ভ্যাকেশন ভাবনা

।। শরীফ হোসেন ।। 

 

আমাদের দেশে ভ্যাকেশন বলতে আগে দুই ঈদকেই মনে করা হতো। এখন দুদিন সরকারী ছুটির সাথে দু একদিন যোগ করে ভ্যাকেশন এর প্রচলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভ্যাকেশন মানে আউটিং। এটি হাল আমলর ট্রেন্ড। আমরা যারা ঢাকায় থাকি তাদের ৯৫ ভাগের গ্রামের বাড়ী ঢাকায় না। আমার সন্তানদের স্থায়ী ঠিকানা লেখার সময় আমি এখনো কুষ্টিয়া (কুষ্টি, আঞ্চলিক ডাক) লেখি। আমার বৌ খুব বিরক্ত কারণ এখন তো স্থায়ী ঠিকানা আছে তুমি ওটা লেখ কেন? আমি বলি মরলে লাশটা কুষ্টিয়ায় যাবে আর সন্তানরা আমার কবর, আমার বাবার, আমার দাদার কবরটা একটু হলেও এ কারণে জিয়ারত করতে যাবে।

 

মিডিয়া, সমাজ, পরিবার আমাদের মনস্তত্ত্ব তৈরী করে। আমরা ছুটি পেলে অনেকে এখনো গ্রামের টান অনুভব করি না। কিংবা মিডিয়া বলে না আপনার টাকা যেটা খরচ করছেন সেটা আপনার গ্রামের লোকদের জন্য হলেও কিছুটা খরচ করা দরকার। অর্থনীতি প্রবাহটাও সেখানে হওয়া দরকার। আপনার সন্তানদের রুটের সাথে পরিচিত রাখতে হবে। আমি গ্রামে গেলে এটা ওটা দরদাম করে শেষে প্রথমে যেটা চেয়েছিল সেটাই দিই। কারণ এই ক’টাকা একদিন রেস্টুরেন্টে গেলেই যায়। আমি গ্রামে গেলে সন্তানদের নিয়ে মাঠে হাঁটি আর তাদের বিশ্ব জয় করা কর্মকান্ড দেখি। এবার আমার ছেলে ধান নিয়ে বড় চিন্তায় পড়লো, এটা কি? বললাম, এটা থেকে চাল হয়। এবার সে হাত দিয়ে চাল বের করে বললো এভাবে কি সম্ভব একটা একটা করে চাল বের করা। এই যে চাল আবিস্কার তার জন্য বিশ্ব জয়ের মত।। স্যালো মেশিনে কিভাবে পানি দেই এটা দেখতে সে হাফ কিলোমিটার হেঁটেছে। এটা তার জন্য হিমালয় যাত্রা।
আরেকটা ভয়াবহ রোগ বলি এখন ঈদে কক্সবাজারে কোনো হোটেলে ছিট পাওয়া যায় না কারণ এখন ঈদেও একটা অংশ গ্রামে যায় না।
আসলে ভ্যাকেশন নিয়ে আমাদের প্রচারনার কৌশল চিন্তা করতে হবে। আমাদের চিন্তার পরিবর্তন দরকার। কবির ভাষায়,
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু।
লেখকঃ কৃষিবিদ, লেখক ও উন্নয়ন গবেষক
ভ্যাকেশন ভাবনা – ভ্যাকেশন ভাবনা – ভ্যাকেশন ভাবনা – ভ্যাকেশন ভাবনা
আরও পড়ুন