জুমার ফজিলত ও আমাদের করণীয়

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু! সপ্তাহ ঘুরে আরেকটি শুক্রবার তথা জুমাবার পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ!

সম্মানীত মুসলিম ভাই/বোনেরা। সপ্তাহে সাতদিনের মধ্যে শুক্রবার তথা জুমাবার সর্বশ্রেষ্ঠ দিন এবং সাপ্তাহিক ঈদের দিন। কেননা এই দিনেই সবচেয়ে বেশি নেয়ামত আল্লাহ পাক মানুষকে দান করেন।

তাহলে এই বিশেষ নেয়ামতপুর্ণ দিনে আমাদের কি করা উচিত? এই বিশেষ দিনের ফজিলত ও করনীয় বিষয়ে পু্র্বে আলোচনা করেছি। আজ একটি ভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবো।
শুক্রবারে ইবাদত সংশ্লিষ্ট কাজগুলি বাদ দিলে আমরা আর কি কি করি?
হ্যা! আরও অনেককিছুর তালিকার প্রথম দিকে যে বিষয়টি আমাদের মাথায় ঘুরে তা হলো মার্কেটিং!
কারন বর্তমান সময়ে নারীপুরুষ উভয়ই কর্মব্যস্ত জীবন যাপন করছেন। তাই কর্মক্ষেত্রের সাপ্তাহিক দৌড়ঝাঁপ করে তাদের বেশিরভাগের জন্য এই দিনটি অবশিষ্ট
থাকে পরিবারের অন্যান্য কাজ মার্কেটিং /বেড়ানো ইত্যাদির জন্য। বিশেষত মহিলারা এদিনটিকে তাদের মার্কেটিং এর জন্য নির্ধারণ করে থাকেন।
অনেকেই ভাবছেন, তাতে কি সমস্যা? মহিলাদের জন্য তো জুমার নামাজ আবশ্যকিয় নয়!
আমি আপনাদের অনুরোধ করবো জুমাবার সম্পর্কে মহান আল্লাহর নির্দেশ সঠিকভাবে জানার জন্য।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদকরেছেনঃ-

“হে মুমিনগণ!
জুমার দিনে যখন (জুমার)
নামাযের আজান দেওয়া হয়,
তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের
দিকে ছুটে যাও এবং
বেচাকেনা বন্ধ কর।
এটা তোমাদের জন্যে উত্তম,
যদি তোমরা বুঝো।”
(সুরা জুমুআ, আয়াত :০৯)

কি বুঝলেন? আল্লাহর নির্দেশ যদি বুঝে থাকি তাহলে আমাদের উচিত হবে জুমাবারে (অন্তত জুমা নামাযের সময়) মার্কেট বর্জন করা। কারন স্বয়ং আল্লাহ বলছেন:

‘এটি তোমাদের জন্য উত্তম ‘

এটা কোন কথার কথা নয়! মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে প্রচ্ছন্ন সাবধানবাণীও বটে।

চিন্তা করে দেখুন এই দিনে আমরা মহিলারা বেশীরভাগ মার্কেটে গিয়ে পরোক্ষভাবে অনেক ভাইদের জুমা নামায ত্যাগ করার কারন হয়ে দাঁড়াই! নিজেদের অজান্তে আমরা নিজেদের সাথে সাথে আরও কত ভাইদের এদিনের ফজিলত থেকে বঞ্চিত করার কারন হই। আবার নিজেরাও এদিনের ফজিলত পাই না। মার্কেটে এদিনে অধিক লোক সমাগমের ফলে দোকানদারদের অনেকেই নামায ত্যাগ করে বিক্রিবাটায় নিয়োজিত থাকে। অথচ আমরা যদি একটু সচেতন হই অর্থাৎ এ সময়টিতে যদি আমরা মার্কেট বর্জন করি তাহলে অটোমেটিক দোকান কর্তৃপক্ষও এ সময়ে কেনাবেচা বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে।

হয়ত অনেকেই বলবেন এদিন ছাড়া তারা অবসর পান না। তাদের সলিউশনও মহান আল্লাহ ঐ একই সুরার পরবর্তী আয়াতেই রেখেছেন।

“সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে ও আল্লাহর অনুগ্রহের সন্ধান করবে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও।”
(সুরা জুমুআ, আয়াত :১০)

অর্থাৎ জুমুআর নামাযের পরে তোমরা প্রয়োজনীয় দুনিয়াবি কাজ করলে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করতে সক্ষম হবে।

এবারে সুরা আনআমের ৩২ নম্বর আয়াতের অর্থের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই আয়াতে বলা হয়েছে:

“পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ছাড়া কিছুই নয়। পরকালের আবাস পরহিজগারদের জন্যে শ্রেষ্টতর। তোমরা কি চিন্তা-ভাবনা কর না ?

কাজেই আসুন, আমরা আজ থেকে জুমার নামাযের সময়গুলিতে নিজেদের দুনিয়াবি কাজ সমুহ বর্জন করে
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে অধিক লাভবান হওয়ার চেষ্টা করি।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত ও হেফাজত করুন এবং সেই সাথে আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন

লেখকঃশাহিন আক্তার, সাহিত্যিক ও প্রবন্ধকার।    r

আরও পড়ুন