‘জিহবার নিয়ন্ত্রণ: একটি আবশ্যকীয় গুণ’

সাজেদা হোমায়রা

সূরা ক্বাফ পড়ছিলাম। হঠাৎ ১৮ নং আয়াতে এসে থমকে গেলাম!
‘মানুষ এমন কোনো কথা বলে না, যা লিপিবদ্ধ করা হয় না।’
অথচ…
আমরা কী উদাসীন! কী অবলীলায় যা ইচ্ছা তাই বলে যাই!
হুট করেই আরেকজনের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে বসি। না জেনে, কোনো ধরনের অবজার্ভেশন ছাড়াই তার নামে যা খুশি তাই বলি…
নেগেটিভ কথাবার্তা এখন এমন স্থান করে নিয়েছে যে ঘরের ভেতরে, চায়ের আসরে, অফিসে, বন্ধুদের আড্ডায়, টক শো, সোশ্যাল মিডিয়া সহ প্রত্যেকটি জায়গায় এটি চলছেই!
রাসূল সা. আমাদের বার বার নিজের জিহবাকে নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছেন। কারণ মানুষের অধিকার নষ্ট করে কবিরা গুনাহ করা হয় এই জিহবা দিয়েই।
নিজের চেয়েও আমাদের বেশি আগ্রহ থাকে আমাদের আশেপাশের মানুষদের নিয়ে। আমাদের যে কোনো আড্ডায়, আলোচনায় মূল বিষয়বস্তু থাকে অন্যের গীবত/সমালোচনা।
গীবত হচ্ছে কারো পেছনে তার সম্পর্কে এমন কোনো বলা, যা শুনলে সে কষ্ট পাবে এবং তার সম্মান নষ্ট হবে। সেটা হতে পারে তার কোনো দোষ বা কোনো গোপন বিষয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মিরাজের সময় আমাকে এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো যাদের নখ তামার তৈরি। নখ দ্বারা তারা তাদের মুখমণ্ডল ও বুক খামচিয়ে রক্তাক্ত করছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিবরিল! এরা কারা? জিবরিল আ. বললেন: এরা সেসব লোক, যারা গীবত করতো এবং অন্যের মান সম্মান নষ্ট করতো।’ (আবু দাউদ)
একটু ভাবুন!
যে কথাটা আমি তার পেছনে বলছি, ঠিক এভাবেই যদি আমার পেছনে কেউ আমার সম্পর্কে বলে আমার কেমন লাগবে?

আরেকজনকে নিয়ে কথা বলার আগে নিজের সম্পর্কে একটু ভাবি!
আয়নার সামনে দাঁড়াই!
নিজের পর্যালোচনা করি!
নিজের দোষগুলো খুঁজে বের করি!
আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই যেন আমার এ দোষগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি!
আরেকটি জিনিস আমরা খুব করি, সেটি হচ্ছে সন্দেহ বা অনুমান করে কারো সম্পর্কে কথা বলা বা খারাপ মনোভাব পোষণ করা। এই ব্যাধির কবলে পড়ে বিশ্বাস ভেঙ্গে যায়, আস্থা হারিয়ে যায়।
পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস হয়! পতন হয় সমাজের একতা!
….
আমরা জানি না, আল্লাহর কাছে কে প্রিয়। হয়তো আমরা যাকে নিয়ে নেগেটিভ কথা বলছি, সে আল্লাহর খুব প্রিয় বান্দা।
মহান আল্লাহ নিজেই আমাদের প্রতিটি মুভমেন্ট অবজার্ভ করছেন! আবার আমাদের জন্য দু’জন করে ফেরেশতাও নিয়োজিত আছেন, যারা সবকিছু রেকর্ড করে রাখছেন। আমাদের ছোট্ট কোনো কথা/কাজ কিছুই তাদের রেকর্ড থেকে বাদ পড়ছে না!
আবূ হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, নবী সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে; নতুবা চুপ থাকে।” (বুখারী: ৬০১৮)
অন্যের দোষ খুঁজতে খুঁজতে আমাদের অন্তর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! আমল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে!
আসুন না…বদলে যাই!

লেখকঃ কবি, সাহিত্যিক ও পিএইচডি গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

লেখাটি লেখকের উইমেন এক্সপ্রেস ব্লগে পূর্ব প্রকাশিত
——————————————

আরও পড়ুন