পথের যখন শুরু

নারীমুক্তির পথ-১

সা জি দ

—ইসলাম পূর্বযুগে একজন নারী ছিলো শুধুমাত্র ভোগের পণ্য। যখন যেভাবে চাইতো ভোগ করতো। নিজ স্ত্রীকে বানাতো খেলার পণ্য। বাজি ধরতো স্ত্রীকে। উপহার হিসেবে বউকে দিয়ে দিতো। কন্যা সন্তান জন্মালে তা নিজের জন্য অভিশাপ ভাবতো। যার পরিনাম হতো ‘জীবন্ত দাফন।’

কিন্তু ইসলাম নারীকে মর্যাদা দান করলেন। বলা হলো যার দু’টি কন্যা সন্তান হবে, এবং সে তাকে সাবালিকা হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে লালন পালন করলো সে জান্নাতে যাবে। অন্যত্র বলা হয়েছে, যার কন্যা সন্তান জন্মালো অতঃপর সে তাকে কষ্ট দেয়নি, অসন্তুষ্ট হয়নি এবং পুত্রসন্তানকে তার উপর প্রাধান্য দেয়নি। সে সেই মেয়ের কারণে জান্নাতে যাবে।

—আচ্ছা থাম। শান্তিকে থামতে বলে জান্নাত। আচ্ছা তুই যে এতো ফজিলতের কথা বললি, এর সবই তো পিতার জন্য। এতে মেয়ের মর্যাদাটা কোথায়?
—আচ্ছা তুই গতবারের ফুটবল বিশ্বকাপ দেখেছিস?
—হুম দেখেছি। কিন্তু এর সাথে মেয়ের মর্যাদার কি সম্পর্ক।
—আচ্ছা বল তো ফাইনালে কারা হেরেছিলো?
—ক্রোয়েশিয়া।
—তুই জানিস, তারা যখন বিশ্বকাপ খেলে দেশে ফিরলো তখন তাদের দেশের হাজার হাজার জনগণ তাদের অভিনন্দন জানানোর জন্য এয়ারপোর্টে এসে উপস্থিত হয়েছিলো।
—হ্যাঁ তো!
—বল তো তারা কেন তাদের এতো সাপোর্ট দিলো, কেন তারা এতো খুশি হলো?
—তারা খেলে, তাদের দেশের সম্মান বাড়িয়েছে, তাদের সম্মান বাড়িয়েছে। তাই।
—আচ্ছা এতে কি খেলোয়াড়দের সম্মান বাড়েনি?
—অবশ্যই বেড়েছে।
—কতটুকু?
—অনেকটাই।
—তাদের কারণে তাদের দেশ, জনগণ সম্মানিত হলো, এটা বললে কি বুঝা যাবে তারা সম্মানিত হয়নি?
—না।
—তাহলে এখানে কেন এমন ব্যাখ্যা হবে যে, তাদের কারণে পিতা সম্মানিত হলেও তারা সম্মানিত হবে না?

—তাছাড়া তিনি এই মর্যাদার কথা বলেছেন কারণ তিনিও একজন মেয়ের পিতা ছিলেন।
—তিনার তিনটি পুত্রসন্তান জন্মেছিলেন। মেয়ে চারজন। তিনি তো নিজেও একজন পুরুষ ছিলেন, তারপরও কেন বললেন না ‘পুরুষ সন্তানকে লালন পালন করলে জান্নাতে দেওয়া হবে?’
—মানলাম, কিন্তু দেখ! ইসলাম কন্যা সন্তান দিয়ে পরিক্ষার কথা বলেছে, আর পরিক্ষা তো বিপদাপদ দিয়েই করা হয়, তাই নয় কি?
—আচ্ছা তোর বলা সেই হাদিসটি দেখ, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একটি স্ত্রীলোক দু’টি মেয়ে সাথে নিয়ে আমার কাছে এসে কিছু চাইলো। আমার কাছে একটি খুরমা ব্যতীত আর কিছুই ছিলো না। আমি তাকে ওটা দিলাম। স্ত্রীলোকটি তার দু’মেয়েকে খুরমাটি ভাগ করে দিল। তারপর সে উঠে বের হয়ে গেল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। আমি তাঁকে ব্যাপারটি জানালাম। তখন তিনি বললেন “যাকে এ সব কন্যা সন্তান দিয়ে কোন পরীক্ষা করা হয়,” অতঃপর সে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে, এ কন্যারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে প্রতিবন্ধক হবে।’ এখন তুইই বল এখানে কি বলা হলো ‘কন্যা সন্তান মানেই পরিক্ষা?’

এখানে একজন মহিলার কথা বলা হয়েছে যার দু’টি মেয়ে ছিলো। কিন্তু সে অর্থনৈতিকভাবে গরিব ছিলো। তার জন্য এটা অবশ্যই একটা পরিক্ষা ছিলো। ওটাকে দলিল করে ‘মেয়েদের পরিক্ষা বলা হয়েছে’ এমন বলা কোন বুদ্ধিদীপ্ত কাজ হতে পারে না। এই! আম্মা ডাকছে, আমি যাই। ভার্সিটিতে কথা হবে।
—আচ্ছা যা।
জান্নাতের যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না, এভাবে দলিল দেওয়া শুধু ইসলাম ধর্মের ক্ষতির জন্য! কিন্তু আরো তো কিছু বিষয় আছে, দেখি শান্তি সে বিষয় কি বলে!

লেখকঃ সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

 

আরও পড়ুন