবর গোপন রাখেন এবং তাঁর ভাই শাহজাদা ইয়াকুবকে হত্যার জন্য দু জন বিশস্ত ব্যক্তিকে আনাতোলিয়া পাঠান। ঐ দুজন ব্যক্তি শাহজাদা ইয়াকুবকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এর ফলে বায়োজিদ হয়ে উঠেন ওসমানী সালতানাতের নতুন সুলতান। সুলতান প্রথম বায়োজিদ।

সুলতান হওয়ার পর বায়োজিদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ইউরোপীয় খ্রিস্টান ছিলো না। সুলতান বায়োজিদের প্রধান সমস্যা ছিলো আমির তৈমুর। যিনি তৈমুরি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ওসমানী সালতানাত যারা ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের থেকে কর নিতো তাদের কেন কর দিতে হলো? আমির তৈমুর কীভাবে ওসমানী সালতানাতকে তৈমুরি সালতানাতের আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করলো? ইনশাল্লাহ আমরা এ সম্পর্কে জানবো কিন্তু আগামী পর্বে।
(চলবে..)

তথ্যসূত্রঃ The Ottoman Empire – DSJ DSJ Maps
Encyclopedia Of Ottoman Empire, Page – 296
Ottoman Empire The War Machine – History Chanel
Encyclopedia Of Ottoman Empire,Page – 398
History Of The Ottoman Empire And Turkey by Stanford Shaw Page – 28
Encyclopedia Of Ottoman Empire, Page – 396

আগের পর্ব-ওসমানী সালতানাতের যতকথা (পর্ব-০২)

লেখক: তুরস্ক প্রবাসী লেখক ও  প্রাক্তন শিক্ষার্থী, আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়, তুরস্ক

আরও পড়ুন