নারীর কর্মক্ষেত্র

সুমেরা জামান

নারীকে চাকরী দিবো কিন্তু সে মা হতে পারবে না!!! মা হবে এটা মেনে নিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি দিলেও সন্তান সাথে আনা যাবে না। এমন একটা পরিবেশ সব কর্মক্ষেত্রে বিরাজ করছে। কিন্তু কোন নারী তা স্পষ্ট করে, চিৎকার করে বলতে পারছে না। যদি চাকুরি খানা চলে যায়।

কর্ম ক্ষেত্রে রাষ্ট্র নারী নিয়োগ দিলে সে একদিন মা হবে এটা কি তার অজানা?

নারী যদি মা হয় তবে তার সন্তানকে কে দেখবে যদি কর্মক্ষেত্র সন্তান-বান্ধব না হয়!

নারী ডাক্তার হলে চিকিৎসা নিবেন,নার্স হলে সেবা নিবেন, শিক্ষক হলে শিক্ষা নিবেন,
পাইলট হলে বিমান চালায়ে নিবেন, ব্যাংকার হলে টাকার হিসাব কষাবেন; শুধু নিবেন না তার সন্তানকে!!!

আমার চাকুরির সময় আনুশার বয়স দেড় বছর ছিল। প্রথম যেদিন স্কুলে নিয়ে গেলাম প্রধান শিক্ষক বলল সভাপতি ভীষণ করা। বাচ্চা আনলে সমস্যা হবে।

আমি স্ট্রেট জানিয়ে দিয়েছিলাম, আনুশা প্রথমে এ দেশের নাগরিক তারপর একজন শিক্ষকের সন্তান। এ রাষ্ট্রে খাদ্য ওর মৌলিক অধিকার। পৃথিবীর কোন সভাপতির ক্ষমতা নেই সেই অধিকার হরণ করার। সুতরাং বাচ্চা আমার সাথে থাকবে।

ব্যাস। স্কুলে ১০ জন শিক্ষক প্রথম দিন আমার জবাবে বহুদিন পর শ্বাস নিয়েছিল। জানি না কেন, তবে পরে আর কোন সমস্যা হয়নি।

সবার জেগে ওঠা দরকার। জানতে চাওয়া দরকার বাচ্চাটা থাকবে কোথায়!
রাষ্ট্র কেন তার নাগরিকের দ্বায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে!

মাতৃত্বকে অবজ্ঞা করবেন না তাহলে নিজের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

যেখানে ভিনদেশী নারীরা সন্তান কাঁধে নিয়ে সংসদে। সেখানে আমাদের কর্মস্থলে সন্তান কাঁধে থাকলে নাকি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

রাষ্ট্রের উচিত অনতিবিলম্বে সব প্রতিষ্ঠানে নারীর সন্তানের জন্য উদ্যেগ গ্রহন করা।

বুয়ার কাছে আলমারির চাবি রাখতে পারব না অথচ নিজের সন্তানকে রাখতে বাধ্য হচ্ছি আমরা সকল নারী।

লেখকঃ সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

 

আরও পড়ুন