“নারীরাও মানুষ” এই কথাটা বলার অধিকার আপনাদেরকে কে দিয়েছে?

রওশন চৌধুরী

যখন কেউ নিজেকে মানবিক হিসেবে জাহির করতে গিয়ে বলেন, নারীদেরকেও মানুষ ভাবতে হবে। আমি এমন মন্তব্যকারীদের উদ্দেশ্যে সবিনয়ে বলতে চাই। ভাই, বোন ও বন্ধু আপনাদেরকে এমন দয়া দেখানোটা থেকে বিরত থাকতে আমি অনুরোধ করছি। আপনারা সত্যিকারের মানুষ হলে পারবেন কি স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাকে জিজ্ঞেস করতে তিনি কি আপনাদেরকে এমন অনুমতি দিয়েছেন যে, আপনারা তার সৃষ্টির সবচেয়ে মূল্যবান একটি অংশকে আপনাদের মুখে মানুষ বলে স্বীকৃতি দেবার?

আমিতো মনে করি পুরুষরাও মানুষ বলে আমাদেরই স্বীকৃতি দেয়া উচিত মাঝে মধ্যে কাউকে কাউকে। তানাহলে মোটেও না। তবে সেটা আমরা মহিলারা করবো না কারণ, আমরা আল্লাহর কোন সৃষ্টিকে স্বীকৃতি দেবার মতো ঔদ্ধত্যতা দেখাতে পারি না। অন্যদিকে আপনাদের মুখ থেকে নারীরাও মানুষ এই স্বীকৃতি মোটেও চাই না। বরঞ্চ স্বীকার করুন মানব জাতির মধ্যে শ্রেষ্ট সৃষ্টি এবং সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হচ্ছেন নারী জাতি। তা না হলে আপনাদের মতো পুরুষেরা এই পৃথিবীতে আসতে পারবেন না। পারবেন না পৃথিবীতে জন্মালেও ঐ নারী জাতিরই দয়া ছাড়া আপনারা বাঁচতে , হাঁটতে শেখতে, মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে, সামাজিক জীব বলে গণ্য হতে, পরবর্তীতে যা যা হবার তাই হতে মানুষ হিসেবে। তবে আপনাদেরকে ধর্ষক হিসেবে কোণ মহিলা বা মা তৈরি করেন নি, করেছে আপনাদেরকে যারা সিড়ি করে উপরের তলায় উঠছে তারা, হ্যা অবশ্য সেখানে কোন স্বার্থান্বেষী মহিলারুপী ডাইনির ভুমিকা থাকতেও পারে, তবে তাকে আমরা মানব নারী বা কোন মানবী বলে গণ্য করিনা।

কিন্তু একবার আপনারা নিজেকে প্রশ্ন করেন একজন পুরুষ কিন্তু কখনও একা চলতে পারেন না, এই জাতি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কোন না কোন একজন নারীর উপর নির্ভর করে চলতে হয়। প্রশ্ন করে দেখেন নিজের বিবেককে কে আগে মানুষ, তারপর আপনি? অথচ দেখেন একজন নারী কিন্তু সম্পূর্ণ একা চলতে পারে। একজন নারী বিধবা হলে কিন্তু তিনি একটি সন্তানের জন্যেই তার জীবনের সব কিছু ভুলে ঐ সন্তানকে নিয়েই থাকেন। কিন্তু একজন পুরুষ কখনও তা পারেন না। স্ত্রী বিয়োগের চল্লিশ দিনও অতিবাহীত হয় না তিনি বিয়ে করে আরেকজন মহিলার উপরই নির্ভর করেন। অথচ একজন নারী সেই নির্ভরতার তোয়াক্কা করেন না।

তাহলে বিবেককে জবাব দিতে বলেন, কে মানুষ, এমনকি মহামানুষ!! আর সেই নারীকে আপনারা তুচ্ছ করে নিজেকে প্রধান মর্যাদা দেন ! করুণা হয় আপনাদের জন্যে। বড় করুনা করতে মন চায়। আমি বলব, একজন মহিলাকে আপনারা একা চলতে দিন, তার চলার পথে আপনারা বাঁধা হয়ে দাড়াবেন না, তার নিরাপদ পথ চলতে আপনারা হায়েনার পরিচয়টা দেবেন না, তার দিনের কাজ, বা রাতে চলার পথে আপনাদের পশুত্বকে জাগ্রত করে তাকে অন্ধ গলিতে নিয়ে যাবেন না। দেখবেন আপনারাও মানুষ বলে আমরা নারীরাও আপনাদেরকে সম্মান জানাব। আর তখনই দেখবেন পৃথিবীটা স্বর্গ সুখে সুখি হয়েছে। থাকবেনা কোন রেষারেষি, কোন হিংসা, হিংস্রতা, না কোন ভেদাভেদ, কোন পশুত্ব কিংবা শ্রেণী বৈশম্য। “জগতের সকল প্রাণী সুখি হোক, সকল নারী নিরাপদ হোক, সকল পুরুষ মনুষ্যত্ব ফিরে পাক, আর নারীরাও মানুষ এই কথা বলার ঔদ্ধত্যতা না দেখিয়ে আপনারা মানুষের পথ অনুসরণ করুন।” এই অনুরোধে সমস্ত বিশ্বের নারীদের পক্ষে আমি রওশন চৌধুরী।

লেখকঃ সাহিত্যিক ও কলামিস্ট, ইউ এস এ

 

আরও পড়ুন