‘চোখের অন্তরালে নিরব অশ্রুপাত’ (পর্ব-১)

মেহেনাজ তাবাসসুম

‘বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না’-এমন অসংখ্য নারী জীবনের কাহিনি আমাদের অজানা। বিশ্ব এগিয়ে গেলেও অবলা নারীর বঞ্চনার ইতিহাস সেই চিরন্তন।মনের অন্তরীক্ষে কত অজস্র দুঃখের পুঁথিমালা সাজানো থাকে এক নারী জীবনে সে ইতিহাসের শেষ নেই।
নিরবে , নিভৃতে,সবার অন্তরালে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বোবা অশ্রুপাতে বিসর্জন দেয় যে নারী, বাহ্যিক দৃষ্টিতে সবসময় হয়তো আমরা তা দেখতে পাইনা।
তবু ক্যামেরার অন্তরালের কিছু কিছু ঘটনা মাঝে মাঝে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়-
আমরা শিহরিত হই, খুঁজে পাই ক্ষতস্থান, আমাদের অবস্থান, সামাজিক অন্ধকারের এক দানাবাঁধা রূপ-
তেমনি কতিপয় কিছু সত্য কাহিনি অবলম্বনে ধারাবাহিক রচনা-

প্রথম পর্ব

সাড়ে চার বছরের বাচ্চাটি কিছুক্ষণের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। বিস্ফোরিত চোখে জ্ঞান হারানো মৃতপ্রায় মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল অপলক।তারপর দম ফাটানো চিৎকার দিয়ে আঁচড়ে পড়লো মায়ের বুকে। মায়ের মুখ থেকে সাদা ফেনা বের হচ্ছে। অবুঝ শিশুটি মায়ের মাথা ধরে একবার ঝাঁকায় একবার পা ধরে। তবুও তো মা কথা বলে না।তারপর সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা পিতার কাছে গিয়ে তার জামা ধরে টানতে থাকে আর বলতে থাকে আম্মুকে মারলে কেন? কেন মারলে?

পশুবৃত্তির পাশাপাশি পিতার স্নেহ কোমল মনে সন্তানের প্রতি কিঞ্চিৎ ভালোবাসা বোধ হয় অবশিষ্ট ছিল। তাই স্ত্রীর মতো বাচ্চাটিকে আঘাত না করে নিরুত্তর কোলে তুলে নেয়। কিন্তু বাবার কোলে থাকার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা শিশুটির নেই। চরম ঘৃণায় জোর-জবরদস্তি করে কোল থেকে নেমে দৌড়ে যায় মেঝেতে পড়ে থাকা অজ্ঞান মায়ের কাছে।
একসময় মায়ের জ্ঞান ফেরে বটে।কিন্তু জ্ঞান হারানো রোগটা পাকাপোক্ত হয়ে শরীরে বসে যায়।
যখন স্বামীর কোনো অনৈতিক কাজে স্ত্রী বাঁধা দিয়েছে তখনই এমন অমানবিকভাবে অত্যাচারিত হতে হয়েছে তাকে। কিন্তু বাবা-মা কষ্ট পাবে। সন্তানের ভবিষ্যত কি হবে এমন চিন্তায় কাউকে জানাতে পারেনি কষ্টের কথা, নিজের জীবনের প্রতি মুহূর্তে দগ্ধ হওয়া এই যন্ত্রণার কথা….
(চলবে)

লেখকঃ সহ-সম্পাদক,মহীয়সী

আরও পড়ুন