অগোছালো কিছু ভাবনা

অগোছালো কিছু ভাবনা…….

আলহামদুলিল্লাহ। আমি একজন নারী… এজন্য সৃষ্টিকর্তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

কবি বলেছেন:

“মনের মরমে ব্যথা প্রকাশিতে নারি,
কত পাপ ছিল তাই হয়েছিনু নারী।”

বেগম রোকেয়া বলেছেন,

“আমাদিগকে তাঁহারা হৃদয়-পিঞ্জরে আবদ্ধ করিয়া জ্ঞান-সূর্যালোক ও বিশুদ্ধ বায়ু হইতে বঞ্চিতা রাখিয়াছেন, তাহাতেই আমরা ক্রমশ মরিতেছি।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন,

“শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী
পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি।”

দেনা-পাওনা গল্পে তিঁনি বলেছেন,

“বাপ যদি পুরা দাম দিতো, তো মেয়ে পুরা যত্ন পাইতো।”

ভার্জিনিয়া উল্ফ এর মতে,

“নারী সম্ভবত মহাজগতের সবচেয়ে আলোচিত প্রাণী।”

হুমায়ুন আজাদ বলেছেন,

“পশ্চিমে নারীরা শোষিত, তবে মানুষ-পুরুষ দ্বারা শোষিত। আমাদের অঞ্চলে নারীরা শোষিত পশু-পুরুষ দ্বারা।”

Women’s day, mother’s day, daughter’s day……. দিবস হবার অপেক্ষমাণ তালিকায় আছে:

★ Sister’s day

★ Grandmother’s day

★ Mother-in-law day

★ Daughter-in-law day

★ Step mother’s day etc…etc…….

আর কতো? এতো নারীকেন্দ্রীক দিবসের প্রয়োজন কী? দিবসগুলো কি নারীর সম্মান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে?

নারীর নিরাপত্তায় বাংলাদেশের আইন:

★ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন

★ The Dowry Prohibition Act

★ পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরােধ ও সুরক্ষা) আইন

★ The Family Court’s Ordinance

★ The Muslim Family Law’s Ordinance

★ The Muslim Marriages & Divorces (Registration) Act

★ The Dissolution of Muslim Marriages Act

★ The Special Marriage Act

★ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন

★ The Christian Marriage Act

★ The Married Women’s Property Act

★ The Succession Act

★ পিতামাতার ভরণপােষণ আইন

★ The Child Marriage Restraint Act

etc…etc…….

নারী কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন,

সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’ করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে

…………….

জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান,
মাতা ভগ্নী ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।
কোন রণে কত খুন দিল নর লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।
কত মাতা দিল হৃদয় উপড়ি’ কত বোন দিল সেবা,
বীরের স্মৃতি-স্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?
কোনো কালে একা হয়নি ক’ জয়ী পুরুষের তরবারী,
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয় লক্ষ্মী নারী।

…………….

সে যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক’, নারীরা আছিল দাসী!
বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ আজি,
কেহ রহিবে না বন্দী কাহারও , উঠিছে ডঙ্কা বাজি’।
নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে
আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে!
যুগের ধর্ম এই-
পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই।

…………….

সেদিন সুদূর নয়-
যেদিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়!

“আজ খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখা; গ্রহ ভ’রে মানুষ আজ মত্ত পাশবিক আচরণে; মানুষ হনন করে চলছে মানুষ; মানুষ বন্দি আর পীড়ন করে চলছে মানুষকে।” – হুমায়ুন আজাদ

আসলে কেউ নিজের ইচ্ছায় পুরুষ কিংবা নারী হয়ে জন্ম নেয়না। যারা নারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছেন, তারাও পুরুষ, আবার নারীর নিরাপত্তার কথা ভেবে যাঁরা উদ্বিগ্ন তাঁরাও পুরুষ। নারীরা নারী এবং পুরুষেরা পুরুষ হবে, এটাই স্বাভাবিক। নারী-পুরুষের উর্ধ্বে উঠে আমাদের সকলের মানুষ হয়ে ওঠাটাই বেশি প্রয়োজন নয় কি?

ভুল-ত্রুটি মার্জনীয়।

লেখকঃ অধ্যাপিকা জোবায়দা সুলতান, আইন বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন