সফলতা পেতে মনঃসংযোগ

শহীদ সিরাজী

বিষ্ময়কর মানুষের মন আর মস্তিস্ক। সকল বাস্তবতার নির্মাতা এই মস্তিষ্ক। বড় বেশি সংবেদনশীলও। একে ঠিকঠাক ব্যবহার করার জন্যে প্রয়োজন সুসংহত মানসিক প্রস্তুতি। আর মানসিক প্রস্তুতির ভিত্তি হচ্ছে ইচ্ছে বা নিয়ত। কারণ মন পরিচালিত হয় ইচ্ছে বা নিয়ত দ্বারা। আর মস্তিষ্ককে চালায় মন।
এটা অনেকটা কম্পিউটারের একজন প্রোগ্রামারের মত। যেভাবে সে কম্পিউটারকে নির্দেশ দেয় ; তেমনি মনও মগজকে নির্দেশ দেয়। মস্তিষ্ক এখানে হার্ডওয়ার আর মন হচ্ছে সফটওয়্যার। কথায় বলে, মন ঠিক তো সব ঠিক। মন সিদ্ধান্তে অটল থেকে মস্তিস্কের উপর প্রভাব ফেলে । বিশ্বাসের উপর ভর করে তৈরী করে নতুন সংযোগ রাস্তা। উপহার দেয় বাস্তবতা।
ডায়াবেটিস আক্রান্ত কোন ব্যাক্তি দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে পারেন না। হাইপো’ বা ‘সুগার নিল হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর বাহারি নাম হাইপোগ্লাইসেমিয়া। এটা জানা যেমন জরুরি তেমন ভীতিকর বটে। খাদ্যের শর্করা হচ্ছে একমাত্র ব্যক্তি যে মগজে শক্তি যোগান দেয়। যদি কয়েক মিনিট এ যোগান বন্ধ থাকে তাহলে আর রক্ষা নেই। রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে, মগজের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, এমনকি রোগী চিরদিনের জন্য কোমায় চলে যেতে পারে কিংবা অক্কাও পেতে পারে।
এখানেই কি শেষ? হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগীর কর্মক্ষমতা নষ্ট করে, আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরায়, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় ও ভুলে যাওয়া বা বুদ্ধিবৃত্তির ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। ডায়াবেটিস রোগীদের এ সব জানা। তাইতো, তার বেঁচে থাকার জন্যে তার জীবন কব্যের নানা বর্ণমালার আঁকিবুকি। এ সব অস্বীকার করা মানে অপঘাতে পরপারে যাত্রা করা। কিন্তু ব্যতিক্রম রমজান মাসে এটাও মনঃসংযোগের কারনে।
রমজান মাসে সিয়াম সাধনার ব্যাপারটাও তাই। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পরও তার হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা সুগার নিল হয়না। রীতিমত অলৌকিক ব্যাপার! আসলে রোজাদার ব্যাক্তি আল্লাহর প্রতি ভীতি বা রোজার প্রতি মনঃসংযোগের কারনে এমনটি হয়।
বিষ্ময়ের ব্যাপার! রাসুলের (সা) শিক্ষার ভেতরে এ ধরনের বাস্তবতা লক্ষ্য করা যায়! একটা ব্যাপার আমরা দেখেছি ; কেউ জিজ্ঞেস করলে আমরা বলি ‘আলহামদুলিল্লাহ’। তার মানে আমি ভাল আছি। যত জন জিজ্ঞেস করে সকলকে এ কথাই তো বলি। সারাদিনে বারবার বলতে বলতে ভাল থাকার ম্যাসেজ পৌঁছে যায় মগজে। ভাল থাকার তরঙ্গ তৈরী হয় সেখানে। বাড়তে থাকে ভাল থাকার আকুতি।
এভাবে মনের এ চাওয়াকে পাওয়ার উপযোগি করে তুলছে আপদমস্তকের সেরা অংগ মস্তিস্ক। অতিদ্রুত বদলে যাচ্ছে সব। মনে হচ্ছে এ সব অলৌকিক।
আপতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এসব অলৌকিক। প্রকৃত অর্থে, এটা মনঃসংযোগের কারনে। নিবিড় ভাবে মন বারবার চেয়েছে বলে মগজ তাকে সাপোর্ট করেছে। ভুলিয়ে দিয়েছে মনের কষ্ট দুঃখ যাতনা। আবার কোন কিছু প্রাপ্তি কিংবা টার্গেট অর্জনের জন্যে তৈরী হয়ে যাচ্ছে মন।
আসল বিষয়, ভাল কাজে কেউ এগিয়ে আসলে আল্লাহর সাহায্য তার দিকে দৌড়ে যায়। তার প্রমান পুরোপুরিই আপনি পেতে পারেন মনঃসংযোগের মাধ্যমে। এভাবেই বিশ্বাসী মনের গভীরে বিশ্বাস আরও গভীর হয়, আল্লাহ দিকে গভীর মনঃসংযোগ নেমে আসে প্রাপ্তি অাল্লাহর রহমত হয়ে; যেমন সে প্রত্যাশা করে।

লেখকঃ ব্যাংকার, কবি ও সাহিত্যিক 

আরও পড়ুন