জীবনে সফল হবার তিনটি উপায়

তারিক হক

THREE METHODS

অপরাহ্ উইনফ্রেকে চেনে না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। আমি তখন আমেরিকায় ছিলাম। এক ভদ্রমহিলা আমাকে দুপুরে খাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ করেছিলেন।

খাওয়ার সময় হঠাৎ কথা থামিয়ে বললেন, ‘আপনি কি কিছু মনে করবেন, যদি আমি টেলিভিশন অন করি? এখন ‘অপরাহ্উইনফ্রে শো’ শুরু হবে।

আমেরিকায় এটি খুবই জনপ্রিয় শো। „পৃথিবীর সবচেয়ে „ধনী বিলিয়নেয়ার“ নিয়ে ফোর্বসের যে তালিকা আছে, প্রথম আফ্রো-আমেরিকান কালো মহিলা তিনি। এক হাজার মিলিয়নে এক বিলিয়ন।

তাঁর মাত্র দুই বিলিয়ন ডলার আছে ।

ও মাই গড! ভদ্রমহিলার ব্যাংক ব্যালান্স আমার চেয়েও বেশি !!!

সেই অপরাহ্ গিয়েছিলেন সুইজারল্যান্ডে। জুড়িখ শহরের একট বুটিকে ঢুকলেন। টিনা টার্নার তাঁর বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছেন, সাথে তো কিছু নিতে হবে।

এই বুটিকের ব্যাগগুলো খুবই দামি, সবচেয়ে যেটা সস্তা তার দামই ৩০ হাজার ডলার। বিক্রেতা ছিলেন ইতালীয় একটি মহিলা, ভাঙা ভাঙা ইংরেজি বলেন।

অপরাহ আঙুল দিয়ে দেখালেন, ‘ওপরের তাকের ঐ কালো ব্যাগটা আমাকে দেখাবেন?’

উত্তর এল, ‘না।’ অপরাহ অবাক হয়ে গেলেন।

বললেন, ‘কেন?’

ইতালীয় ভদ্রমহিলা কালো চামড়ার ঐ আমেরিকান মহিলাকে আপাদমস্তক একবার দেখলেন, তারপর বললেন, ‘না, ওটার খুব দাম, আপনি এই নিচের সারি থেকে দেখুন।’

অপরাহ্ র চক্ষু চড়কগাছ।

তাঁর ব্যাংকে যে টাকা আছে তাতে শুধু তিনি এই বুটিকই নয়, সমস্ত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর কিনে নিতে পারেন। কিন্তু তিনি রাগলেন না।

ভদ্রভাবে বললেন, ‘আমার কিন্তু ঐ কালো ব্যাগটা পছন্দ হয়েছে, একটু দেখান না, প্লিজ।

-না, আমি তো বললাম যে ওটার অনেক দাম, আপনি তা পোষাতে পারবেন না।

অপরাহ্ বললেন, ‘আপনি হয়তো ঠিকই বলেছেন, ওটা আমি পোষাতে পারব না, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।’

তিনি আস্তে আস্তে বুটিক থেকে বের হয়ে এলেন।

পাঠক, আপনি-আমি হলে কী করতাম? প্রথমে বিক্রেতা ভদ্রমহিলাকে ধমকাতাম। ম্যানেজারকে ডেকে এনে বলতাম, ‘এই মুহূর্তে এই অভদ্র, বর্ণবাদী মহিলাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করুন।’

অপরাহ্ কিন্তু ঐ মহিলাকে ক্ষমা করে দিলেন।

তাই আপনার মেথড হবে :

১. ক্ষমা করতে শিখুন :

যে আপনাকে আঘাত দিয়েছে, তার কথা মনে করে যদি আপনার মেজাজ নষ্ট করেন, ক্ষতি হবে আপনরাই, তার কিছুই হবে না। প্রতিশোধ নেয়ার কথা ভুলে যান।

প্রতিশোধ নেয়ার জন্য যতখানি কর্মশক্তি নষ্ট করবেন, সেটুকু বাঁচিয়ে যদি নিজের জন্য ব্যয় করেন, দেখবেন অনেক উন্নতি করেছেন।

এই কথাটি জোরে জোরে বলুন, ‘আমি তাকে ক্ষমা করছি’, দেখবেন নিজের কাছে ভালো লাগছে আর আপনার অনেক সময় বেঁচে যাচ্ছে।

২. নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন :

আত্মবিশ্বাস যার নেই, সে জীবনে কোনো দিন উন্নতি করতে পারবে না, এটি লিখে দিতে পারি। রবি ঠাকুর বলেছেন, ‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই।’

সোনার হরিণ পেতে হলে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে এটা পাওয়ার মতো সামর্থ্য আমার আছে।

উসাইন বোল্ট (অলিম্পিকের কিংবদন্তি) বলেছেন,

‘আমি তো আপনাদের বলেছিলাম যে আমি এক নম্বর হব, আমি শুধু তা-ই করেছি।’

আপনি ইচ্ছা করলে এভারেস্টে উঠতে পারেন। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, পৃথিবী আপনার হাতের মুঠোয়।

৩. সব সময় সেই কাজটি করুন, যেটা করতে ভয় পান :

এমারসন বলেছেন,

‘Do the things you fear .’

প্রথমে মনে হতে পারে, এটা আবার কী ধরনের কথা! এটা বাস্তবিক নয়। আসলে কথাটির অন্য মানে। আমরা আরামে বেঁচে থাকি, আরামকে ভালোবাসি। যে মুহূর্তে একটি পরিবর্তন আসে, আমরা ভয় পেয়ে যাই ।

করব কি করব না, হবে কি হবে না।

কোনো একটি কারণ খুঁজতে থাকি না করার জন্য। কারণ যদি পেয়ে যাই তো ভালো (একেবারে বেঁচে গেলাম), আর না পাই তো মনে শঙ্কা।

কালকে করলে হয় না, অথবা পরশু?

পৃথিবীতে যাঁরা বড় হয়েছেন তাঁরা যে সবাই আপনার চেয়ে বেশি প্রতিভাবান বা মেধাবী, এটা কখনও ভাববেন না। তাঁদের যে গুণটি রয়েছে তা হলো সক্রিয়তা। যদি আপনি মনস্থির করেছেন, ঝাঁপিয়ে পড়ুন, কোনো ভয় করবেন না।

আপনি হয়তো বলবেন, আমার তো সতর্ক হওয়া উচিত। এটা সত্যি তবে আপনি যদি ভয় পান, কোনো দিন কিছু করতে পারবেন না।

তাই আমিও বলছি এমারসনের মতো, সব সময় সেই কাজটি আগে করুন, যেটা করতে আপনি ভয় পান।

তিনটি মেথড আবারো বলছি :

১. অন্যকে ক্ষমা করতে শিখুন।

২. নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।

৩. সব সময় সেই কাজটি আগে করুন, যেটা করতে আপনি ভয় পান।

লেখক: মোটিভেশনাল লেখক ও জার্মানি প্রবাসী

জার্মানি

আরও পড়ুন