ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার 

 ইমতিয়াজ বুরহান

~ বর্তমানে প্রগতিবাদীদের মুখে সমঅধিকারের কথা খুব বেশি শোনা যায়। তাদের মুখের সুন্দর বুলি ও হৃদয়গ্রাহী কথাগুলো শুনলে মনে হতে পারে, হয়তো ইসলাম নারীদের কোন সম্মানই দেয়নি। তাদের বানিয়েছে ঘরের পুতুল ও অকর্মণ্য। পর্দার আড়ালে রেখে হরণ করতে চাচ্ছে তাদের সব মানবাধিকার ও নিশ্চিত প্রাপ্য।

~ ইসলামী নারীর অধিকারের উপর ধর্মদ্রোহীদের এই আগ্রাসন এটাই প্রথম নয়। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই চলে আসছে তাদের এই অভিযোগের ধারা। তবে তাদের এই অপবাদটা আরো ব্যাপক আকারে ও তীব্রভাবে শুরু হয় ইউরোপে শিল্পবিপ্লবের পর থেকে। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক ৮ ই মার্চ কে নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা এর মধ্যে আরো তীব্রতা সৃষ্টি করে।

~ আসুন আমরা একটু দেখে আসি অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম কি আসলেই নারীকে তার প্রাপ্য সম্মান দেয়নি ও তাকে গৃহবন্দি করে রেখেছে ? নাকি অগণিত দিক থেকে পুরুষদের উপরও তাকে দিয়েছে অকল্পনীয় অধিকার ও মর্যাদা ?

১ / ইসলাম পূর্ব যুগে যখন আরবরা নিজেদের কন্যাদেরকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলতো ও মেয়ে জন্মের সংবাদে লজ্জায় তাদের মুখ কালো হয়ে যেত তখন ইসলাম এসেই ঘোষণা করেছে, যে ব্যক্তির কন্যা সন্তান হবে আর সে তাকে অপমান করবে না ও তাকে ছেলের উপর প্রাধান্য দিবে না আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

২ / জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগে নারীদের জন্য যখন উত্তরাধিকার সম্পদ বলতে কিছুই ছিলনা তখন ইসলাম এসেই নিশ্চিত করেছে তার ন্যায্য অধিকার। তাকে তার প্রাপ্য হক্বটুকু না দিলে অবধারিত করেছে জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক আজাব ও কঠিন শাস্তি।

৩ / অভিশপ্ত ইহুদীরা যখন নারীজাতিকে দাসীর পর্যায়ে নামিয়ে এনেছিল, পণ্যের মতো তাদের কেনাবেচা করছিল তখন ইসলামই সর্বপ্রথম এসে বলেছিল, যে ব্যক্তি কোন দাসিকে আজাদ করবে এর বিনিময়ে তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দেয়া হবে।

৪ / মহিলাদের ঋতুকালীন সময়ে ইহুদীরা যখন তাদেরকে ঘরের বাইরে নোংরা স্থানে রেখে আসত এবং সবরকমের যোগাযোগ বন্ধ করে দিত তখন ইসলামই সর্বপ্রথম নির্দেশ দিয়েছে এই সময়ে তাদেরকে নিজের সাথে রাখার এবং সব ধরনের মানবিক আচরণ করার।

৫ / খৃস্টসমাজের পণ্ডিতরা যখন নারীদেরকে বলতো শয়তানের আগমনের দ্বার, নিষিদ্ধ বৃক্ষের দিকে আহ্বানকারীনী, খোদার আইন অমান্যকারী ও পুরুষকে ধ্বংসকারিণী, তখন ইসলামই বলেছে তারা তোমাদের অর্ধাঙ্গিনী, শরীরের পোশাক। তার কাছে উত্তম পুরুষই এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানব ।

৬ / হিন্দু ধর্ম যখন বলে, নারীরা হচ্ছে নোংরামী জড়। তাদের অস্তিত্ব আগাগোড়া নরক, তখন ইসলামই বলেছে, নিজের স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দিলে রয়েছে অশেষ নেকী। তার সাথে হাস্যরস করার মাঝেও আছে অফুরন্ত সওয়াব।

৭ / হিন্দুত্ববাদীরা যখন বলে, সতীদাহ প্রথাই বিধবাদের একমাত্র ভাগ্যলিপি, স্বামী ছাড়া তাদের একা একা বেঁচে থাকা মূল্যহীন, তখন ইসলামই বলে, যে ব্যক্তি বিধবাদের খোঁজখবর নিবে ও তাদের দেখাশোনা করবে সে দিনের বেলা রোজা রেখে সারারাত্র নফল ইবাদতকারীর সমান সওয়াব লাভ করবে।

৮ / হিন্দুদের মনুশাস্ত্র যখন বলে, নারীরা স্বামীর সাথে খেতে পারবে না। পুরুষদের উচ্ছিষ্ট খেয়েই তাদের পরিতৃপ্ত থাকতে হবে, তখন ইসলামই ঘোষণা করেছে প্রতিটি নারীর অস্তিত্ব তার স্বামীর জীবনে ঈমানের অর্ধেক পরিপূরক। উত্তম স্ত্রী স্বামীর জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

৯ / বৌদ্ধ ধর্ম যখন বলে, নারীরা অস্পৃশ্য ও সকল অনিষ্টের মূল। তাদের সঙ্গলাভ পুরুষদের আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ লাভের পথে অন্তরায়, তখন ইসলামই এসে ঘোষণা করেছে, নিজের মায়ের দিকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকালে রয়েছে কবুল হজ্বের সওয়াব। তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করলে মিলবে জান্নাত।

১০ / সভ্যতার দাবিদাররা যখন নিজের মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়াকে খারাপ মনে করে না এবং এর কারণে নিজেরা অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয় না, তখন ইসলামই বলেছে, তাদের জন্য খরচ করা প্রতিটি পয়সাতে আছে নেকি ও সওয়াবের অফুরন্ত ভান্ডার।

১১ / আজ মানবতাবাদীরা যখন নারীকে নিজে নিজে উপার্জনের জন্য আগ্রহী করছে, তখন ইসলামই তাকে দিয়েছে রানীর মর্যাদা। কারো উপর খরচ করার দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়নি বরং মৃত্যু পর্যন্ত তার যাবতীয় খরচের ভার অর্পণ করা হয়েছে তার বাবা, ভাই, স্বামী ও ছেলের উপর।

১২ / হিন্দু ধর্ম যখন বলে, পুরুষদেরকে বিয়ের সময় মেয়ের পক্ষ থেকে যৌতুক দিতে হবে, তার সব ইচ্ছা পূরণ করতে হবে, তখন ইসলামই এই জঘন্য প্রথার মূলোৎপাটন করেছে, নারীকে দিয়েছে মোহরানার অধিকার। যাতে হস্তক্ষেপের অধিকার একমাত্র তারই।

~ এছাড়াও আরও অসংখ্য দিক থেকে যখন আমরা ইসলামে নারীদের মর্যাদা ও অধিকার দেখতে পাই, তখন সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন যে কোন ব্যক্তিরই ইসলামের মাহাত্ম্য ও গৌরব সম্পর্কে সন্দেহ হওয়ার সুযোগ থাকেনা। এরপরও যদি কারো মনে এ ব্যাপারে খটকা থাকে তাহলে হয়তো সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বা ইসলামবিদ্বেষী।

আরও পড়ুন