নারীর বিজয়

মানছুরা আক্তার

“শহীদের রক্ত” আর নারীদের “সম্ভ্রম”  এইভাবে যখন উল্লেখ করা হয়, তখন আত্মত্যাগের এই লিঙ্গভিত্তিক শ্রেণীবিভক্ত শব্দচয়ণ একধরনের পুরুষতান্ত্রিকতার প্রকাশ ঘটায় বলে বোধ হয়। শহীদ পুরুষদেরকে গুলি করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, জবাই করে কিম্বা ভিন্নতর যন্ত্রণাদায়ক উপায়ে হত্যা করা হয়েছে। শহীদ নারীদেরকে এইসব যন্ত্রণার পাশাপাশি বিভৎস নিষ্ঠুর যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের জীবিত বন্দী পুরুষেরা অংগহানীর শিকার হয়েছেন, আর জীবিত নারী বন্দীরাও তাই।

নারীদের প্রতি নির্যাতনের প্রকৃতি ছিলো যৌন। যেহেতু নারীর পুরো শরীরকেই যৌন অংগ বলে “খাদক” পুরুষেরা ভেবে থাকেন, তাই তারা খুবলে নিয়েছে সেইসব নারীদের শরীরের অংগপ্রত্যংগ। ফিরে আসা নারীদের ডাক্তারি পরীক্ষায় উঠে এসেছিলো বহু বিকৃত যৌনাচারের ইতিহাস। সেইসব যৌন অত্যাচার এই নারীদেরকে অসীম অশেষ শারীরিক যন্ত্রণা ও ক্ষত দিয়েছিলো। “সম্ভ্রমহানি” সেই সব যন্ত্রণার তুলনায় অতি লঘু শব্দ।
তাছাড়া যতো বীরাঙ্গনা এইসব অত্যাচারের শিকার হয়ে নিজের ব্যথা জরজর দেহখানি দিয়ে এদেশের স্বাধীনতার সিঁড়িতে একধাপ করে ইট দান করলেন, তাদের সম্ভ্রম এই মাটিতে আরো বেড়ে গেলো, তাদের মাথাগুলো আরো সম্ভ্রান্ত হয়ে উঁচু হয়ে উঠলো। কে বলে যে তার “সম্ভ্রমহানি” হলো!
নারীর সম্ভ্রম যুগে যুগে তার যৌনাঙ্গের সীমানা ছাড়িয়ে যাক, নারীর সম্ভ্রম তার নারীত্বের সীমানা পেরিয়ে মানবিকরুপে উদ্ভাসিত হোক, তবেই হবে নারীর বিজয়।

লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, মেরিটাইম ল’ এন্ড পলিসি বিভাগ, বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি। বর্তমানে শিক্ষাছুটিতে। পিএইচডি গবেষক, আইএইচই ডেলফট, নেদারল্যান্ডস।

আরও পড়ুন