মোহরানা

 

দীর্ঘ লকডাউনে ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগছিল না। স্কুল বন্ধ। তাই ক্লাসও বন্ধ। এমনকি প্রাইভেট বন্ধ। তাই বাড়িতে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছি। এমনকি হাপিয়ে উঠেছি। তাই বের হয়েছি বৈচিত্র কিছু দেখার জন্য। কিন্তু একি! চোখে কিছুই পড়ছে না। এখন কি করার?

তাই সিদ্ধান্ত নিলাম একটি গল্প লেখার। হ্যাঁ, হয়তো কারো সাথে সম্পুর্ন মিলে যেতে পারে আবার আংশিক মিলে যেতে পারে। কারো সাথে মিলে গেলে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

রাসেলের মামাতো বোন জিলিয়ার সাথে ৫ বছরের সম্পর্ক। রাসেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্কের কারণে অনেকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। এ কথা জিলিয়ার মা, চাচি ভালো করেই জানে। তারা রাসেলের বিয়ে দেওয়ার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করতে চেয়েছে।

এরই রেশ ধরে আজ রাসেলের বিয়ে। রাসেলের বিয়েতে খুব একটা মত ছিল না। কারণ বিয়ের আগে জিলিয়ার সাথে শারীরিক সম্পর্ক। এছাড়াও সে দেখেছে প্রেমের বিয়ে বেশি টেকসই হয় না। হলেও সুখী হয় না। অাবার কোন সমস্যা হলে সবাই দোষ দেয়।

রাসেল এখনই বুঝতে পারছে রাসেলের সাংসারিক জীবন সুখী হবে না। তার মনে সদা তার কুমারিত্ব হারানোর কথাই বাজবে। কিন্তু সবার চাপে বিয়েতে মত দেয়। জিলিয়ার বাবা মানে রাসেলের মামা গোপনে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে দিতে চায়। আর সাথে ঘর সাজিয়ে দিতে চায়।

রাসেলের বরযাত্রী নিয়ে ৫০/৬০ জনের দল তার মামার বাড়ি অন্যভাবে বললে তার শুশুর বাড়ি যায়। সেখানে গেট বন্ধ করে তাদের কাছ থেকে টাকা অাদায় করে।এছাড়াও, সেখানে গেলে তারা রাসেলদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তবু্ও রাসেল ও তার সাথের লোকজন মুখ বুজে সহ্য করে।

এরপর ঘটে বিপত্তি। বিয়ের মোহরানা যখন ১ লক্ষ টাকা করার কথা বলে। তখন সে মনে মনে বলে দুই তিন নম্বর একটা মেয়ের মোহরানা ১ লক্ষ টাকা। তাহলে কুমারী মেয়ের মোহরানা নিশ্চয়ই ১০ লক্ষ টাকা হবে। সে প্রতিবাদ করে। কিন্তু তাকে ব্লাকমেইল করে ১ লক্ষ মোহরানা ধার্য করে। রাসেল মন থেকে মেনে নিতে পারেনি।

বাসর রাতে জিলিয়ার সাথে কথা বলছিল। মোহরানা নিয়ে কথা বলতে সে বলে- আমার বাবা যৌতুক হিসেবে ২ লক্ষ টাকা দিবে আর মোহরানা ১ লক্ষ হতেই হবে।

রাসেলের সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। সে খাটো কালো মানুষ। একবার কেউ দেখলে বিপদে না পড়লে ২য়বার তাকায় না। আর তারা ৫ ভাইবোন। ভাই তিনজন ও বোন দুইজন। বোন দুইজনের বিয়ে হয়েছে তাদের সন্তানও আছে। ভাই দুইজন ও তার চেয়ে বড়। তাই তারাও বিয়ে করেছে। এখন তার রাজত্ব।

রাসেলের মামাতো বোন জিলিয়া দেখতে খুব সুন্দর। সে বাপের একমাত্র সন্তান। আমি বুঝতে পারিনা, আমার কি দেখে সে তার প্রেমে পড়েছে। তাই আজ বাসর রাতে এসে কথা কাটাকাটি চলছে।

এক পর্যায়ে রাগ করে আমি ঘুম আসি। সে আমাকে তার দিকে ডাকতে থাকে। কিন্তু আমি ঘুম আসায় সাড়া দিতে পারিনি। পরেরদিন থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জিলিয়ার সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এমনকি জিলিয়ার বাবা, মার সাথেও সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

জিলিয়া ও তার বাবা মা কারণে অকারণে সন্দেহ পোষণ করে। রাসেল বাহির থেকে কোন কাজ করে আসলে বলে সে অন্য মেয়ের কাছে নাকি যায়। তাই তাকে কম সময় দেয়। আমি যতই বুঝানোর চেষ্টা করে, তারা কিছুতেই বুঝতে চায় না।

এভাবে চলতে চলতে এক বছর হয়ে যায়। তার জিলিয়ার প্রতি সকল আকর্ষন নষ্ট হয়ে যায়। সে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার খুব চেষ্টা করে। কিন্তু আমি আর পারছিনা। তবে একটায় বাধা তা ১ লক্ষ টাকা মোহরানা। কারন তা নগদে দেয়নি, ছিল বাকিতে। রাসেল এখন বাকির জ্বালা বুঝতে পারছি।

রাসেলের বাবা মা কষ্ট পান- এই ভেবে তার ও জিলিয়ার মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনা বলে না। ভেতরে গুমরে গুমরে কাটায়। আর একটি কথা, জিলিয়ার বাবা যে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল তা আজ পর্যন্ত দেয়নি। তাই সেও মোহরানা দেয়নি। সে চিন্তা করেছিল, সে টাকা পেলে সেখান থেকে মোহরানার টাকা পরিশোধ করবে।

একসময় জিলিয়ার সাথে রাসেলের থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায় যখন সে জানতে পারে সে তার মতো অনেকের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। রাসেল যখন তার বাপের বাড়িতে যায় তখন মানুষ তো অাছেই রাস্তার গাছও রাসেলকে দেখে হাসে। রাসেলও মনের দিক দিয়ে দুর্বল হতে থাকে।

এরই মাঝে রাসেলের পরিচয় ঘটে মারুফ নামে এক হুজুরের সাথে। রাসেল তার অতীত নিয়ে সকল কথা জানায়। সে বলে “আপনার এ বিয়ে অবৈধ। ইসলাম বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন সমর্থন করেনা।”

এ কথা শুনে রাসেল কাউকে না জানিয়ে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন ভাবে, তার বিয়ের মোহরানা অল্প হলে সহজেই তালাক দিতে পারতো। তাই তালাক দিতে চাইলে তাকে মোহরানার টাকা ফেরত দিতে হবে। তাই রাতের আধারে রাসেল বিদেশে পালিয়ে গেলো।

কামরুজ্জামান জেমস-কবিও সাহিত্যিক

আরও পড়ুন