রাতে একত্রে আহার করলে যেভাবে উপকৃত হবে আপনার সন্তান

আব্দুল্লাহ আরমান

আমেরিকার প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা  ওয়াশিংটন পোস্ট (The Washington Post) এ হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের (Harvard medical school)  প্রফেসর ও ফ্যামিলি থেরাপিস্ট আন্নি ফিশেল (Anne Fishel) এর একটি আর্টিকেল পড়ে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছি!!

একসাথে ডিনার করার বৈজ্ঞানিক উপকারিতা বিষয়ে গবেষনাধর্মী এ লেখনিতে তিনি অবাক করা কিছু তথ্য দিয়েছেন! ২০ বছর ধরে উত্তর আমেরিকা,ইউরোপ,অষ্ট্রেলিয়ায় গবেষণার ফলাফল হিসেবে একসাথে রাতের খাবার (ডিনার) খাওয়াকে  তিনি শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও আত্মিক উন্নয়নের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাতের খাবার একসাথে খাওয়ার উপকারিতা বিস্তারিত বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন…

 মস্তিষ্কের খাদ্য (Brain food):

গবেষকরা গণনা করেছেন শুধুমাত্র ডিনারের সময় কথোপকথনে বাচ্চারা ৩০০০ কমন ও ১০০০ দুর্লভ শব্দ শিখে ফেলে যা কিনা ১৪৩ টির বেশী বই তাদের পড়ে শোনালেও শিখতে পারেনা!!এছাড়াও এসব শিশুরা খুব দ্রুত ও সহজেই পড়ার সক্ষমতা অর্জন করে!

শারীরিক সুস্থতা:

বাচ্চাদের না খাওয়ার প্রবণতা অভিভাবকদের ভাবিয়ে তোলে! অনেকে তাদের জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করে।অথচ গবেষণা বলছে পরিবারের সাথে ডিনার করা বাচ্চারা তুলনামূলক বেশী ফলমূল, শাকসবজি ও ভিটামিন যুক্ত খাবার খায়!! কিছু গবেষণায় এমনও পাওয়া যায়,পরিবারের সাথে ডিনার করার সাথে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা (বিশেষ করে এ্যাজমা) হ্রাসের যোগসূত্র রয়েছে!!

আত্মার খোরাক (Soul food):

পরিবারের সাথে ডিনার করা সন্তানদের মাদক গ্রহণ,উগ্র আচরণ,স্কুলে নানা সমস্যা,পেটের পীড়া ও খারাপ যৌন প্রবনতা কম!!৫০০০ টিনেজারদের নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে তাদের আত্মহত্যা ও ডিপ্রেশনের প্রবণতাও কম!!
সবচেয়ে লক্ষনীয় বিষয় হলো ডিনার চলা অবস্থায় TV চললে এর একটা উপকার পাওয়াও সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

কিছু আর্টিকেল থেকে আরও উপকারিতা জানা যায়…
*পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
*শারীরিক ও মানসিক গ্রোথ হয়
*বংশীয় ইতিবাচক আভিজাত্য বাড়ে
*প্রবলেম সলভ করার মানসিক যোগ্যতা বাড়ে
*তুলনামূলক ভদ্র হয়
*অর্থ অপচয় প্রবণতা কমে
* সবচেয়ে বড় কথা সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনের প্রবণতা বাড়ে।

এতগুলো উপকারিতা না জেনেই তা অর্জন করা সম্ভব রাসূল সাঃ এর ছোট্ট একটি হাদীস আমল করে

 “তোমরা একত্রে আহার করো,বিচ্ছিন্নভাবে করো না (ইবনে মাজাহ-৩২৮৭)

وَحْشِيُّ بْنُ حَرْبِ بْنِ وَحْشِيِّ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَن جَدِّهِ، وَحْشِيٍّ، أَنَّهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَأْكُلُ وَلاَ نَشْبَعُ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَلَعَلَّكُمْ تَأْكُلُونَ مُتَفَرِّقِينَ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَاجْتَمِعُوا عَلَى طَعَامِكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ يُبَارَكْ لَكُمْ فِيهِ ‏”‏ ‏.‏

ওয়াহশী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা আহার করি, কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারি না। তিনি বলেন, তোমরা হয়ত পৃথক পৃথকভাবে আহার করো। তারা বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, তোমরা একত্রে আহার করো এবং আহারকালে আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের খাদ্যে তোমাদের জন্যে বরকত দেয়া হবে।(ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩২৮৬,হাসান হাদিস)

উল্লেখ্য যে,’বরকত’ একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ যা যাবতীয় কল্যাণকে শামিল করে!!

লেখকঃ ইসলামী বিষয়ে কলাম লেখক 

 

আরও পড়ুন