জীবন কে খুঁজে ফেরোনা

|| উম্মে আয়িশা ||

রব্বুল আলামীনের ইচ্ছায় আমি কতশত বার প্রাণ ফিরে পেয়েছি আল’হামদুলিল্লাহ্! আমিতো এখন প্রায়শই মৃত্যু কে খুব খুব নিকট থেকেই উপলব্ধ। সারাদিন-রাতের মধ্যে খুব অল্প সময় চেতনা থাকে। গতকালও ছিলো এমন আরেকটি হৃদয়বিদারক দিন। সকাল থেকে মাগরিব পর্যন্ত সেন্সলেস মানে লাগাতার সেন্সলেস! এমন যেদিনই হয় আমার মা, আপু, কাছের প্রিয়জনরা এমন পড়ে থাকতে দেখে দেখে হঠাৎ মনে মনে ভেবেও ফেলেন আমি হয়তো আর বাঁচবনা। কখন না জানি বাড়িতে শোকের ছায়া পড়ে যায়।মালাকুল মউত চলে আসেন!

আর আমি তো প্রতিদিন প্রতি সেকেন্ড প্রতি মুহূর্ত ভাবি আমি অতি শীঘ্রই চলে যাবো রব্বের কাছে। জানেন তো ইতোমধ্যে এমনো হয়েছে আমার আসল বাড়ি যাবার পোশাকটাও আমি আমার এক উস্তাযার উসিলায় কুরিয়ার করে এনেছি সূদুর এক জায়গা হতে। কি এবার বলবেন আমি বাড়াবাড়ি করেছি কাজটা মোটেও ঠিক না! কিন্তু জানেন এটা আমার একটা শেষ ইচ্ছে নিজে যেন সেই পোশাকটা নিজের জন্য কিনতে পারি, দেখে যেতে পারি, ছুঁতে পারি! যা হেফাজতে আছে বিশ্বাসযোগ্য একজনের কাছে; তিনি আমার কাছে রাখতে দেননি, বলেছেন যখন প্রয়োজন তখন তা পেয়ে যাবেন পৌঁছে যাবে আপনার কাছে ইং শা আল্লাহ্!

আমার প্রিয় সে রং,প্রিয় সে পোশাক! হৃদয় বিদীর্ণ করে দিচ্ছে প্রিয়জনদের আমার এমন নাজুক অবস্থা! মেডিসিন, রুকইয়াহ্ সব চলছে আল্লাহ্ রহমতে। আম্মু,মেজো আপুর উপর খুব প্রেশার যাচ্ছে ওর ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে আবার আয়িশা’ কে সামলানো! আপুর ছেলে আরহাম আর আমার আয়িশা’ ওর দুধ ভাই-বোন! গতকাল মেয়েটা নাকি মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলো সারাদিন খেতে না পেরে আপু এমন হালত দেখে ওকে ফিডিং করিয়েছে। মেয়েটা তবে শান্ত হয়েছে। আহ্ আরহাম ও কেবল সাড়ে ছ’মাসের কতো স্যাক্রিফাইজ এখন থেকেই বোনের জন্য করতে হচ্ছে। আমার মাহরাম শূন্যতায় আমি আপু আলেমের সাথে কথা বলে ওদের দুধ-ভাই বোন হবার ব্যবস্থা করেছি। সুবহানাল্লাহ্।এটাও তো বিশাল বড় রাহমাহ্ মালিকুল মুলক কতো সুন্দর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন আমাদের জন্য! আমি বারবার সূরা রহমানে অত্যধিক ব্যবহৃত আয়াতের কথা স্মরণ হয় ” তুমি তোমার রবের কোন কোন নিয়ামাহ্ অস্বীকার করবে?” রব্বুল আলামীন আমি এতো এতো নিয়ামাহ্ পেয়েছি কি করে অকৃতজ্ঞদের শামিল হই!কোনো কোনো নিয়ামাহ্ উপহার স্বরূপ কোনো কোনোটা পরীক্ষা স্বরূপ! দুটোতেই আল’হামদুলিল্লাহ্।

আব্বু বলতেন অনেক বেশি সম্ভবত সূরা তাওবা থেকে যে বিচার দিবসে যাররা যাররা পরিমাণ হিসেব হবে একচুলও এদিকসেদিক হবে না! তাই হক্বের পথে থাকবে সবসময় সে পথেই চলবে সালাত ও ধৈর্য্য সাথে রেখে যাতে আমাদের আল্লাহ্ সন্তুষ্ট । “সাবরুন জামীল” মা। সবর হতে হবে সুন্দর সবর মা। বিচলিত হয়ো না।তুমি পৃথিবীতে আসার পর হতেই তোমার পরীক্ষা চলছে। তোমার অসুস্থতাতে বারবার ভেবে নিই ছেড়ে দেই আল্লাহর হাওলায়। তুমি আমাদের মাঝ থেকে চলে যাচ্ছো।দুনিয়ার কষ্টই যেন শেষ কষ্ট হয় মা সবসময় এই দু’আ করি।আব্বু আমার মাথার কাছে বসে কতো কতো দু’আ দরুদ পড়তেন! আব্বু নেই তিনবছর হয়ে গেলো! আমার মাথার কাছে উনার দু’আ দরুদ শুনতে পাইনা উনার হাত তুলে মুনাজাত সালাতে কান্নাকাটি আর দেখিনা! উনি তো এখন সবথেকে নিরাপদ আশ্রয়ে আল্লাহর কাছে! উনার বারযাখের জীবনটা খুবই সহজ ও শান্তিপ্রিয় করুন রব্ব।উনিতো তিন মেয়েকে রেখে গেছেন সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে। ইয়া আল ফাত্তাহ্ কবুল করুন আমাদের! এখন আমরা মেয়েরা কে কতো উনার জন্য দু’আ করতে পারি,সাদাকা করতে পারি এটাও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার পক্ষ হতে একটি অফার একটি পরীক্ষা।

মৃত্যু এতো সহজ না তবে মালাকুল মউত আসতে কতক্ষণ বলুন। আমরা কেউই জানিনা কে কখন কোন অবস্থায় কখন মারা যাবো। তাই ভালো কাজে আগামীকালের অপেক্ষা না করে আজই শুরু করি।সালাতে গাফিলতি না করি,কুরআন তিলাওয়াতে অনাগ্রহী না হই, তারতিলের সাথে তিলাওয়াত করি,ফরয পালনে গুরুত্ব দিই,সুন্নাহ্ মেনে জীবনকে ঢেলে সাজাই,পর্দায় উদাসীন না হই,হক্ব আদায়ে হেলাফেলা না করি, মৃত্যুর প্রস্তুতি নিতে থাকি রোজ।খুলুকুল হাসানাহ্ পেতে হবে যে। সুন্দর সন্তোষজনক মৃত্যু চাই।

সকলের কাছে দু’আর মুহতাজ এই গুনাহগারী অধম এক আল্লাহর বান্দীর জন্য। 

লেখকঃ ইসলামী বিষয়ে কলাম লেখক 

লেখকের আরও লেখা পড়ুন- গন্তব্য

 

জীবন কে খুঁজে ফেরোনা জীবন কে খুঁজে ফেরোনাজীবন কে খুঁজে ফেরোনাজীবন কে খুঁজে ফেরোনা

আরও পড়ুন