শিশুর পড়তে ও লিখতে না পারার অক্ষমতা (ডিস্প্রেক্সিয়া ডিসঅর্ডার) মোকাবেলা করবেন যেভাবে

তৃপ্তি পোদ্দার

শিশুর পড়তে হবে, জানতে হবে, শিখতে হবে, লিখতে হবে আরও এইরকম অনেকগুলো বিষয় আমাদের সামনে আসে । কিন্তু এটা কি আমরা ভেবে দেখেছি, শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশ ঠিক আছে কিনা ? আমরা যে কথা বলছি আমার সন্তানটি শুনে বুঝতে পারছে কিনা এবং পরবর্তীতে বলতে পারবে, মেধাশক্তির প্রসেস নিয়ে কথা বলবো, যদি না পারে বা একটু কম পারে তখন আমরা বলি disoder বা diabilities অর্থাৎ শিশুটির বিশেষ চাহিদা আছে. ।অনেকে ভয় পায় এবং মেনেও নিতে পারে না অনেকে  । অভিভাবক অনেক কান্নাকাটি করে । কিন্তু বিষয়টি একজন অভিবাবক হিসেবে অনেকটা কষ্টের, কিন্তু কষ্ট পেয়ে আমি বা আপনি কি করতে পারি? কিছু না। তবে যদি আমরা এই বিষয়গুলোতে যারা বিশেষজ্ঞ তাদের সাথে কথা বলি এবং একটু অতিরিক্ত চেষ্টা করি তাহলে আমরা আমাদের সন্তানকে অন্য শিশুর মতো সমান তালে পথচলায় সাহায্য করতে পারি।

শিশু পড়াশুনায় মনোযোগী নয় কিন্তু মনোযোগী না হবার কারণ কি হতে পারে, তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন?  শিশুর সামগ্রিক বিকাশ যদি ঠিক থাকে তাহলে শিশু অমনোযোগী হবে না.। তবে শিশুকে শেখানোর মাধ্যমটা যদি আপনি নিজে না জানেন তাহলে শিশুকে কি শেখাবেন?

এক দিকে দিয়ে দিচ্ছেন IPhone বা tab, আর অন্যদিকে চিন্তা করছেন আপনার সন্তান কেন কথা শুনছে না অথবা পড়াশুনা করছে না?. আপনার সন্তান আপনার কথা তখনই শুনবে যখন আপনি কথা বলাটা অভ্যাসে নিয়ে আসবেন। শিশু স্বাবাভিক ভাবেই আপনাকে সময় দিবে এবং কথার মূল্যায়ন করবে। আমি আমার ইউটিউব চ্যানেল Children’s Journey তে  অনেকগুলো ভিডিও দিয়েছি, জানি না আপনারা শুনে সেটি প্রয়োগ করছেন কিনা?আর যদি শিশুর সাথে আপনি এই একটিভিটিসগুলো করে থাকেন অবশ্যই শিশু উপকৃত হব ।

শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশ এর অনেকগুলো ধাপ রয়েছে । তার মধ্যে একটি হলো আমরা যে কথা বলি তা শুনে প্রসেস করা।  গবেষণায় দেখা গিয়েছে ছেলে সন্তানেরা এই প্রসেস করার ক্ষমতায় কিছুটা দুর্বল থাকে । এটিকে বলে Dyspraxia disorder. এর নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই । কোন শিশু ৬ বছর বয়স পর্যন্ত আবার কেউ ১০ বছর পর্যন্ত এই জটিলতায় ভুগে থাকে । মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রেও হতে পারে। হাঁ তবে, আপনি যদি একদম ছোট্ট বেলা থেকে শিশুকে একটিভিটিস করান তাহলে এই ধরণের disorder গুলোর প্রবণতা কমে যাবে।

এই বাচ্চারা প্রসেস করতে সময় নিয়ে থাকে । তারা পেন নিয়ে খেলবে বা চুপ করে বসে থাকবে বা অন্য কোনো বাহানা করবে কিন্তু কথা বলায় বেশ পারদশী হবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক কঠিন বিষয়ও বুঝতে পারে।  কিন্তু লিখতে এবং পড়তে তাদের কষ্ট হয়; কারণ ব্রেন ডেভেলপমেন্টটি ঠিকমতো হয়নি । অনেক ক্ষেত্রে তারা একটু ভালো visualised based শিক্ষণ  পেলে ঠিক হয়ে যায় । আপনার শিশুকে জানার চেষ্টা করুন । অযথা শিশুকে পাঠ্যবই মুখী না করে শিশুর বিকাশের দিকে লক্ষ্য রাখুন। আর আমি আপনাদের সাথে আছি আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন শিশুর বিকাশ নিয়ে। মনে রাখার জন্য অভ্যাস করাতে হবে একটিভিটিস এর মাধ্যমে  । কিন্তু মুখস্ত নয়, এতে শিশুর ব্রেন এ চাপ পড়ে । কিন্তু খেলা বা গান গেয়ে শেখালে তাতে শিশুর জ্ঞানীয় বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে  । এবং একটির সাথে আরেকটির তুলনা করতে পারে যেমনঃ বড় আর ছোট শিশুকে শিখাবো কিন্তু কিভাবে? অবশ্যই বড়ো আর ছোটর সংজ্ঞ শেখাবো না । একটি বড়ো কিছু দেখিয়ে বলবো বড়ো আর ছোট কিছু দেখিয়ে বলবো ছোট । ঠিক এইভাবে প্রতিটি বিষয়ের প্রাথমিক শিক্ষাটা শিশু খেলতে খেলতে শিখতে পারে।

লেখকঃ কলামিস্ট ও শিশু শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, ইংল্যান্ড, ইউকে

আরও পড়ুন