অপূর্ণ স্বাদ

 

আমি ভিক্ষা করে খাই ৷ কোনদিন খাওয়া জোটে কোনোদিন আবার জোটেও না ৷ছোট্ট মেয়েটা পারে না আমার মতো না খেয়ে থাকতে৷ ও ক্ষিদের জ্বালায় কাঁদতে থাকে আমাকে একটু ভাত দাও মা ৷ ও যে বড়ই বোকা বোঝে না জন্ম থেকেই আমাদের না খেয়ে থাকাটা শিখতে হয় ৷না হলে নিষ্ঠুর সমাজে টেকা দায় হবে ৷আমার মেয়েটা বড্ড বায়না করে !কি করে আমি ওর সব বায়না মেটাবো ?এক একটা দিন যায় আর আমার মেয়ের নতুন নতুন করে বায়না হাজির হয়৷ এবারের বায়নাটা যে আমার সাধ্যের বাইরে ৷রোজ এক কথা বলে দুগ্গা মা অাসছে যে, আমি কি ভাবে যাবো দুগ্গা মা এর কাছে ৷একটা নতুন জামা দাও না মা ৷আমি পরে যাবো নতুন জামা ,নতুন চুড়ি৷ আমায় দাও মা নতুন জামা ! আমার যে একটাও নতুন জামা নেই ৷তুমিই বলো মা আমি কিভাবে যাই দুগ্গা মা এর কাছে!দেবে গো মা একখানি নতুন জামা৷নোংরা ,ময়লা , ছেঁড়া শাড়ির আচল ধরে আমার সাথে সাথে ঘুরতে থাকে ওই একটাই আশায় ,কবে সে পাবে একটা গোটা নতুন জামা
মায়ের অবচেতন মন কেঁদে ওঠে,বাস্তব ভাবনা গুলো তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় ৷
কি করে তার অবুঝ মেয়ে কে বোঝায়, উৎসব তাদের জন্য নয় ৷উৎসব যে হলো বড়োলোকেদের !
অামাদের যে উৎসব করতে নেই ৷আমরা যে রাস্তার ভিখিরী !ভিক্ষা করাই যে আমাদের একমাত্র উৎসব ৷যে মা শুধুই লালসার শিকার হয়েছে সারা জীবন ৷ একরাশ মিথ্যে সান্ত্বনা বাবুদের৷ কান্নায় ভাঙা বুক দিশেহারা আঁধারে তলিয়ে যায় সেই অসহায় মা৷
কি করে বোঝাবো আমার বোকা মেয়েটাকে,
আমাদের যে এমনতরো ভাবতে নেই৷এটা যে পাপ,আমাদের নতুন জামা পরতে নেই ৷
আমাবষ্যার কালো অন্ধকারে ঢেকে যাবে এই বস্তির গলি ৷কোনোদিনই পূর্ণিমার চাঁদের খুশির ঢেউ এর ছোঁয়া পড়বে না এই বস্তিতে ৷বাজবে না ঢাকের কাঠি, জ্বলবে না আলোর ঝিলমিল ৷
বোকা অবাধ্য মেয়েটা আমার আঁচল ধরে কেঁদে বেড়ায়, একটা জামা দাও না মা গো ৷
আমার দুরন্তপনা দুষ্টু মেয়েটার স্বাদটা না হয় অপূর্ণই থাক ৷এমন করেই কেটে যায় দিন ,মাস,বছর ৷কিন্তু কোনও দিনই তাদের দিন বদলায় না ৷
এই অসহায় জীবনযুদ্ধে কতো স্বপ্ন কতো ইচ্ছে অপূর্ণই থেকে যায় ৷
তাও জীবন থেমে থাকে না …………..৷

অনামিকা বোস- কবিও সাহিত্যিক( ওপার  বাংলা)   

আরও পড়ুন