নারী ও তার ব্যক্তিত্ব

ফারহানা শরমীন জেনী

৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসকে ঘিরে  সারাদিন বহু আয়োজন বহু আলোচনা বহু উৎসব কর্মশালা। কিন্তু তাতে কি? নারীর অবস্থান একটুও কি বেড়েছে? আজও আমরা সবচেয়ে সুন্দর একটি হাদিস মানতে পারিনি অন্তর থেকে তা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনটি নেয়ামত আল্লাহ তার বান্দাকে দান করেন ১) কন্যা সন্তান ২)মেহমান ৩) বৃষ্টি। প্রকৃতপক্ষে আমরা কি এখনও কন্যা সন্তান মন খুলে মেনে নিতে পারি, পারিনা।আর পারি না বলেই আজ আমরা এখনও আন্দোলন করি অধিকার আদায়ের। সেই আন্দোলন শুধু রাজপথে নয় শুরু হয় ঘর থেকে।
গার্ল গাইডস আয়োজিত একটি ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন মাননীয় এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি)রাজশাহী জেলা,তার গাইডারদের উদ্দেশ্যে একটি বক্তব্য দেন সেখানে একটা কথা ভিষণ ভালো লেগেছে আমার। তিনি বলেছেন নারীদের প্রতিবাদ শিখতে হবে কারণ নারীরা তার সবচেয়ে আপন তিনজন পুরুষ দ্বারা অধিকার বঞ্চিত হয়ে থাকে, প্রথমতঃ স্বামী দ্বারা দেনমোহর সঠিক পরিশোধ না করে, দ্বিতীয়তঃ তার ভাই এবং তৃতীয়তঃ তার পিতা থেকে কারণ আমাদের সমাজে ভাই ও পিতা একজন নারীকে তার সঠিক হক থেকে বঞ্চিত করেন।আমি এডিসি মহোদয়ের বক্তব্য শুনে সত্যি তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা পোষণ করি।আসলে আমরা ঘর থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে কেন সেই ১৯০৮ সালে নারীদের ন্যায্য মজুরী থেকে বঞ্চিত করা হবে না?তখনও মানুষ এত সভ্য হয়নি।
আর আজকে ডঃ শরমিন ফেরদৌস, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা জেলা অফিসের উপ-পরিচালক, রাজশাহী জেলা,মহোদয়ের একটি বক্তব্য আমাকে মারাত্মকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।তিনি বলেছেন,
পড়,পড়,পড় অর্থাৎ শিক্ষার মাধ্যমে অবস্থান তৈরি করো। চিৎকার করে কখনো নারীর অধিকার আদায় হয়না।অধিকার আদায় করতে হলে শক্ত পার্সোনালিটি তৈরী করতে হয়।এই পার্সোনালিটি নারীকে সবল করবে, এই পার্সোনালিটি হবে তার সাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ।
আসলে কুরআন আমাদের গাইড লাইন।কুরআন শরীফের একটি সূরা তৈরি হয়েছে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন নিসা।কিন্তু আমরা মানছি কয়জন? শিখছি কয়জন?
আমার বাসার গৃহপরিচারিকাকে, আমার বাসার পুত্রবধূকে যতক্ষণ আমি সম্মানের দৃষ্টিতে না দেখতে পারবো, তার প্রতি পদে পদে দোষ ধরা বন্ধ করতে না পারবো ততক্ষণ কি এই দিবসের মর্যাদা রক্ষা হবে?
লেখকঃ সাহিত্যিক ও সহ-সম্পাদক, মহীয়সী 
আরও পড়ুন