বান্দার হক সম্পর্কে আমরা কি সচেতন?

অন্যের দেওয়া আঘাতে আমাদের অন্তর ভারী হয়।আমরা তাকে অভিশাপ দেই।এক পৃথিবী অভিযোগ চেপে হয়তো ক্ষমাও করে
দেই কখনো কখনো।

অন্যের শত্রুতা থেকে বাঁচার জন্য অনেক দোয়া আর আমল হয়তো আমরা করি।কিন্তু আমার দ্বারা যেনো কারো কোনো ক্ষতি না হয়,কেউ যেনো কষ্ট না পায়,আমার জন্যে যেনো কারো সম্মানহানি না হয়, সে ব্যাপারে কি আমরা সচেতন?

আমরা মানুষেরা খুব সহজেই বিরক্ত হই। নিজেদের মেজাজ ধরে রাখা আমাদের জন্যে বড্ড কঠিন।খুব সহজেই কাউকে দু’কথা
শুনিয়ে আমরা নিজেদের বিজয়ী মনে করি। আমাদের এই অকারণ বিরক্তি অনেককেই কষ্ট দেয়।

আমরা শুধু বিনোদনের জন্যেই অন্যকে নিয়ে উপহাস করতে পছন্দ করি, তর্কে জিততে অন্যের দুর্বলতা নিয়ে খোঁটা দেই, গালি দেই।অন্য মানুষটার কষ্ট, তার মন খারাপের কথা খুব কমই ভাবি আমরা।

আশেপাশের মানুষের মনে হয়তো আমাদেরই কারণে কিছু কষ্ট জমা হয়ে আছে! না জানি কার মনের গহীনে জমা আঘাতের চিহ্ন আখিরাতে আমার পাল্লা হালকা করে দেয়!

আবু সাঈদ খুদরী [রা] থেকে বর্ণিত,,একজন মানুষ রাসূল (স.)-এর নিকট এসে বলল, সর্বোত্তম মানুষ কে?
আল্লাহর রাসূল (স.) বলেন, ‘সেই মু’মিন যে নিজ জান ও মাল দিয়ে আল্লাহ্র পথে জিহাদ করে।
সাহাবীগণ বললেন, ‘অতঃপর কে?’ তিনি বললেন, ‘সেই মু’মিন আল্লাহর ভয়ে যে পাহাড়ের কোন গুহায় অবস্থান নেয় এবং
স্বীয় অনিষ্ট থেকে লোকদেরকে নিরাপদ রাখে।

আহ! এই জঘন্য কষ্টদায়ক ফিৎনাময় সমাজ থেকে অনেক দূরে কোনো নির্জন গুহা বা গহীন পাড়াগাঁয়ে গিয়ে যদি সত্যিই জীবন
সাজানো যেতো! শুধু চাষবাস আর আল্লাহ তা’আলার সহজ কিছু ইবাদাত করে দিন কাটানো যেতো! যেখানে আমাকে চেনার মতো কেউ থাকবেনা,লোক দেখানো ইবাদাতের ভয় থাকবেনা,, আমার কারণে কেউ কষ্ট পাবেনা,না আমি কারো কারনে বিষণ্ণতার দীর্ঘশ্বাস ফেলবো।

আজ মানুষ নামাজ রোজা হজ্জ জুব্বা পাগডী নিয়ে ব্যস্ত কিন্ত আখলাকের কোন খবর নেই। প্রতিবেশী,আত্মীয় স্বজন কিম্বা অফিস কলিগ কারো কাছে কারো সম্মান নিরাপদ নেই,মাল সম্পদ নিরাপদ নেই।সারাক্ষন গীবত শেকায়েত পরনিন্দা নিয়েই সময় কাটে। কেউ কারো বিপদে সাহায্য করে তো না-ই উপরন্তু পারলে আত্মগোপন করে।এগুলো বান্দার হক।

বান্দার হক থেকে তাকে বন্চিত করলে কেয়ামতের দিন আমলনামার সওয়াব দিয়ে তা পরিশোধ করতে হবে। সেটা হবে চরম ট্রাজেডি।আমরা কি সেরকম অসহায় অবস্থা কল্পনাও করতে পারি।আল্লাহ ক্ষমা করুন।দু’টি হাদীস শুনুন-

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়।” জিজ্ঞেস করা হল, ‘কোন্ ব্যক্তি? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকে না।”
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না। (বুখারী ৬০১৬, মুসলিম ১৮১ নং)

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! অমুক মহিলা বেশী বেশী (নফল) নামায পড়ে, সিয়াম রাখে ও দান-খয়রাত করে বলে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু সে নিজ জিভ দ্বারা (অসভ্য কথা বলে বা গালি দিয়ে) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। (তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি বললেন, “সে দোযখে যাবে।” লোকটি আবার বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! অমুক মহিলা অল্প (নফল) নামায পড়ে, সিয়াম রাখে ও দান-খয়রাত করে বলে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু সে নিজ জিভ দ্বারা (অসভ্য কথা বলে বা গালি দিয়ে) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। (তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি বললেন, “সে বেহেশ্তে যাবে।” (আহমাদ ৯৬৭৫, ইবনে হিব্বান ৫৭৬৪, হাকেম ৭৩০৫, সহীহ তারগীব ২৫৬০ নং)

লেখকঃ সামশ জামান, কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন