প্রদীপ্ত পথের সন্ধানে

নুসাইবা; ইসলামেই নারীর মুক্তি |১|

সাজিদ আব্দুল্লাহ

—ইসলাম পূর্বযুগে একজন নারী ছিলো শুধুমাত্র ভোগের পণ্য। বাজার বসতো নারী বিক্রির। লুটপাট করে কাফেলার নারীদের বিক্রি করা হতো মানঅনুযায়ী। নারীদের সস্তা ভাবা হতো। যখন যেভাবে চাইতো ভোগ করত পারতো। নিজ স্ত্রীকে বানাতো খেলার পণ্য। বাজি ধরতো স্ত্রীকে। উপহার হিসেবে বউকে দিয়ে দিতো। কন্যা সন্তান জন্মালে তা নিজের জন্য অভিশাপ ভাবতো। পরিনামে জীবন্ত দাফন করা হতো। এমনই ছিলো ইসলামপূর্ব নারীর সম্মান।
—আচ্ছা থাম। তুই যে এসব বলছিস এর কি কোনো প্রমাণ আছে তোদের কোরআন ছাড়া?
শান্তিকে থামিয়ে প্রশ্ন করে নুসাইবা।
—নুসাইবা! প্রথমত দলিল আমাদের কাছে কোরআনই যথেষ্ট। কিন্তু তোকে বুঝানোর জন্য অমুসলিম এবং নাস্তিক ঐতিহাসিকদের কথাগুলোই যথেষ্ট।
রবার্ট স্পেন্সার, স্যার উইলিয়াম মুর, গীবন, তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেন, ইসলাম পূর্ব আরব ছিলো রুক্ষ। নারীদের জন্য হিংস্রতা আর ভীতির এক কলংকময় ইতিহাস। নারীদের নারী কম পণ্য ধরা হতো অধিক। রুক্ষতা ছিলো তাদের প্রতি পুরুষদের চিরাচরিত অভ্যেস। তাদেরকে অর্থের বিনিময় হিসেবে বন্ধক রাখা হতো। কন্যা সন্তান হলে জীবন্ত দাফন করা হতো। (1)
কিন্তু দেখ! ইসলাম নারীকে মর্যাদা দান করলেন। বলা হলো যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তানকে লালন-পালন করলো, তাদেরকে আদব শিক্ষা দিলো, বিয়ে দিলো এবং তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করলো, তার জন্য রয়েছে জান্নাত।
(আবু দাউদ ৫১৪৬)
অন্যত্র বলা হলো, যার কন্যা সন্তান জন্মালো অতঃপর সে তাকে কষ্ট দেয়নি, অসন্তুষ্ট হয়নি এবং পুত্রসন্তানকে তার উপর প্রাধান্য দেয়নি। সে সেই মেয়ের কারণে জান্নাতে যাবে।
(বোখারী শরীফ ৫৯৯১)
—আচ্ছা, তুই যে এতো ফজিলতের কথা বললি, এর সবই তো পিতার জন্য। এতে মেয়ের মর্যাদাটা কোথায়?
—আচ্ছা নুসাইবা, তুই খেলা দেখিস?
—হুম দেখি।
—খেলায় জিতলে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন কেন জানাস?
—তারা আমাদের দেশকে, দলকে রিপ্রেজেন্ট করছে সকলের সামনে। দেশের সম্মান বাড়াচ্ছে। সেজন্য।
—আচ্ছা এতে কি খেলোয়াড়দের সম্মান বাড়ে?
—হুম।
—কতটুকু?
—অনেকটাই।
—আচ্ছা তাহলে দেখা গেলো যার জন্য কেউ সম্মানিত হয় সে নিজেও সম্মানিত।
—হুম।
—তাহলে এখানে কেন এমন ব্যাখ্যা হবে যে, তাদের কারণে পিতা সম্মানিত হলেও তারা সম্মানিত হবে না?
—শান্তি! আসলে কি জানিস, মুহাম্মদ এই মর্যাদার কথা বলেছেন কারণ তিনিও একজন মেয়ের পিতা ছিলেন। অন্যথায় কখনও বলতেন না।
—নুসাইবা! এটাও তোর ভুল ধারণা। তিনজন পুত্রসন্তান জন্মেছিলো তাঁর। মেয়ে চারজন। তিনি তো নিজেও একজন পুরুষ ছিলেন, তারপরও কেন বললেন না ‘পুরুষ সন্তানকে লালন পালন করলে জান্নাতে দেওয়া হবে?’
—এটা ছাড়াও ইসলাম কন্যা সন্তান দিয়ে পরিক্ষার কথা বলেছে, আর পরিক্ষা তো বিপদাপদ দিয়েই করা হয়, তাই নয় কি?
—আচ্ছা তোর বলা সেই হাদিসটি দেখ, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি স্ত্রীলোক দু’টি মেয়ে সাথে নিয়ে আমার কাছে এসে কিছু চাইলো। আমার কাছে একটি খুরমা ব্যতীত আর কিছুই ছিলো না। আমি তাকে ওটা দিলাম। স্ত্রীলোকটি তার দু’মেয়েকে খুরমাটি ভাগ করে দিল। তারপর সে উঠে বের হয়ে গেল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। আমি তাঁকে ব্যাপারটি জানালাম। তখন তিনি বললেন ‘যাকে এ সব কন্যা সন্তান দিয়ে কোন পরীক্ষা করা হয়’ অতঃপর সে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে, এ কন্যারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে প্রতিবন্ধক হবে।’
(বোখারী শরীফ ৫৯৯৫)
এখন তুইই বল এখানে কি বলা হলো ‘কন্যা সন্তান মানেই পরিক্ষা?’
এখানে একজন মহিলার কথা বলা হয়েছে যার দু’টি কন্যা সন্তান ছিলো। কিন্তু সে অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল ছিলো। দু’জন কন্যা সন্তান লালন পালন করা তার জন্য অবশ্যই একটি পরিক্ষা ছিলো। ওটাকে দলিল করে ‘মেয়েদের পরিক্ষা বলা হয়েছে’ এমন বলা যায় না।
নুসাইবা! আম্মা ডাকছে, আমি যাই। ভার্সিটিতে কথা হবে।
—আচ্ছা যা।
নুসাইবার যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না— শান্তি তাকে এমন ব্যাখ্যা করে শুনাবে। তবে শেষ হয়নি। আরও অনেক কথাই জমা আছে নুসাইবার কাছে। আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করবে।

1-Badruddoza, Muhammad(sm): His Teachings and Contribution, p.39.; (Islamic Foundation, Agargaon, Sher-e-Bangla Nagar, 6th edition, 2009
Robert Spencer, The Truth About Muhammad, p.34; (An Eagle Publishing Company, Washington, DC, 2006).
Sir William Muir, Life of Mahomet, p.509, london,1858.

আরও পড়ুন