মায়েদের কথা

মানসুরা আক্তার

খুব ছোটোকাল থেকেই আম্মাকে দেখতাম ব্যস্ত থাকতে, প্রচুর কাজ করতে। ইউনিভার্সিটিতে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় আমার টাইফয়েড হলো। আমাকে প্রতিবেলায় বেহুশ অবস্থা থেকে তুলে খাবার-ওষুধ দিতে হতো, রাতে বারবার গা মুছে পোশাক পাল্টে দিতে হতো। জ্বরে মুখে রুচি না থাকায় আমার জন্যে আলাদা করে মুখরোচক খাবারও বানাতে হতো। আম্মা একাই এসব করতো। মনে মনে আমি আম্মার প্রতি বিরক্ত থাকতাম কেননা অন্যান্য মায়েদের মতোন আমার মা আমার পাশে বসে না, ইমোশনাল কথা বলেনা, ভালো ও বাসেনা। আমার মা ব্যস্ত, তাই একটু কম “স্নেহপরায়ণ!”

এখন আমি মা। টুনুর গায়ে কখনো জ্বর আসে। সে চায় তার মা তাকে কোলে করে রাখুক। সকালবেলায় মাম্মাম অফিস যাওয়ার আগেই ঘুম থেকে উঠে বসে। মাম্মাম কোল থেকে নামাতে চাইলে চিৎকার করে কাঁদে। জিনিসপত্র আছড়ে রাগ দেখায়। সারাদিন বিষন্ন হয়ে থাকে, নিয়মিত খাওয়াদাওয়া করেনা। রাতে ঘুমাতে চায়না।

আমি অফিস করি। বাসায় ফিরেও ক্লান্ত থাকি। টুনুর সাথে ফুটবল খেলার মতো শক্তি প্রায়ই পাইনা। টুনু আমাকে মাঝেমধ্যে মারে। মাঝেমধ্যে আমাকে এমনকি ওয়াশরুমে ও যেতে দেয়না। আমি কষ্ট পাই।

এখন আমি বুঝতে পারি যে আমার মা অন্য কোনো মায়ের চেয়ে কম “স্নেহপরায়ণ” ছিলেননা, আমার মা ব্যস্ত ও ক্লান্ত ছিলেন।

মানসুরা আক্তার কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন