নারীর শত্রু কেন নারী??

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ

পুরুষরা নারীদের নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও অপমান করেন। অধিকার বঞ্চিত করেন। সেইজন্যই ফেমিনিস্ট আন্দোলন। নারীবাদীরা সেসব নিয়ে সোচ্চার।

কিন্ত নারী যখন নারীর শত্রু,নারী যখন নারীকে তার বাহ্যিক সৌন্দর্য্য নিয়ে কটাক্ষ করেন,হেয় প্রতিপন্ন করেন, তখন এক অদ্ভুত আধাঁর নেমে আসে।

একজন নারী যদি তার কর্ম দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে তার কাজের জায়গায় এগিয়ে যান,তখন পিছন থেকে অন্য কলিগদের সাথে রসালো আলোচনা যখন একজন নারীই শুরু করন স্রেফ পরশ্রীকাতরতাও নিজের অযোগ্যতা ঢাকতে, তখন সেই আচরণ কি মেনে নেওয়া যায়?

“যেমন, বুঝি বুঝি।স্যারের রুমে গিয়ে রুপ দিয়ে ঘায়েল করেই তো প্রমোশন ভাগিয়ে নিয়েছে।
সব বুঝি আমরা।”

একজন নারী যখন আরেকজন নারীকে তার সাথে যোগ্যতায় পেরে না উঠে এভাবেই তাকে টেনে ধরতে চান,তখন সেই নারীর ভেতরের তীব্র বিদঘুটে অন্ধকার কি ছড়িয়ে পড়ে না?

একজন নারী যখন মজার ছলে তার পুরুষ বন্ধুকে একজন আফ্রিকান নারীর ছবিসহ পোস্ট দিয়ে বলেন,এই নে তোর গার্লফ্রেন্ড খুঁজে পাইছি।
সেখানে মজা করতে যেয়ে সেই স্টুপিড নারী যে বর্ণবাদ লালন করেন এবং একজন নারী হয়ে অন্য একজন নারীকে শুধুমাত্র তার গায়ের রং কালো বলে যার তার সাথে জড়িয়ে সেই নারীকে অপমান করেন, তখন সেই আচরণ কে কিভাবে মূল্যায়ন করবে নারীবাদী এক্টিভিস্টরা তা আমার জানতে মন চায়।

একজন নারী স্বাস্থবতী।পিছনে সেই নারীকে ভোটকি, মোটকী,ড্রাম, বস্তা বলে যখন একজন নারীই কটাক্ষ করেন,রসালো আলাপ করেন,এবং নারীরা যখন তাতে হাস্যরস করেন, তখন নারীরা আসলে কতটুকুন এগিয়ে যান?

একজন পুরুষ বা নারী কারোই অন্যের চেহারা নিয়ে মজা করার, তামাশা করার অধিকার নেই।
সভ্য,বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ কখনো চেহারা,স্বাস্থ্য, দৈহিক গঠন দিয়ে কাউকে মূল্যায়ন করেন না।

অন্যকে সম্মান করতে না পারলে আপনি নিজে সম্মানিত হবেন না।

চারপাশে তাকালে দেখা যায়,পুরুষরা যতটা নারীদের অগ্রযাত্রা রোধ করতে চায়,তার চেয়ে নারীই নারীর অগ্রগতি ও উন্নতির যাত্রায় পথে পথে বেশি কাঁটা বিছিয়ে দেয়।

নারী জাগরণ মানে যৌনতা ও উগ্রতার জাগরণ নয়।
চিন্তায়, আচরণে,কর্মে, দায়িত্ববোধে জাগরণ।
বিবেচনা ও মূল্যায়ন করার শক্তির জাগরণ।

একজন নারী অন্য নারীর প্রতি সমব্যাথী হতে না পারলে প্রকৃত নারী জাগরণ ও নারী মুক্তি সম্ভব নয় বলেই আমার মত।।

লেখক : সাহিত্যিক, কলামিস্ট ও ডাক্তার

আরও পড়ুন