ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসঃ প্রাচীন যুগের কথা 

এম আর রাসেল

ইংরেজি ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বলার কিছু নেই। এই ভাষা আপন মহিমায় বিশ্বজুড়ে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়েছে। এক সময়ের প্রতাপশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্য কালের গর্ভে হারিয়ে গেলেও তাদের ভাষা এখনও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। মাতৃভাষাভাষীর সংখ্যা বিচারে এই ভাষার  অবস্থান ৩য়। 

এই ভাষার শব্দভাণ্ডারে ৭০ শতাংশ বিদেশী উৎস থেকে এসেছে। বাকি ৩০ শতাংশের উৎস হল প্রাচীন ইংরেজি, অ্যাংলো-স্যাক্সোন ও জার্মানীয় যা খাঁটি ইংরেজি শব্দরূপে গণ্য করা হয়। এজন্যই ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস বা ইংরেজ জাতির ইতিহাস পড়তে গেলে এঙ্গেলস, স্যাক্সন এদের নাম আসবেই। চলুন আমরা চলে যাই কয়েক হাজার বছর পূর্বে। 

আদিম যুগের কথা আমরা সবাই জানি। এ যুগকে প্রাচীন প্রস্তর বা প্যালিওলিথিক যুগও বলা হয়। এ সময়ের মানুষেরা গুহা মানব নামে পরিচিত। নব্য প্রস্তর  বা নিওলিথিক যুগে ইউরোপের মূল-ভূখণ্ড থেকে কিছু মানুষ ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইংল্যান্ডে এসে বসতি স্থাপন করে৷ এরা গুহা মানবের চেয়ে কিছুটা সভ্য ছিল। 

এরপর ব্রোঞ্জ যুগে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী একদল নাবিক সোনা, তামা ও টিনের সন্ধানে ইংল্যান্ড এসে পৌছায়৷ এরা আইবেরিয়ান নামেও পরিচিত ছিল। এরা নব্য প্রস্তর যুগের অধিবাসীগণকে পরাজিত করে ইংল্যান্ডে বসতি স্থাপন করে। ইংল্যান্ডে সেসময় তামা,  টিন প্রভৃতি মূল্যবাদ ধাতুর মজুদ ছিল। গ্রীক ইতিহাস বেত্তা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জকে ‘টিনের দ্বীপপুঞ্জ’ বলে উল্লেখ করেছেন। 

তাম্রযুগের শেষ হলে এল লৌহ যুগ। কেল্টরা এই যুগ প্রবর্তন করেছিল বলে এই যুগকে কেল্টিক যুগও বলা হয়। শক্তি ও সাহসে এই জাতি ছিল অনন্য। খ্রিস্টপূর্ব ৫০০-৪০০ অব্দে এদের গল নামের একটি শাখা প্রথমে ফ্রান্স ও পরে ইংল্যান্ড অধিকার করে। কিছুদিনের মধ্যে কেল্টেরই অপর একটি শাখা সিমরিক ও ব্রাইথনরা গলদের পরাজিত করে। এই ব্রাইথন থেকেই ব্রিটেন নামটি এসেছে। ব্রিটনদের ব্যাপারে জুলিয়ার সিজারের ভাষ্য ছিল ‘ব্রিটনরা ছিল অন্ধ কুসংস্কারাচ্ছন্ন জাতি।’

খ্রিস্টপূর্ব ৫৫ সালে জুলিয়াস সিজার ইংল্যান্ড দখল করে। সেই সময়ের শক্তি ও দাপটে ক্ষমতাধর সাম্রাজ্য ছিল রোমান। রোমকরা ইংল্যান্ড দখল করে ব্রিটনদের দাস বানিয়ে রেখেছিল৷ রোমে গৃহযুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে গেলে ও বহিঃশত্রুর হাত থেকে নিজ দেশকে রক্ষা করতে রোমকরা ইংল্যান্ড থেকে চলে যায়। 

রোমকদের চলে যাওয়ার অন্যান্য দেশ থেকে জলদস্যু ইংল্যান্ডে হানা দিতে লাগল। উত্তর অঞ্চলে বসবাসকারী দুর্ধর্ষ এঙ্গেলস, স্যাক্সন ও জুট নামক জার্মান উপজাতি ব্রিটনদের পরাজিত করে ইংল্যান্ড দখল করে। এইসব উপজাতিরা বহু দেবদেবীতে বিশ্বাস করত। 

এদের এই দেবতাদের নামেই বর্তমানে প্রচলিত দিনের নামকরণ করা হয়েছে। যেমনঃ টুসইকো ছিল অন্ধকারের দেবতা সেখান থেকে টুইসডে, ওডেন ছিল যুদ্ধের দেবতা সেই নাম থেকে ওয়েডনেসডে, থর ছিল বজ্রের দেবতা সেই নাম থেকে থারসডে, ফ্রাইয়া ছিল সমৃদ্ধির দেবতা সেই নাম থেকে ফ্রাইডে। 

এঙ্গেলস, স্যাক্সন, জুটরা ব্রিটেনকে সাতটি রাজ্যে বিভক্ত করেছিল। কেল্ট, সাসেক্স, এসেক্স, ওয়েসেক্স, মার্সিয়া, পূর্বঅ্যাঙ্গোলিয়া এবং নর্দ্রাম্বিয়া। বর্তমানের ইংলিশ শব্দটি Angles থেকেই এসেছে। মাছ ধরার বড়শির ইংরেজি হচ্ছে Angles. সেই Angles এই পরবর্তিত হয়ে Engles থেকে English  এ স্থিত হয়েছে। 

ঐ সময় ৩ টি আঞ্চলিক ভাষা ছিলঃ ওয়েসেক্স, মার্সিয়া এবং নর্দ্রাম্বিয়ান। শেষ পর্যন্ত ওয়েসেক্স অন্য সব উপভাষার উপর প্রভাব বিস্তার করে। এই ভাষার লিখিত রূপ ছিল না। তবে এই ভাষাতে কিছু কাব্য কবিতা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল। স্যাক্সনরা ইংল্যান্ডে আসলে তাদের মুখের বিভিন্ন কাব্য কবিতাও এখানে চলে আসে। আর এমনই একটি কাব্য হল বিউলফ। 

ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন হল এই বিউলফ। কাব্যটি লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। লক্ষ্য করার বিষয় হল, ইংরেজি সাহিত্যের আদি নির্দশন আদৌ ইংরেজদের নয়। বিউলফ ছিল জার্মানদের পূর্ব পুরুষদের বীরত্বের কাহিনী। 

আরও পড়ুনঃ ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসঃ পোপের যুগ

লেখকঃ গবেষক ও কলামিস্ট

 

আরও পড়ুন