যৌনতার ধর্ষণ না ক্ষমতার ধর্ষণ

শরীফ হোসেন 

নারী এবং পুরুষ পরস্পর যৌনতা দ্বারা আবদ্ধ। প্রকৃতিগতভাবে পরস্পরের প্রতি শারীরিক চাহিদা বিদ্যমান। মানুষ সৃষ্টির পর হতে কোন সময় অসভ্য ছিল না। আদম ও হাওয়া আঃ এর সন্তানদের মধ্যেও যৌনতার একটা সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া ছিল। আমার আলোচ্য বিষয় ধর্ষণ হলেও মৌলিক কিছু বিষয় না বললেই নয়। নারী এবং পুরুষ পরস্পরের প্রতিযোগী নয়। প্রতিযোগিতা শব্দের সঙ্গে পরস্পরকে টেক্কা দেওয়ার বিষয় জড়িত থাকে। এতে অবশ্যই একজনকে হারতে হয় আরেকজনকে জিততে হয়। দুটি পক্ষ যুদ্ধ করে প্রতিযোগিতায় ভিত্তিতে। এটি একজনকে ধ্বংস হতে হয় আরেকজনকে বিজয়ের হাসি হাসতে হয়। শুধু নারী পুরুষ কেন পৃথিবীতে সব মানুষ কি সব মানুষের প্রতিযোগি। নাহ্, তাহলেতো পৃথিবী চলতো না। বনে বাঘ বা সিংহ তার প্রতিযোগী সবাইকে ধ্বংস করে ফেলে/সবাইকে হত্যা করে।

আমাদের দেশের নারী নেত্রীরা পুরুষ-নারী পরস্পর পরস্পের প্রতিযোগী তৈরী করে দিয়েছে। স্বভাবত পুরুষ তার ক্ষমতাবলে নারীকে দমন করছে এবং সম্ভবত সেটা বেশি হয় এই নারী নেতৃদের উচ্চবৃত্ত পরিবারে এবং আইনকে যারা কম তোয়াক্কা করে সেই নিম্ন বৃত্ত পরিবারে। নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্তে এটা কম।

নারী একটা সম্মানের বস্তু। নারীর সব চাইতে বড় ক্ষমতা সে পৃথিবীকে চলমান রেখেছে। নারী যেদিন বলবে আমি আর সন্তান ধারন করবো না পুরো বিশ্ব মুখ থুবড়ে পড়বে। বিশ্ব সভ্যতা ধ্বংস হয়ে পড়বে। এই একটি ক্ষমতার জন্যই তো সমস্ত বিশ্বের সম্পদ নারীর পদতলে ঢেলে দেওয়া যায়। তারাই সভ্যতার ধারক। ইসলাম কেন নারীকে এত উপরে মর্যাদা দিয়েছে বুঝেছেন? আদম ও হাওয়া (আঃ) জান্নাত হতে বহিস্কৃত হলেো তার(হাওয়া) শাস্তি শিথিল ছিল, কারণ তার সম্মান। পৃথিবীর আবহমান কাল হতে নারীর সম্মান রক্ষা পুরুষ জাতির অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। সমাজ সভ্যতার কিছু কুরুচিপূর্ন লোক থেকেই যাবে।

সম্প্রতি আমাদের দেশে ধর্ষণ একটি মহমারী আকার ধারন করেছে। ধর্ষণ বন্ধে সভ্য জাতি হিসেবে যখন এসব কুকুরদের শায়েস্তা করতে যাবো তখনই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে ধর্ষণ কেন হয়, সেটা কি পোষাকের কারণে????? আমার জানামতে এ প্রশ্ন সাধারন মানুষ কেউ করেনি। যারা করেছে ১. মিডিয়ার নারীরা (যারা শরীর বিপণন করে চলে, বিভিন্ন সময়ে মি টু দিয়ে তারাই প্রমান করেছে এখানকার বিনিময় মাধ্যম শরীর) ২. নারী নেতৃ (যারা সমাজ সভ্যতাকে মানতে চায়না।তারা পরিবারকে অভিশাপ মনে করে)।

এখন দেখি পোষাক কি আসলেই ধর্ষণের জন্য দায়ী? নারীর কমনীয়তা,সৃষ্টিগত দৌহিক বৈশিষ্ট্য বৈধ সীমার মধ্যে পুরুষকে আকৃষ্ট করে বলেই সমাজ, সভ্যতা টিকে রয়েছে। এই আকর্ষণ শেষ হলে সভ্যতার পতন হবে। সমস্যা হচ্ছে এই সীমা নিয়ে। যারা পোষাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাদের জন্য খুলে বলতে হয়। নারীর দেহের প্রকাশিত অংশ দ্বারা জন্মগতভাবে পুরুষ আকর্ষণ অনুভব করে বলেই আপনি এগুলো খুলে বেড়ান। সমস্ত নায়িকা হট হতে হলে এগুলো খুলতে হয়। সেই দেখাদেখি অন্য নারীরাও পুরুষদের জন্য হট হয়ে উপস্থাপিত হন। পুরুষের যৌন অঙ্গ একটি এবং সেটা কেউ প্রকাশ করলে পুরুষ বা নারী উভয়ে লজ্জা পায়।

এই হট নারী এত বেশি সহজলভ্য হচ্ছে যে যুবকেরা বিপথগামী হচ্ছে। কিন্ত এসব হটদের ভোগ করার ক্ষমতা এই পুরুষের নেই। তাই স্বভাবত সে তার সামনের দূর্বল যাকে পায় যেমনঃ দরিদ্র মহিলা, শিশু,কাজের মেয়ে,বিশ্ববিদ্যালযে বড়ভাই হিসেবে সেখানকার ছাত্রী কিংবা অন্যকোনভাবে দূর্বল নারীকে। সম্প্রতি সেই বেশি ক্ষমতার সাথে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক সুপার পাওয়ার। যাকে কেউ স্পর্স করার ক্ষমতা রাখে না। এই জন্যই কিন্ত ক্ষমতাশালী হটরা আপোষে দেহদান করে তাদের কেউ জোর করে কিছু করতে পারে না (কারণ তার ক্ষমতা আছে)।
এখন তাহলে কি পোষাকের কারনে তারা যাকে পাবে তাকে ধর্ষণ করবে আর আমরা মেনে নেব। অবশ্যই না। আর এ জন্য এসব পশুদের দমন করার সাথে সাথে উৎস নির্মূল জরুরী।

১৩ অক্টোবর, রাত ৭.৩০  এ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের সামনে ছিলাম। একজন ছেলে ও মেয়ে বয়স ২০-২২ বাইকে চড়ে সুখানুভুতি শেয়ার করছে (কাজটা অবশ্যই খারাপ) কিন্ত দূর্ভাগ্যক্রমে সে এক নেতার মটর সাইকেলকে ক্রস করলো। আর যাই কোথায়। সঙ্গে সঙ্গে নারী আকর্ষনে সেই নেতা এই জুটিকে দ্রুত বাইক চালিয়ে ধরে থ্রেড শুরু করলো (সে যেহতু বুঝেছে এটা তার এলাকা আর এরাও মজা লুটছে)। আমি আতঙ্কিত হয়ে এদের পিছু নিলাম কোন অঘটনের ভয়ে। সময় খারাপ না গেলে নেতারা এমন দূর্বল নারীদেরও ধর্ষণের বহু রেকর্ড আছে।
আমাদের দেশে নোয়াখালির তাহের হত্যাকান্ডের বিচারের রায় হয়ে বাস্তবায়ন হয়নি, পাবনার গামা হত্যাকান্ডের রায় বাস্তবায়ন হয়নি, নোয়খালীর প্রিন্সিপাল সিরাজের রায় সেই পথের দিকে।

আপনি যাই বলুন যৌনতার চাইতে ক্ষমতার ধর্ষণটাই বেশি। তুমি দূর্বল ক্ষমতাহীন আমি করলাম পারলে ঠেকাও, এটাই এখানকার বাস্তবতা।

পশ্চিমা সভ্যতা অনেক নগ্ন তারাও হট দ্বরা আন্দোলিত হয় কিন্ত তাদের রাষ্ট্রের বক্তব্য আপোষে যেখানে যা ইচ্ছা করো, পতিতালয় আছে, পর্ন ইন্ডাস্ট্রি আছে কোন সমস্যা নেই। কিন্ত এর বাইরে কিছু করলে জীবন নাশ। এখানে ক্ষমতার ধর্ষণ নেই। তাই তারা নিরাপদ। রাত ৩ টায় একা নারী চলে পুলিশের সাহসে। এখানে পুলিশও সেই ক্ষমতার কান্ডারী তারাও এমন নারীকে ধর্ষণ করে।

১৩ অক্টোবর, ২০২০
পশ্চিম ধানমন্ডি

লেখকঃ কলাম লেখক 

আরও পড়ুন