জীবন্ত কুরআন (পর্ব-১)

।। ড. আজিজা সুলতানা রোজী ।।
“হে আল্লাহ! কুরআনকে আমার বক্ষের নূর বানিয়ে দিন।”
আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জীবনে সেরা নেয়ামত কোনটি? জি, ঠিক ধরেছেন। সেটি হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া হিদায়াত। সেই হিদায়াতের গ্রন্থ হচ্ছে আল কোরআন।
কে আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড? আল-কুরআনুল কারীম। যার জীবনের সেরা বন্ধু কুরআন, সে নিশ্চিত ভাবেই বিজয়ী। কাজেই কুরআনের সাথে থাকুন। দিনশেষে কুরআনের কাছে ফিরে আসুন আপন ঠিকানায়।

 

কোন কোন সূরা মেঘমালা হয়ে ছায়া দেবে, কোন সূরা শয়তান তাড়িয়ে দিবে, কোন সূরা সুপারিশ করবে, কোন সূরা কবরের আজাব মাফ করে দিবে, কোন সুরা পায়ের নিচ থেকে আসমান পর্যন্ত নূর প্রজ্বলিত করবে এবং কিয়ামত দিবস তার জন্য উজ্জ্বল হবে। এমন এক একটি সূরার এক একটি অভূতপূর্ব বৈশিষ্ট্য। সুতরাং কোন দায় না, কোন বোঝা না বরং প্রচণ্ড ভালোবাসা থেকে আমরা কোরআনকে জীবনের সাথী বানাবো।
ঠোঁট ও জিহ্বা নাড়াচাড়ার মানে কখনোই প্রশান্তি বা শেফা হতে পারে না যা দিয়ে শূন্যতা দুঃখ হাহাকার চলে যাবে বরং কোরআন যখন গলা দিয়ে আমাদের ভিতর নামবে তখন আমাদের অন্তরকে পূর্ণ করে দেবে “বিপদেই মুক্তি, কষ্টেই ধৈর্য “।কুরআনের মতো এতোটা শক্তি যোগায় এমন কি আছে?
সাহাবীরা ছিলেন চলন্ত কুরআন। নবীজি ছিলেন কুরআনের বাস্তব এক্সাম্পল বা উদাহরণ। তারা বসে থাকতেন না কখন ওযু করবেন, কখন কোরআন ধরবেন। বরং চলাফেরা, আধাশোয়া, শোয়া,সাক্ষাৎ করা সর্বাবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত করতেন। কোরআন পড়ার জন্য সব সময় অযুর দরকার নেই। যেসবে তাফসীর বেশি অথবা মোবাইল থেকে পড়াশোনার জন্য অযুর দরকার নেই।

 

আসুন চিন্তা করে আমার অবস্থান কোথায়। সাহাবীদের মত আমাদের কুরআনের জ্ঞান নেই। তাবেঈদের মতো আমাদের কুরআনের জ্ঞান নেই। মাদীনার শায়খদের মতো আমাদের জ্ঞান নেই, আমরা আলেম,মুহাদ্দিস নই।

 

জাস্ট সাধারণ মানুষ। আমরা কোরআনের তাফসির শুনি, কিছু আয়াত মুখস্থ করার চেষ্টা করি। কোরআনের সাথে লেগে আছি। আল্লাহ আমাদের চেষ্টারত অবস্থায় কবুল করুন।
যখন বলা হবে, যে কোরআন তোমার ভিতরে আছে তা পড়তে থাকো, উড়তে থাকো। উড়তে উড়তে, পড়তে পড়তে আমি যেখানে থেমে যাবো সেখানেই হবে জানাতে আমার অবস্থান।

 

ও আল্লাহ তাহলে এত পড়া আমার কি কাজে আসলো? এত হাজার হাজার পৃষ্ঠা পড়া, এত ঘন্টা সময় ব্যয় করা, এত পরীক্ষা দেয়া এবং এত সার্টিফিকেট এগুলোর মূল্য কত (হতে পারে তা কিছু সদগায়ে জারিয়া ও হালাল জীবিকা) কোরআনের তুলনায়?

 

সন্তানকে বেস্ট গিফট দিতে চান কুরআন শিখান, নিজে কারো জন্য বেস্ট স্বামী স্ত্রী হতে চান, কুরআন মানুন। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে চান কুরআন অনুযায়ী জীবন যাপন করুন করুন। সবসময় ব্যস্ত থাকুন কখন কুরআনের কাছে ফিরে যাবেন। কুরআনকেন্দ্রীক জীবনই হোক আপনার ব্যস্ততা।

 

লেখকঃ মালয়েশিয়া প্রবাসী সাহিত্যিক 

 

লেখকের আরও লেখা পড়ুন- মা-বাবাই বাচ্চার আয়না
জীবন্ত কুরআন (পর্ব-১) – জীবন্ত কুরআন (পর্ব-১) – জীবন্ত কুরআন (পর্ব-১)
আরও পড়ুন