মাতৃত্বকালীন বিষন্নতা (পর্ব-২)

ডাঃ শারমিন সুলতানা

তমা ৭ মাসের প্রেগনেন্ট। ইদানিং কিছুই ভালো লাগে না তার। কোথায় গেলে যে একটু শান্তি পাবে বুঝতে পারছে না সে।
টেলিভিশনের তার কেটে দিয়েছিল গতদিন। সেই চিন্তা সারাক্ষণ ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়।……

আজ অ্যারাবিক ল্যাংগুয়েজ ক্লাস ছিল তমার। ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে দেখে ননদ ইরা চলে গেছে বাসায়। তার চিন্তা আরো বেড়ে গেল।
রানা বাসায় এসে কোনো কথা বললো না। এভাবে ৩ দিন কেটে গেল।তমার অস্থির লাগছে।ভাবছে বাবার বাসায় চলে যাবে। ৩দিন পর রানা স্বাভাবিকভাবেই তমার সাথে আচরণ করতে লাগলো। একসাথে খাওয়া দাওয়া করল তারা। খাওয়া শেষ করে টেলিভিশন অন করতে যাচ্ছে রানা। তমার এবার খুব ভয় লাগছে।গলাটা শুকিয়ে আসছে তার। শুধু পানি খাচ্ছে আর ভাবছে এখন কি হবে?……

রানা তমাকে ডাকছে। বেশ শান্তভাবে।
রানাঃ তমা, টিভির রিমোট পাচ্ছি না।
তমার হাত কাঁপছে। কাঁপতে কাঁপতে রানাকে রিমোট দিয়ে চলে গেল বেডরুমে।
২মিনিট পর চিৎকার করে ডাকছে রানা।
রানাঃ তমা,তমা,তমা….
ডাক শুনেই তমার হার্টবিট বেড়ে গেল। ভয়ংকর সেই মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সে এখন!…তমা আয়াতুল কুরসি পড়ে রানার সামনে গেল।
রানাঃ টিভির তার কেটেছে কে?
তমাঃ আমি কেটেছি।
রানাঃ কেন? (জোরে বলল)
তমাঃ সেদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি আমি একা। খুব অসহায় লাগছিল আমার। তখন টেলিভিশন থেকে জোরে শব্দ ভেসে আসছিল। এসে দেখি তুমি হিন্দি সিনেমা দেখছ। আমি সহ্য করতে পারলাম না। মাথা একদম কাজ করছিল না। তাই তুমি ঘুমাতে যাওয়ার পর তার কেটে দিয়েছি যাতে আর টিভি দেখতে না পারো।
রানাঃ কাজটা তুমি ঠিক করনি।
তমাঃ আমাকে মাফ করে দাও।
রানাঃ মাফ করব যদি ঠিক করে দাও তাহলে।
তমাঃ আমিতো ঠিক করতে পারব না। ঠিক করতে কত টাকা লাগবে বল। আমি আব্বার কাছ থেকে টাকা এনে তোমাকে দিয়ে দেব।
রানাঃ এটা অনেক আগের আমলের টিভি। এখন আর পাওয়া যাবে না। যেভাবে মূল জায়গা থেকে কেটেছো, এটা আর ঠিকও করা যাবে না।

পরদিন সকাল।। তমার খুব মাথা ব্যথা করছে। রানা অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বাভাবিক আচরন করছে তমার সাথে।
তমার শরীর খুব খারাপ লাগছে। পেটে ব্যথা অনুভব করছে। রানা অফিস যাবার পর আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে চলে গেল তমা। রিপোর্টে অতিরিক্ত ফ্লুয়িড দেখা যাচ্ছে গর্ভাশয়ে। এরপর তমা বাবার বাসায় চলে গেল। রানাকে ফোন করল।
তমাঃ আমার শরীরটা ভাল না। মেডিক্যাল রিপোর্টও ভাল না তাই কিছুদিন বাবার বাসায় থাকব।
রানাঃ ঠিক আছে। আমি অফিস শেষ হলে দেখা করতে আসব।
এক মাস হয়ে গেল তমা বাবার বাসায় থাকছে। কিছুই ভালো লাগে না তার। অস্থির লাগে সবসময়। মনটা কেমন যেন লাগে। মনে হয় মরে যাই।

(চলবে)

আগের পর্ব- মাতৃত্বকালীন বিষণ্ণতা (পর্ব-১)

লেখকঃ ডাক্তার ও মোটিভেশনাল স্পিকার,  The Nafs Psychological & Spiritual Wellness Centre

আরও পড়ুন