শিশুর ভাষা বিকাশের সহজ প্রক্রিয়া

তৃপ্তি পোদ্দার 

শিশুর নাম ও ভাষাবিকাশ:
ভাষাবিকাশের প্রথম ধাপ হলো শুনে উত্তর দেওয়া, যদি আপনার সন্তানের ২ টির বেশি নাম রাখেন এবং একেকটা নাম ধরে একেক সময় ডাকেন তাহলে ছোট্ট শিশুটি কিন্তু বুঝতে পারবে না আপনি তাকে ডেকেছেন। গবেষণায় বলা হয়েছে, শিশুকে বাস্তব উপকরণ এবং পুনারাবৃত্তি শিক্ষন পদ্ধতির দ্বারা শিখন শিক্ষন ফলপ্রসূ হয়। আমার আজকের এই লেখাটি সম্পূর্ণ আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা, দ্বিমত বা অনেকের অনেক মতামত থাকতে পারে কিন্তু আমি শিশুর প্রারম্ভিক জীবনের ভাষা বিকাশ নিয়ে এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরলাম।
শিশুর নাম হলো “নূরে তানিয়া কণিকা কাদের দিপা” অথবা “কাদের বিনতে আলী জিন্নাত” অথবা “সেহাংনু চটোপাধ্যায় অর্প” এমন অনেক নাম আমরা মা বাবা বা পরিবারের বয়স্করা নির্ধারণ করে থাকেন; নাম নির্ধারণ বিষয়টি কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করবে না ততক্ষন, যতক্ষণ শিশু জানবে তার একটি নাম অর্থাৎ আপনি জন্ম থেকে তাকে একটি পরিচয় দিচ্ছেন। অবশ্যই বাবু বা বেবি বলে ডাকলে আপনার সন্তান বাবু বা বেবি নামই পরিচিতি লাভ করবে, আমার বান্ধবীর নাম আমরা “মনু” জানতাম অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এবং আমরা সবাই এই নামে তাকে ডাকতাম, মনু নবম শ্ৰেণীর ছাত্রী। সবাইকে জানালো হলো মনুকে এখন আর মনু বলে ডাকা যাবে না, তার ভালো নামে ডাকতে হবে শুধু ওর আপনজন ওকে মনু বলে ডাকতে পারবে। আমাদের মাঝে প্রশ্ন শুরু হলো আমরা কে আপন আর কে পর। এই ধরণের বিড়ম্বনা অনেকেই হয়তোবা প্রতিনিয়ত পেয়েছেন বা পাচ্ছেন। আরেকটি বাস্তব ঘটনা; আমার বড় পিসিমনির নাম “করু” জানতাম আমার বয়স যখন ২৪ বছর পর্যন্ত এবং একটি বিশ্রী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল আমার বড় পিসির পুরোনাম না জানা নিয়ে।

শিশুর নিরাপত্তা:
এবার বলতে চাই শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে, প্রতিবছর শিশুর নিরাপত্তা ট্রেনিংএ শেখানো হচ্ছে শিশুর পুরো নাম এবং জন্ম দিন যদি আমরা পাবলিক মিডিয়ায় প্রকাশ করি তাহলে খুব সহজেই আমাদের অজান্তে আমরা আমাদের শিশুর তথ্য অন্যকে দিয়ে দিলাম অর্থ্যাৎ শিশুর জন্ম দিনটি পাবলিক মিডিয়াতে প্রকাশ করা যাবে না, এটি কিভাবে মেনে নেয়া যায় বলুন তো !! এটাই স্বাভাবিক, আমরা তো চাইবো আমার আপনজন আমাকে বা আমার সন্তানকে শুভেচ্ছা জানাবে।
এ ক্ষেত্রে আমি একটি মতামত প্রদান করছি, আপনাদের নিজেস্ব মতামত আমাকে দিতে পারেন বা আমারটা ও ভেবে দেখতে পারেন, শিশুর নামকরনে নির্ধারিত উল্লেখ্য বিষয়সমূহ:
১) একটি নাম হবে যা তার পরিচয়
২) একটি পরিবারের পরিচয়ের নাম যেটা ইংলিশে বলা হয় Surname
৩) একটি নিক নাম অর্থাৎ যে নামে তাকে জন্মপূর্ব বা পরবর্তী সময়ে ডাকা হবে
আপনি যদি বাংলাদেশে থাকেন তাহলে অনেক ক্ষেত্রে নাম নিয়ে ঝামেলায় পড়তে নাও হতে পারে কিন্তু বাইরের দেশে থাকলে আপনার নামের প্রথম অংশটি হলো আপনার নাম, একদম শেষের অংশটি হলো ছাড়নাম/ surname বা পরিবার প্রদত্ত পাওয়া যা আপনাকে পরিচয় দিচ্ছে আপনি কোন পরিবারের বা বংশের, মাঝের যে অংশ তাহলো আপনার মিডেল নাম, শিশুর মাঝের নাম টি রাখতে পারেন ডাকনাম যা কিনা পরিবার, বন্ধুসকল এবং পৃথিবীর সবাই জানবে কিন্তু সম্পূর্ণ নামটি আপনি শুধু প্রফেশনাল জায়গাতে ব্যবহার করবেন যেমন: স্কুল, কলেজ, ডাক্তার, চাকুরী ইত্যাদি। সে ক্ষেত্রে নিকনামটি প্রথম ও দিতে পারে আবার মাঝেও হতে পারে কিন্তু শেষে হবে না কারণ শেষে নিকনামটি হলে এই নিকনামটি কিন্তু শিশুর Surname হয়ে যাবে।
ভাষা বিকাশ:

আশা করছি উপরিউক্ত পয়েন্টটি আমি বোঝাতে পেরেছি এবার বলছি ভাষার ক্ষেত্রে কিভাবে সাহায্য করে, শিশুকে নানান নামে না ডাকাডাকি করে যদি তার প্রদত্ত একটি নামে সবাই ডাকে তাহলে শিশুর বুঝতে এবং নিজের পরিচয় অনুধাবনে সাহায্য হয়ে থাকে, এই পরমার্শ আমার ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি লন্ডনে শিশুদের সাথে এবং শিশুদের নিয়ে কাজ করছি, এখন বাংলাদেশী বাবা মার সাথে ও কাজ করছি, মেন্টরিং করছি শিশুর ডেভেলপমেন্টাল ডিলে এবং এর সাথে সম্পর্কিত নানাবিধ সমস্য্য নিয়ে, আপনি সব জানবেন তা কিন্তু নয় আবার সব ঠিক করবেন বা করছেন তাও কিন্তু নয়।

আমার সন্তান কি তার নামটি সহজেই বলতে পারবে এই বিষয়টি নিয়ে কি আমরা কখন ও ভেবেছি। শিশুর নাম রাখার ক্ষেত্রে আমরা প্রচলিত নাম হতে পারবে না, কঠিন শব্দ হতে হবে, সুন্দর অর্থ হতে হবে এমন আরও অনেক ধরণের শর্ত দিয়ে থাকি এবং চিন্তা করে থাকি কিন্তু এটা আমরা কোনো ক্ষেত্রে চিন্তাও করি না সহজে বলতে পারার জন্য শিশুর সহজে উচ্চারিত শব্দ দরকার এবং কঠিন কোনো সংস্কৃত বা অন্য ভাষার নাম হলেই শিশুটির বিড়াম্বনার কারণ হয়ে থাকে।
এতকথা কেন নাম নিয়ে? শিশুর যদি কোন বিকাশজনিত ত্রুটি বা ডেভেলপমেন্টাল ডিলে থাকে সেক্ষেত্রে শিশু কঠিন শব্দ শুনে প্রসেস করে বলতে অনেক সময় নিয়ে ফেলে আবার অনেক ক্ষেত্রে নিজের নাম বলতে ৬/৭ বছর ও লেগে থাকে যা কিনা শিশুর উদ্বিগ্নর এবং আচরণগত ত্রুটির কারণ হতে পারে। তবে কেন আমার নিজের সন্তানকে কষ্ট দিবো? শিশুর ভাষা বিকাশের সহজ প্রক্রিয়া হলো শিশুকে সহজ শব্দ ও বাক্য বলা.

লেখকঃ আর্লি ইয়ার্স এক্সপার্ট, ইউকে

আরও পড়ুন