বিষণ্ণতা নয়, সুস্থ থাকুন উদযাপনে

ইসরাত জাহান

বর্তমান সময়ে আমরা কম বেশি সবাই নিজেদের অবস্থানে, নানা কাজে সব সময় ব্যস্ত থাকছি। যে কারনে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা খুব বেশি কাজ করছে। আমরা সব সময় আতংকের মধ্যে বসবাস করছি। কখনও কেউই নিজ নিজ যায়গা থেকে সন্তুষ্ট হতে পারছি না।  তাই বলছি সবাই আমরা নিজেকে ছোট ছোট করে হলেও খুশি করি । সব সময় নিজেকে বেশি বেশি ভালোবাসি । এটা মহিলা পুরষ উভয়ের জন্যই ।

আপনি সারাদিন অফিস করে খুব ক্লান্ত, বাসায় ফিরছেন বউ বাচ্চার পছন্দের খাবার, ফলমূল ইত্যাদি কিনছেন । না হলে বাসায় ফোন করে জিজ্ঞেস করছেন কার কি লাগবে? কিন্তু নিজের কথা একবারও কি ভেবে দেখেছেন ? আজ না হয় নিজের কথা একটু ভাবুন , নিজের পছন্দের কিছু কিনুন নিজেকে নিজে উপহার দিন।

আজ আপনার জীবনের বিশেষ একটা দিন। আপনি স্ত্রীর জন্য শাড়ি কিনছেন, ফুল কিনছেন কিন্তু একান্ত নিজের করে, কিছু ভাবছেন কি? নিজের জন্যও একটু ভাবুন, নিজের পছন্দের একটা জিনিস কিনুন , নিজেকে নিজেই খুশি করুন।

শুক্রবার ব্যাগ ভর্তি বাজার করছেন, স্ত্রী ছেলে মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছেন , তাদের পছন্দ মতো যায়গায় ঘুরছেন, তাদের পছন্দমতো খাবার খাচ্ছেন , একবার ও নিজের কথা চিন্তা করছেন কি? নিজের কথাও একটু ভাবুন, নিজের ভালোলাগা টুকুও উপভোগ করুন।

সব সময় বাবা, মা , ভাইবোন, ছেলেমেয়ে, সকলের চাহিদা পূরন করছেন, সকলের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে ভাবছেন? কিন্তু দিনে দিনে আপনার শরীরটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে, আপনার প্রেসার, ডায়াবেটিস, আরো কতো কি আপনার অজান্তেই আপনার শরীরে বাসা বাঁধছে আপনি কি একবারও সেটা নিয়ে ভাবছেন? আপনি নিজের জন্যও সময় বের করুন মাঝে মাঝে রুটিন টেস্ট করুন একটু ডাক্তারের কাছে যান । নিজেকে সুস্থ রাখুন।

অপরদিকে একজন মহিলার ও ঠিক তাই, সারাক্ষণ কতো কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়।পরিবারের সকলের দায়িত্ব একজন মহিলা কেই সামলাতে হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে সারাদিন বিরতিহীন ভাবে ,ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে হয়। স্বামীর অফিস যাওয়া, তাঁর নাস্তা তৈরি করা , আবার যদি দুপুরের খাবার নিয়ে যেতে চায় সেটা প্রস্তুত করা , বাচ্চাদের স্কুল থাকলে তাদেরকে তৈরি করা , তাদেরকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, বাড়িতে শশুড় শাশুড়ি থাকলে তাদের দেখভাল করা সবই কিন্তু আপনাকে করতে হচ্ছে । কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন নিজের জন্য কতোটুকূ করছেন, নিজের নাস্তাটা ঠিক সময়ে ঠিকঠাক করছেন তো ? একটু নিজের জন্য সময় করুন , সকালের নাস্তাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নিজের জন্যও একটু সুন্দর করে নাস্তা তৈরি করুন, সুন্দর মতো নিজের সকালটা শুরু করুন, নিজেকে নিজেই খুশি করুন ।

আপনি প্রতিদিন ফলমূল কেটে সবাইকে খেতে দিচ্ছেন , কিন্তু নিজে খাচ্ছেন তো ? নিজের থালাটা সুন্দর করে গুছিয়ে রাখুন, নিজে মনে মনে ভাবুন কেউ একজন আপনাকে ভালোবেসে ফলের থালাটা রেডি করে দিয়েছে । নিজেকে নিজে উপভোগ করুন।

আপনি চাকরি করছেন সংসার ছেলে মেয়ে, স্বামী সকলের খেয়াল রাখছেন ।একদিকে অফিস অন্য দিকে বাসার সব কিছু একাই সামলে নিচ্ছেন। অফিস থেকে ফেরার পথে শাশুড়ির পান, প্রেসারের ওষুধ, বাচ্চাদের হাজারটা বায়না সব সামলে নিচ্ছেন । কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন আপনার শরীরটাও ঠিক রাখতে হবে, একটু ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। একান্ত নিজের কথা একটু ভাবুন, নিজের পছন্দ অপছেন্দর একটু মূল্য দিন । নিজেকে নিজে ভালোবাসুন । মাঝে মাঝে নিজের জন্য উপহার কিনুন।

বাড়ির পাশে যদি যায়গা থাকে কিংবা আপনার বাসার বারান্দায় , ছাদে -ফুল বা সবজি বাগান করুন, মন ভালো থাকবে। নিজের বাগান আপনাকে অনেক মানসিক প্রশান্তি দেবে ।

বাড়ির বাইরের মানুষের সাথে অযথা তর্ক বিতর্ক এড়িয়ে চলুন , এতে আপনার মন মেজাজ দুটোই ভালো থাকবে সেই সময়টুকু নিজেকে দিন আত্মতৃপ্তিতে নিজেকে আনন্দে রাখুন।

নিজের ইবাদত বন্দেগীর বাইরেও, কিছুটা বিনোদনের সময় বের করুন । নিজের পছন্দের বই পড়ুন , গান শুনুন নিজেকে আনন্দে রাখুন ।

প্রতিদিন পরিবারের সকলের পছন্দ মতো খাবার রান্না করছেন ।খাবার টেবিলে সবাইকে খুশি করছেন । অথচ নিজের পছন্দের খাবারের কথা ভাবছেন? একদিন নিজের পছন্দের খাবার রান্না করুন । টেবিলটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে নিন নিজে নিজে বলুন আলহামদুলিল্লাহ ।

কারো ক্ষতি না করে নিজেকে ভালো রাখুন , আশেপাশে ঘটে যাওয়া সুন্দর মূহূর্ত গুলো নিজের মধ্যে শুষে নিন। খারাপ কিছুকে বর্জন করুন । এতে করে মনের বয়স থমকে থাকবে , আর আপনি থাকবেন সুস্থ ও সুন্দর ।

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক

আরও পড়ুন