শিশু প্রতিপালন সহজ

মনিরা ইসলাম 

আমি শিশুদের নিয়ে কাজ করি, তাই শিশু প্রতিপালন সহজ মনেকরি। বিষয়টা তেমন না। আমি ওদের নিয়ে কাজ করি, তাই জানি কাজটা কত সহজে হতে পারে। আমি মূলত সে কথাটাই প্রচার করতে চাই। তাই যে বুঝলেন না অথবা যে নিজের বাচ্চার সাথে মিলিয়ে নিতে পারছেন না তিনি প্রশ্ন করলে ভালো লাগে।

যেহেতু মন থেকে শরীর পরিচালিত হয় অথবা শরীরের জন্য মন ব্যস্ত থাকে, তাই একটা ভালো থাকলেই অন্যটা ভালো থাকতে পারে । নিয়মিত মন ও শরীর দুটাই ভালো রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

২১ তারিখ ভাষা দিবস পালিত হলো। কোভিড সমস্যার জন্য বেশীরভাগ আয়োজন ভারচ্যুয়ালি হলেও সরাসরি যোগাযোগ থেকেও কম অনুষ্ঠান হয়নি মনে হলো। বাংলাদেশ এ শহীদ মিনারে লোকজন এসেছিলেন। তাদের কেউ দূরত্ব বজায় রেখেছেন,কেউ রাখেননি। কেউ মাস্ক পড়েছেন কেউ পড়েননি। এমন একটা অনুষ্ঠান জার্মানিতে  হবার জন্য বাধ্যতা বিচার হতো সবচেয়ে আগে।

বাধ্য মনে হলে জার্মানরাও সরাসরি উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠান করত। তবে তাদের মাস্ক পড়া আর দূরত্ব বজায় রাখা কাজটাতে দ্বিমত পোষণ করার কেউ থাকতো না। এখন আমরা ফুটপাতে, গাড়ি পার্কিং এ মাস্ক পড়ি। এগুলো মেডিসিন মাস্ক। তাই রঙ বেরঙের মাস্কগুলো আর পড়া হয় না।

আমি ভাগ্যবতী। দুই ভাষা ও সংস্কৃতিকে এত কাছ থেকে দেখতে পেলাম তাই। বাংলাদেশ এ থাকলে নিয়ম মানতে কি আমার‌ও এত অনীহা থাকতো? মনে হয় থাকতো আবার মনে হয় থাকতো না। আসলে যা হয়নি তা অনুমান করা কঠিন। অনুমান থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া আরো কঠিন।

সঠিক জীবন যাপনের জন্য স্বতঃস্ফুর্ত অভিজ্ঞতা দরকার, কাজে স্বাধীনতা দরকার। এখানে শিশু বা বৃদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে না। এই স্বাধীনতা সবার জন্য সমান জরুরী। যে কর্মচারী নিয়মিত বকা পায় তার কাজ নিয়মিত ভুল হয়। বাচ্চারা এর ব্যতিক্রম নয়। একবার যাকে খারাপ মনে হয়, হাতি দিয়ে টেনে তার কাছে নেয়া যায় না।

আমাদের বকা, ধমক, চোখ রাঙানো, কৃত্রিম কন্ঠস্বর শিশুর সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে। আমাদের ব্যাক্তিত্বকেও সহজ রাখে না। তাই যে কাজে সবার ক্ষতি তা থেকে দূরে থাকা আনন্দের। 

গতকাল আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একুশে ফেব্রুয়ারির ভারচ্যুয়াল অনুষ্ঠান হয়েছিল। আজকে দেখলাম। সেখানে মূলত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের চেষ্টা বেশী হয়েছি। জানা হলো পৃথিবীতে ছয় হাজার রকমের ভাষা আছে। এর প্রত্যেকটা  কারো না কারো জন্য মাতৃভাষা। অভিভূত হয়ে দেখলাম ইংলিশ, স্প্যানিশ, পোলিস, হিন্দি যে ভাষাতেই গানটা ওরা শোনালো সবগুলো মনকে ছুঁয়ে যেতে পারে। মনে মনে ঠিক করলাম জার্মান ভাষায় করে দেখব।

মানুষ এখন বৈশ্বিক নাগরিক। মাতৃভাষায় জ্ঞান তাকে শেকড় চেনাবে। তার ব্যাক্তিত্বে গভীরতা আনবে। ভাষা বহুমাত্রিক উপাদান। আমার নিজ ভাষা আছে ,এই বোধ স্বকীয়তা দেয়। শিশুকে সঠিক তথ্য দিয়ে বড় করতে হবে। সে কথা বলতে পারার অনেক আগেই তার বিভিন্ন কাজ সেট হয়ে যায়। এদিকে সতর্ক থাকা সব বাবা এবং মায়ের জন্য সমান গুরুত্বের। আবার বলতে চাই ‘শিশু প্রতিপালন সহজ, যদি আমরা সেটা বুঝতে পারি।’

লেখকঃ জার্মান প্রবাসী লেখিকা, প্রাক্তন শরীরচর্চা প্রশিক্ষক, প্রাক্তন ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিশু প্রতিপালন বিশেষজ্ঞ (প্যাডাগগ)

আরও পড়ুন