উপলব্ধির জায়গা থেকে – ৩

সালমা তালুকদার

আমার টাকা নেই কিন্তু নীতি নৈতিকতা আছে। আমার যে টাকা নেই তবু আমি কোনোদিন অভাবে ছিলাম না। কারন সৃষ্টিকর্তা সবাইকেই রিজিক দিয়ে পাঠিয়েছেন দুনিয়ায়। কেউ কারো রিজিক নিয়ে যেতে পারে না। সবাই যার যার নিজের রিজিকেই বেঁচে থাকে। যদি কেউ বলে আমি তোমাকে খাওয়াচ্ছি, তার সাথে কথা না বাড়ানোই ভালো। কারন সে মূর্খ।

যা বলছিলাম…চাইলেই টাকা রোজগার করা যায়। কিন্তু চাইলেই মনুষ্যত্ব অর্জন করা যায় না। ভালো কাজে যদি মেধা ব্যয় করা যায় তাহলে কাগজের নোটের কখনো অভাব হয় না। হ্যা এটা বলতেই পারেন প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা অনেকে পান না। আচ্ছা আলহামদুলিল্লাহ কয়বার উচ্চারণ করেছেন? মানে যখন যে অবস্থায় আছেন সে অবস্থাকে হাসিমুখে কয়জন বরণ করে নিয়েছেন?

আমি এমন মানুষকে দেখেছি টাকার বিছানায় শুয়েও বলে টাকা নাই। আবার এমন মানুষকেও দেখেছি তার নিজের কর্মগুনেই হয়তো আগের চেয়ে তার আর্থিক অবস্থা ভালো। তবু জিজ্ঞেস করেন কেমন আছে? আপনাকে গাদা খানেক কষ্টের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে।

এবার আমার একটা কথা শেয়ার করি। চাকরীর জন্য বহু জায়গায় বহুবার ধর্ণা দিয়ে চোখের দ্বারা…মুখের কথার দ্বারা বহুবার ধর্ষিত হয়েছি। অনেকে চাকরীর আশ্বাস দিয়েও শেষ পর্যন্ত ভুলে গেছে কথা দিয়েছিল। অবশ্য পাশাপাশি নিজের চেষ্টা অব্যাহত ছিল। পরে দেখলাম জীবনে যা কিছু করেছি নিজের যোগ্যতায় করেছি। খুব বেশি টাকা আমার নেই। তবে কোনোদিন অভাবেও ছিলাম না। এবং এখন অন্তত বলতে পারবো কিছু করে পেট চালানোর মত যোগ্যতা আমার নিজেরই আছে। মাঝখান থেকে মানুষ চিনেছি। যা খুবই জরুরি। চোখে দেখে কানে শুনে উপলব্ধি করে তবেই এগুলো লিখি।

একটা মানুষের বেঁচে থাকতে কয় টাকা লাগে! বিলাসিতা একপাশে সরিয়ে রেখে দেখেন খুব বেশি কিন্তু লাগে না। শুধু শুকরিয়া আদায় করতে হবে। মানুষ টাকা ইনকামের চিন্তায় মনুষ্যত্ব কি সেটা ভুলে গেছে। অথচ ওটাই বেশি জরুরি। একটা সুন্দর পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র গঠনে নিজেকে ও নিজের পরিবারের সবাইকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাটা ভীষন জরুরি। নিজের হাত, পা, মেধা কাজে লাগিয়ে একটু পরিশ্রম করলেই টাকা ইনকাম করা যায়। কিন্তু টাকা দিয়ে নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায় না। কর্মেই শান্তি…কর্মেই ভালো থাকা…কর্মেই মানুষের বেঁচে থাকা….

সালমা তালুকদার কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন