আমরা সুখেও গাই দুখেও গাই

মহিয়ীসীর কলাম

#ভিজ্যুয়াল দ্বন্দ্ব#

লেখালেখির বিষয়টিতে আমি এর আগে একবার আমার জবাবদিহিতায় আংশিক কিছু বলার চেষ্টা করেছিলাম। একদম বিবেক তাড়িত হয়েই করেছিলাম। প্রসঙ্গটি বহু পুরোনো। আমরা কেন লিখি ? বিষয়টি নিয়ে বিস্তর বিতর্ক আছে। অনেক বাঘা বাঘা লেখক কলামিস্ট যাঁরা স্বমহিমায় ভাস্বর তাঁরাও ক্ষান্ত দিয়েছেন। বিতর্ক সামনে নিয়ে যান নি। বিষয়টি সহজ কিন্তু বিতর্ক বাড়ানো যায় না। বাড়াতে চাইলে পরিনাম সুখকর হয় না। পাখির গানের কোন সংজ্ঞা নেই। সুখে গায় দুখেও গায়। গানটি তো আর মানব জীবনে প্রতিকুলতার সৃষ্টি করে না। আমরা হজম করতে পারি না বলে লিখে যাই। প্রভাব বা প্রতিপত্তি কেমন হবে এটি মনে হয় লেখক সাধ করেন না। মা সন্তান প্রসব করার জন্য কি যে কষ্ট ত্যাগ তিতিক্ষা করেন তা মা মাত্রই জানেন। প্রসব বেদনা মা ব্যতীত পৃথিবীর আর কেউ কল্পনা করতে পারেন কি না তা আমার অন্তত জানা নেই। লেখকেরা এক ধরনের লেখা প্রসব বেদনা অনুভব করেন। এটি প্রসব না করলে কি কষ্ট তা লেখক জানেন। ভিজ্যুয়ালী গ্রুপে লেখার জন্য জাকারবার্গ কে পরম শ্রদ্ধা করতেই হয়। ফেসবুকে আর কি হয় সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমরা সমষ্টিগতভাবে লিখতে পারি। আলোচনা করতে পারি। ভালো মন্দ মন্তব্য করতে পারি। এটি কম কিসে? কোন পত্রিকার কাছে অন্তত ধর্না তো দিতে হয় না। তবে লেখক যে সহজে হওয়া যায় না এটি আমরা অনুধাবন করি। পশুপাখি সহজেই পশুপাখি কিন্তু লেখক সহজ নয়। বিস্তর পড়া লাগে। আমাদের বাংলা ভাষায় রসদ কম নেই। বিশাল ভান্ডার আমাদের। “চর্যাপদ থেকে কবিগুরু, ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার শুরু।” বিশাল এক ক্যানভাস জুড়ে আমাদের বাংলা ভাষা-সাহিত্য চর্চার চিত্র। একজন পাঠক অবলীলায় হেঁটে যেতে পারেন বাংলা ভাষা সাহিত্যের পুস্পশোভিত উদ্যানে। নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন। আমরা নবীনদের কড়জোড়ে মিনতি জানাই একটু হেঁটে আসুন আমাদের বাংলা সাহিত্যের উদ্যানে। আমরা বিদগ্ধজনেরা আপনাদের স্বশ্রদ্ধ সালাম জানাই। ভিজ্যুয়ালী আপনাদের সাথে আছি আমরা বন্ধু হয়ে পাশে। আমরাও সমালোচনার উর্ধে নই। আমাদেরও চেঁপে ধরুন। বয়সী বলে ভালো লিখি তা নয়। দৃষ্টিভঙ্গী একটু সমৃদ্ধ হতে পারে আমাদের। আপনাদেরও হবে। আমরা তো লেখার সুযোগ পেয়েছি। লিখে চলি মনের আনন্দে। আমরা একটি কথা প্রায়ই বলি,শালীনতার সাথে সহাবস্থান আর মুল্যবোধ ধরে রাখি। মানবিক মুল্যবোধ স্বর্গীয়। মুল্যবোধ বিসর্জিত হলে মানবিকতা টেকে না। লেখকেরা এক অলিখিত স্বর্গীয় মুল্যবোধ ধারন করেন। আমরা খেয়াল রাখি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এ মুল্যবোধের অপচয় যেন আমরা না করি। পরস্পরের প্রতি অবারিত শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার পসরা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাই। এক মনিষী বলেছেন, “শিশুরা পৃথিবীর কোন দুঃসংবাদ স্বীকার করে না।” লেখকেরা সদানন্দ। ভুখা পেটেও কাব্য বেরিয়ে আসতে পারে। তবে আমরা কেন বদ দোষে দুষ্ট হতে গেলাম ? আমরা স্বপ্ন দেখি আমাদের সুন্দর চিরন্তন মাতৃভুমি বাংলাদেশের। কাগজ আর ভিজ্যুয়ালী লেখায় কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমরা সুখে গাই দুখেও গাই।

 

নুরে আলম মুকতা,  কবি,  সাহিত্যিক ও সহ-সম্পাদক, মহীয়সী

আরও পড়ুন