সুগার ড্যাডি-সুগার বেইবিঃ আধুনিক সাংস্কৃতিক দাসপ্রথা

মুনযির এম সা’দ

সুগার ড্যাডি- সুগার বেইবি সম্পর্কে আমরা তো কম বেশী অনেকেই জানি। বাংলাদেশের মিস ইউনিভার্স প্রোগ্রাম এর তানজিয়া মিথিলা কিংবা ইউটিউবে মডেল মারিয়ার সাক্ষাৎকার এসবই সুগার ড্যাডি ইস্যুকে উসকে দিয়েছিল। এসবকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশী আলোচিত হয় ইউটিউব ভিত্তিক Change TV তে বিশিষ্ট সাংবাদিক আমিরুল মোমেনীন মানিকের করা স্টোরি অব ফায়ারে “বাংলাদেশে সুগার ড্যাডিদের মায়াবী ফাঁদে সুন্দরী তরুণীরা” শিরোনামে বাংলাদেশে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক নারী-পুরুষের সম্পর্ককে।

সুগার ড্যাডি, সুগার বেইবি সম্পূর্ণ অর্থ ভিত্তিক সম্পর্ক।  আগেকার যুগে ধনী ব্যক্তিরা টাকা হলেই যেমন অনেকগুলো সুন্দরী দাসী কিনে নিজেদের আমুদ ফুর্তি করতো তার আধুনিক ভার্সন হলো সুগার ড্যাডি সংস্কৃতি।

সুগার ড্যাডি- সুগার বেইবি পাওয়া যায় এমন অনেক গুলো ওয়েবসাইটে ভিজিট করে দেখা যায়।  বেশীরভাগ সুগার ড্যাডিই তাদের বাড়তি আনন্দ ফুর্তির জন্য এসব সুগার বেইবি পুষে থাকে। বাংলাদেশে এই সংস্কৃতি নতুন। তবে দূর্বল নয়। যার প্রমাণ সুন্দরী মডেল মিথিলা, পরীমনি থেকে শুরু করে আজকের মোশারাত জাহান মুনিয়া।

সুগার ড্যাডি টাকা দিয়ে রূপ/ যৌবন খরিদ করে আর সুগার বেইবি রূপ/যৌবন দিয়ে আভিজাত্যের জীবন খরিদ করে। ইউরোপ- আমেরিকা ভিত্তিক ওয়েবসাইটে আপনি যদি সুগার ড্যাডি কিংবা সুগার মম হতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট দিতে হবে অন্যদিকে সুগার বেইবি গার্ল অর বয় হতে চাইলে দিতে হবে আপনার তারুণ্যের প্রমাণ।  যার উপর ভিত্তি করে মধ্যযুগীয় লেনদেনটা সম্পূর্ণ হবে। আর এটি সম্পূর্ণ সাময়িক চুক্তি।

কেউ ট্রাভেল পার্টনার খুজে, কেউ অবসর পার্টনার আবার কেউ স্বামী কিংবা স্ত্রীর অনুপস্থিতি নিতান্তই জৈবিক কারণে সুগার ড্যাডি বা সুগার বেইবির দ্বারস্ত হয়। আর এ ক্ষেত্রে সুগার ড্যাডি বা সুগার মমের সর্বনিম্ন বয়স ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০/৯০ হতে পারে। অন্যদিকে সুগার বেইবি সর্বনিম্ন ১৪ থেকে সর্বোচ্চ ৩০/৩৫ কিংবা কতিপয় ক্ষেত্রে আরও বেশী হতে পারে।

বাংলাদেশে সুগার ড্যাডি সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক ধনী শ্রেণী। এটা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত । যারা ইউরোপের সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন পার্টিতে নিজেদের ব্যবসায়ীক স্বার্থে স্বীয় স্ত্রীকে অন্যের হাতে তুলে দেয় এদের কাছে এর চেয়ে আর কি আশা করা যায়। আর এদের প্রমোটার কারা? নিশ্চয় মটিবেশনাল প্রাণী। 

আমি একটা স্কুলের নাম বেচে খাওয়া এমন অনেককে দেখেছি আকারে ইংগিতে এই সংস্কৃতিকে উস্কে দিচ্ছে। আর ভুক্তভোগী?  আমার আপনার মতোন মধ্যবিত্ত শ্রেণি। যারা বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে। যাদের কেউ কেউ আঙুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

তারা আপনাকে রক্ষিতা বানাতে চায়। সাময়িক ফুর্তির খোরাক বানাতে চায়। এজ লাইক কন্ট্রাক্টেড প্রস্টিটিউট। আপনি এর বেশী স্বপ্ন দেখেন। যেটা হওয়ার নয়। জোর করবেন? তাহলে মুনিয়াকে দেখুন।

আমার মেসেজটি যদি তারপরও না বুঝেন তবে বলবো,- “এই তরিকা, ঐ তরিকা ইভ্যালিতে সাইক্লোন, এই তরিকা ঐ তরিকা ইভ্যালিতে স্বপ্নপূরণ “।। 

আরও পড়ুন