দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

তারিক হক

১৯৮২ সালের ৪ ডিসেম্বর মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটেছিল। গাইনি যখন সদ্যঃপ্রসূত ছেলেটিকে হাতে নিল, তার হাতটি কাঁপল থরথর করে।চোখ থেকে একফোঁটা পানি বেরিয়ে এলো।ছেলেটিকে তুলে দিলো বাবার হাতে। বাবা একপলক দেখে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

মায়ের চোখ দিয়ে দরদর করে অশ্রু ঝরছে- খোদা, আমি কী অপরাধ করেছি!সন্তানটি বিকলাঙ্গ, কোনো হাত নেই, পা-ও নেই।ছেলেটি আস্তে আস্তে বড় হলো, গেল স্কুলে। সহপাঠীদের বি্দ্রুপ সহ্য করতে না পেরে দশ বছরের মাথায় আত্মহত্যার চেষ্টা করলো। কোনো কারণে বেঁচে গেল। মা-বাবা অনেক বোঝালেন। এবার ছেলেটি বলল, আমার হাত নেই, পা নেই; তাতে কী হয়েছে, আমি বড় হবই।

সেই নিক ভয়েচিচ এখন ফুটবল খেলে, টেনিস ও গলফে ওস্তাদ। সুইমিংপুলে গিয়ে অনেক উঁচু থেকে ঝাঁপ দেয়।পৃথিবীর ২৪ টি দেশে গিয়ে তিন মিলিয়ন মানুষকে শিক্ষা দেয়, কীভাবে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হয়।ছ’জন রাষ্ট্রপতির সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তাঁদের মুগ্ধ করে।

পাঠক, আপনি যদি ইউটিউবে গিয়ে “Nick Vujicic” লিখে ক্লিক করেন, নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারবেন না।আমি যতবার তাঁর ভিডিওগুলো দেখি, ততবারই কাঁদি।এমন একজন মানুষ!

তিনি বলেছেন,

১। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হও
২। বড় চিন্তা করো
৩। কখনো হাল ছেড়ে দেবে না, হতাশ হবে না।

কী অপূর্ব এই মানুষ!

উইল স্মিথের নাম আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন, হলিউডের নামকরা অভিনেতা।তিনি বলেছেন,

‘কখনো চেষ্টা করবেন না একটি বিরাট দেয়াল বানাতে, যা এর আগে পৃথিবীতে কেউ বানায়নি। আপনি প্রতিদিন একটি ইট সুন্দরভাবে গাঁথুন, দেখবেন আপনার দেয়াল হয়ে গেছে।’

সোজা কথায় আপনি প্রতিদিন কিছু একটা করুন।……আর আপনি চান, এক রাতে বিখ্যাত হতে, এক রাতে বড়লোক হতে। কখনো হতাশ হবেন না- এটাই সিক্রেট কীভাবে কৃতকার্য হওয়া যায়। এর নাম অধ্যবসায়।নিচে পড়ে গেছেন, ওপরে উঠুন। সবাই পারে, আপনি পারবেন না কেন?আবার, আবার, আবারো চেষ্টা করুন যতক্ষণ পর্যন্ত না সফলতা লাভ করেন।

লেখকঃ জার্মানি প্রবাসী মোটিভেশনাল লেখক 

আরও পড়ুন