শিশুকে কীভাবে শাসন করবেন?

মনিরা ইসলাম

“আজকে তোমার বাবা আসুক” অনেক পরিবারে শিশু এভাবে সাবধান হতে চাপ পেয়ে থাকে।এই কথার মানে আমি এতক্ষন যা করলাম তা যথেষ্ট মনে হলো না।বাবা আসলে আমি (১) আমি ঘটনার বিবরণ দিবো(২) বাবাকে তপ্ত করব(৩) বাবা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আরো কঠোর হবে
তেমন কিছু করব। সত্যি।আমরা কেউ কেউ এমন করি।অনেকে ডান দিক থেকে বামদিকে গেলেই এভাবে রা রা করে হুঁশিয়ারি দেই। কেন? কেন, আমরা এমন করি?

আহারে!!! বাচ্চার বয়স কত? চার/ পাঁচ/ ছয় অথবা সাত এমনকি বারো হলেই কি? ও আমার এত ভারী কথা কিভাবে নিচ্ছে একবার কি ভাবতে নেই? ও বুঝতে পারে কোথাও আলো নেই।কোথাও ভরসা নেই।আশ্রয় নেই।সে একা। বাবা আসা পর্যন্ত কলিজাতে একটা ধুক ধুকি নিয়ে সময় কাটে।এই ধুকধুকি মনে রাখা তার বয়স অনুযায়ী মেমোরি ক্যাপাসিটির উপর নির্ভর করে।বেশী ছোট শিশু হলে বাবা আসতে দেরী হলে তার হয়ত মনেও থাকে না।

শিশু সহজ। শিশু সরল।তার প্রতিপালন এ শাসন এবং এ জাতীয় বিচার ব্যবস্হা যায় না।( Does not Match) । আমি বলতে চাচ্ছি: শিশু প্রতিপালন বিদ্যার কোথাও শাসনের এই রূপ বর্ণনা করা হয়নি।শাসন করে প্রতিপালিত হ‌ওয়া শিশু বড় হয়ে দু রকম হতে পারে।

(১) সে যে জীবন দেখেছে সেটা সে বর্জন করতে চেষ্টা করে। তার সিদ্ধান্ত থাকে সে যেদিন নিজের পরিবার পাবে সেদিন সে সব বদলে দিবে।এই শিশুরা
আপ্রাণ চেষ্টায় নিজের অভিজ্ঞতার বিপরীতে যেয়ে জীবন করে।অন্যরকম শিশু হলো

(২) আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতা যেহেতু সবার জন্যই একটা বড় ভূমিকা পালন করে।সে তার বাইরে যেতে পারে না।সে নিজেও তেমন দমন পীড়ন শাসন থেকে সন্তানকে বড় করার উপায় করে।

হাত পা দিয়ে বড় হয়ে যাওয়া আর মানসিকতায় বড় ( উদার) হ‌ওয়ার মধ্যে পার্থক্য থাকে। এই পার্থক্য একজন মানুষের সাথে কথা বলার সুযোগ হলে জানতে পারা যায়। আমরা চাই আমাদের সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।সে টা কি লিটারালি দুধ আর ভাত খেতে পারা? নাকি মনের দিক থেকেও আনন্দ থাকার ভাবনা এখানে প্রচ্ছন্ন আছে? আসলে মনের দিকের আনন্দ আমাদের লক্ষ্য।

তাহলে শিশু যদি যে কোনো কাজের ফল ভালো এবং মন্দ ভেবে বড় হতে থাকে এবং পারতপক্ষে মন্দ হবার অভিজ্ঞতা পায় তার পক্ষে দুধ ভাতের জীবন করা কঠিন হবে।
দুধে ভাতে থাকতে আর্থিক যোগ্যতার চেয়ে মানসিক যোগ্যতা থাকা বেশী জরুরী।কারণ আমরা জীবন যাপন করতে যেয়ে প্রত্যেকেই প্রত্যন্ত এলাকার কোনো না কোনো মানুষ চিনি।যারা দু বেলা খেয়ে অথবা না খেয়ে নিজেকে সুখী ভাবতে পারে।না বলে পারছি না। আজকে এক ফেসবুক লেখক বন্ধু
নিজের সাহায্য টিমের পক্ষ থেকে একটা পোস্ট দিয়েছেন।এমন জীবন আছে ভাবলে মনে হয় আমি কত অপচয় করি।

সে পরিবার এ তিনটা মেয়ে ।বাবা নাই।গরু পালন করে মা জীবন চালায়।গরু কিনেছে সপ্তাহে তিন হাজার তিনশ টাকা সুদ হারে। মেয়েরা পড়াশোনা করে।এক ব‌ই দিয়ে তিনজনকে পড়াতে হবে মনে করে একজন নীচু ক্লাসে পড়ার সময় বাকি দুজনকে নামিয়ে দিয়েছে।বলতে বাঁধা নেই একটা কাপড় দিয়ে পর্দা করে ঘর হয়েছে। এখানে জীবন যাপন চরম মানবেতর পর্যায়ে চলে গিয়েছে। আমরা অবশ্যই তার চেয়ে উৎকৃষ্ট জীবন যাপন করি। তাহলে আমাদের স্ট্রেস কম হবার যথেষ্ট সুযোগ থাকে মনে হয়।

আমাদের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট সুন্দর হলে শিশুর জন্য মনোযোগ থাকবে। শিশু কখন কেন কোনটা করে আমরা ঠিক বুঝতে পারবো।কারণ তিন বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের কাছে কি,কেন,কখন, কোথায়,কবে,কার সাথে,কার কাছে, কতটুকু, কেমন করে এই প্রশ্নের উত্তর কঠিন হয়।
সবাইকে ধন্যবাদ

লেখকঃ জার্মানি প্রবাসী লেখিকা
প্রাক্তন ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাক্তন শিক্ষক ক্যম্ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ
প্রাক্তন শরীরচর্চা প্রশিক্ষক
শিশু প্রতিপালন বিশেষজ্ঞ (প্যাডাগগ)

আরও পড়ুন