নারীদের নামাজ

শরীফ হোসেন

হেডলাইন দেখে অনেকেই ধারণা করছেন আমি নামাজে নারীদের হাত বাঁধা বা নামাজের নিয়ম নিয়ে কথা বলতে এসেছি। বস্তত এই ধরনের ফালতু বিষয় আলোচনায় আমি আগ্রহী নয় এবং আমি নিজে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কখনো আলোচনায় উৎসাহ জোগায় না পক্ষান্তরে প্রচন্ড ঘৃণা করি। কারণ এটা ইসলামের কোন মৌলিক বিষয় নয়।

যাই হোক, মুল আলোচনায় আসি। রাসুল (সাঃ) এর সময় নারীরা নামাজে মসজিদে যেত। ফলশ্রুতিতে তারা সেখানে ইসলামের মৌলিক জ্ঞান সরাসরি অর্জন করতো । ঈদের নামাজ সংক্রান্ত বিষয়ে রাসুল ( সাঃ) বলেছেন, শারিরীক অপবিত্রতা থাকলে নামাজ পড়বেনা কিন্ত ঈদের জামাতে শরীক হবে কারণ এটা বাৎসরিক সম্মিলনি।

মসজিদে নববীতে নারীরা নিজের দুধের বাচ্চা নিয়েও নামাজে আসতো এবং নামাজরত অবস্থায় বাচ্চারা কান্নাকাটি করলে রাসুল (সাঃ) নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন বা করার নির্দেশও দিয়েছেন। নারীরা সমাজের অর্ধেক তাদের হাতে পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানটি থাকে। জাতির ভবিষ্যত সন্তানদের সে কোচ,ট্রেইনার, মেন্টর বা আধ্যাত্বিক গুরু যাই বলেন না কেন। এই মেন্টরদের ইসলাম শেখার উপায় কি? তারা ইসলাম না বুঝলে আপনার সন্তানরা ইসলাম বুঝবে কেমনে???????

আমাদের আলেমরা বড় বড় ইসলামী সম্মেলনে নারীদের দয়া করে যেতে দিলেও সেখানে বক্তাকে দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন । (বক্তব্য শোনার জন্য টিভি দিয়ে একটি আবদ্ধ স্থানে বসিয়ে দেওয়া হয়) এটা কোন হাদীস বলে করেন তার কোন ব্যাখ্যা নেই। কিন্ত লক্ষ্য করেছেন হজ্বে শুধু একসাথে নয় সেখানে নেকাব থাকে না, তাহলে ?এত মহা পবিত্র স্থানেও নারীরা এমনভাবে থাকলে অন্যত্র কি সমস্যা আমার জানা নেই। আমাদের দেশে মসজিদে নারীদের প্রবেশের সুযোগ নেই। ইদানিং কিছু মার্কেটের মসজিদে নারীদের নামাজের জায়গা করে দিচ্ছে যা কিনা আলেমদের উৎসাহে নয় এখানকার ব্যক্তি উদ্যোগে। নারীরা মসজিদে গেলে তারা সরাসরি ইসলামে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এতে তারা সেই জ্ঞান দ্বারা পরিবার বা সন্তানদের আলোকিত করতে পারে। খেলাফত পরবর্তী সময়ে নারীরা নারীদের মধ্যে দ্বীন প্রচারে কাজ করতো সেটা কিছুটা হলেও স্বস্তির ছিল। তার পর ক্রমান্বয়ে নারীরা এটা হতে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হতে থেকেছে।

আমাদের দেশে স্যটেলাইট চ্যানেলের বদৌলতে নারীরা ২০০০ সনের পর পুনরায় ইসলাম সম্পর্কে জানার এক অপূর্ব সুযোগ হয়েছিল। নারীদের আগ্রহের কারণে এসব অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা হয়েছিল আকাশচুম্বি। বাধ্য হয়ে বাম ধারার চ্যানেল কিছু মাজার পুজারি বদমাশকে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ব্যপক চেষ্টা করেছিল। এই চাহিদা বা মনের আকুতি, সমাজ পরিবর্তনের ধারা  কিছু সুশীল নাট্য ও টিভি ব্যক্তিত্বের নিকট ভালো লাগেনি। তারা সরকারকে প্ররোচনা ও ভারতীয় চাপের মাধ্যমে হাস্যকর অজুহাতে সেসব প্রোগ্রামকে শুধু বন্ধ করেনি এদের অনেককে দেশছাড়া করেছে।

আমার বক্তব্য আলেম সমাজ, আপনি জাতিকে ইসলামী করবেন এর মেন্টরকে অজ্ঞ রেখে তা কি সম্ভব??? আর বিপরীত স্রোত তো রয়েছেই। স্টার প্লাস, জি বাংলা এসব মেন্টরের মেন্টর হিসেবে তাদের প্রশিক্ষিত করছে। নারীরা এখন ৮০ ভাগ তাতে আক্রান্ত। তবে মজার ব্যাপার স্টার প্লাজ, জি বাংলার কারনে সামাজিক অনাচার, পারিবারিক বিগ্রহ বাড়লেও বুদ্ধিজীবিরা নিদারুন নিশ্চুপ। ব্যপারটা হাইকোর্টে পর্যন্ত গড়িয়েছে কিন্ত কাজ হয়নি।

সুতরাং প্রিয় আলেম ও মসজিদ কেন্দ্রীক উদ্যোক্তারা অনুগ্রহ করে সমাজের অর্ধেক এই নারীদের জানার পরিসীমা বাড়াতে অন্তঃত প্রতি শুক্রবারে তাদের মসজিদে আসার সুযোগ দিন। ইসলামী প্রোগ্রামে তাদের গমন সহজ করুন।

লেখকঃ কলাম লেখক

আরও পড়ুন