প্যারেন্টিং

আপনার সন্তানকে বন্ধু বানান
পর্ব -১৭
– নুরে আলম মুকতা
অযথা একটি কারনে আমার জীবনের প্রথম দিকে ফেসবুক ব্যবহারে একদিন মানসিক কষ্ট পেয়েছিলাম। সহৃদয় ও প্রিয় বন্ধু এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার সমাধান টেনেছিলেন। আমি আসলে ওভাবে ভেবে মন্তব্যটি করি নি। কেউ আঘাত পেলে তো আমি আর ও সীমানা ডিঙাই না। কখনও না। আমার আঘাত দেয়া সাজে না। একজন বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা বিষয়ে আলোচনা চলছিলো। আমি এক পর্যায়ে মন্তব্য করেছিলাম যে, তিনি হোমো ছিলেন এবং তিনি AIDS আক্রান্ত হয়ে গ্রহ থেকে বিদায় নিয়েছেন। এ বিষয়ে আমাদের শিক্ষা নেয়া দরকার। ব্যাস ওইটুকুই। আমাদের এক শ্রদ্ধেয় বান্ধবী চটে গিয়েছিলেন। পরে আমি দুঃখ প্রকাশ করে ও মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। মানুষের ভালো লাগার আবেগ সম্পর্কে আমার নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছিলো। আজ এ গল্পের অবতারণা এ জন্যে যে কোন রোগ বিখ্যাত মানুষ, যাদের সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত অফুরান তাকেও ছাড় দেয় না। তবে আমরা আর কোন ছার ? যথেচ্ছাচার যৌনতা হারাম ও ধ্বংস অনিবার্য।
HIV সম্পর্কে আধুনিক প্রজন্ম যতটুকু জানে তারচেয়ে মনে হয় অন্য যৌন রোগগুলো সম্পর্কে কম জানে। কারণ এটি ইতিমধ্যে পাঠ্য তালিকায় এসেছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও প্রিয় ছাত্রদের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাই। ভাগ্যিস হাতের মুঠোয় ইন্টারনেট আছে বলে অনেক সহযোগিতা পাচ্ছি। শুধু উপস্থাপনের কৌশলটি একটু সাজিয়ে নিতে হয়। এখানে একটি বিষয় আমি সবিনয়ে প্রিয় বন্ধু দের আবেদন করি, ভয় পাওয়ার মতো করে সন্তান-সন্ততিদের নিকট কোন তথ্য উপস্থাপন করবেন না দয়া করে। কারণ ভয় পেলে ও তথ্যের প্রতি আর আগ্রহ থাকবে না। যেমন ধরুন, এভাবে যদি অবতারণা করিঃ
” আজ আমরা একটি রোগ সম্পর্কে আলোচনা করবো। এটি আমাদের কারো হয়নি। হবার সম্ভাবনাও নেই। আমরা দারুণ এক নিয়মতান্ত্রিক জীবন শৃঙ্খলে আবদ্ধ। কিন্তু এটি সম্পর্কে আমরা আজ জেনে নিচ্ছি এজন্য যে , আমরা হয় ভাগ্যবান নয়তো চালাক অথবা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই। আমরা কখনোই চাই না কেউ দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হই বা আমাদের প্রিয় কেউ আক্রান্ত হোক।”
নিজেকে প্রাণবন্ত আর হাসিখুশি রেখে উপস্থাপন করুন। দেখবেন একটি জটিল বিষয়ও সহজ করে আপনি বলতে পারছেন। সোনামুখ গুলো আপনার প্রতি হা করে চেয়ে থাকবে। এখানে একটি বিষয় শেয়ার করা আরো যুক্তিযুক্ত মনে করছি তাহলো পরিবেশ পরিস্থিতি খুঁজুন। খুবই অনুকুল আর আন্তরিক পরিবেশ পেলে জটিল তথ্য উপস্থাপন করবেন। কেউ যদি বলেন, সময় তো ভাই সবসময় একই রকম পাওয়া যাবে না। আমি একমত পোষণ করছি। কিন্তু আশাবাদি হোন। সময় পাবেন আপনি। অধৈর্য্য না হয়ে একটু অপেক্ষা করুন।
HIV একটি ভাইরাস। এটির পুর্নরূপ Human immunodeficiency Virus. বিজ্ঞানিরা এ ভাইরাসটিকে AIDS রোগের কারণ হিসেবে সনাক্ত করেছেন। এর উৎপত্তি আর বিকাশ সম্পর্কে আমাদের সন্তানদের বিশদ জানানোর প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। কারন, নেট ঘাটাঘাটি করলে এ সপর্কে ব্যাপক জানা যাবে। তাহলে আমাদের কি করণীয়?
HIV একটি ভাইরাস। এটির পুর্নরূপ Human immunodeficiency Virus. বিজ্ঞানিরা এ ভাইরাসটিকে AIDS রোগের কারণ হিসেবে সনাক্ত করেছেন। এর উৎপত্তি আর বিকাশ সম্পর্কে আমাদের সন্তানদের বিশদ জানানোর প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। কারন, নেট ঘাটাঘাটি করলে এ সপর্কে ব্যাপক জানা যাবে। তাহলে আমাদের কি করণীয়?
সংক্ষেপে একটু আলোচনা করে তারপর শেয়ার করার চেষ্টা করি আমরা কি করতে পারি। চলুন একটু ইতিহাস জেনে আসি প্রিয় বন্ধু । ১৯৮১ সালে সাহারা-আফ্রিকা অঞ্চল থেকে এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে বলে গবেষক গণ বলছেন। এর বিস্তৃতি  প্রাইমেট-নরবংশ বা মানুষের কাছাকাছি যে সকল প্রাণী তা থেকে বিস্তৃতি লাভ করেছে বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন। সবুজ বানর,শিম্পাঞ্জি এরকম কিছু পশু এর বাহক বলে তাঁদের ধারনা। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মানুষ আফ্রিকার পশুমাংস বা সংস্পর্শে এলে এটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৮১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ ভাইরাসটির কারনে বিশ্বে মোট ২ লক্ষ ৫০০০০ মানুষ মৃত্যু বরণ করেছেন। WHO এ যৌন রোগের সংক্রমণ কে Pandemic ঘোষণা করেছে। HIV মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে একেবারে শেষ করে দিতে পারে। ভাবনার বিষয় হলো এ ভাইরাসটি কোভিডের মতো হাঁচি কাশিতে ড্রপলেট আকারে বাতাসে বাহিত হয় না। এটি বাহক দ্বারা বাহিত হতে হয়। এজন্য এ রোগটির নাম হয়েছে AIDS. পূর্নরূপ Acquired Immuno deficiency Syndrome বাংলায় এরকম বলা হচ্ছে মানব প্রতিরক্ষা অভাব সৃষ্টিকারি লেন্টিভাইরাস। বিপদের কারন হলো এটি সুপ্ত অবস্থায় শরীরে বেশকিছু দিন থাকতে পারে। সক্রিয় হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে বিভিন্ন রকম ক্যান্সার তৈরি করতে পারে। ফলে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। মাদকাশক্তি, যথেচ্ছ যৌনাচার, ঝুঁকিপূর্ন রক্ত সঞ্চালন ও গ্রহন, অনিরাপদ ইঞ্জেকশনের নিডল, এমনটি ক্ষৌরকর্মের অনিরাপদ ব্লেডও এ রোগের কারন হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক অনিরাপদ যৌনাচার।
আমাদের এ পর্যায়ে করণীয় কি বা কি রকমের কৌশল অবলম্বন করা যায়। আমার কৌশলটি আমার। আমি শুধু প্রিয় বন্ধুদের অনুরোধ করি আর শেয়ার করি। যিনি যার মতো করে এটি প্রয়োগ করার চেষ্টা করতে পারেন।
• সন্তানের বন্ধু হবার বিকল্প নেই
• নিজ নিজ ধর্মের বিষয়ে আগ্রহী করুন, খেয়াল রাখতে হবে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে না যায়। বাড়াবাড়ি বিষয়টি বন্ধু ভিন্ন ভাবে নেবেন না দয়া করে। এ বিষয়ে পরে আলোচনা হবে।
• সহশিক্ষা কার্যক্রমে উদ্ভুদ্ধ করুন, যেকোন বিষয়ে। নাচ, পড়া, পশুপাখি পালন, গান, গাছ লাগানো, আবৃতি, অঙ্কণ ইত্যাদি যেন ও ব্যস্ত থাকে। প্রয়োজনীয় রসদ দিন।
• মা অথবা বাবা যে কেউ সঙ্গ দিন
•  একা থাকতে দিবেন না
•  উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বন্ধু দের সাথে ঘোরা চোখে চোখে রাখুন
•  ওর সমস্যা ও সুখের অনুভূতি গুলো শুনুন প্লিজ
•  অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড বা ফাস্টফুড যেন না খায়
•  সবজি খাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী করুন প্লিজ। বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা সবজি খায় না।
•  ওদের নিজস্ব এ্যান্ড্রয়েড বা স্মার্ট ফোন মাঝে মাঝে হাতে নেবেন ।
•  মা বাবা কখনোই ওদের সামনে তর্ক করবেন না। এরকম পরিস্থিতি হলে একজন পরাজয় মেনে নিন। অথবা স্থান ত্যাগ করুন। পারলে নামাজ পড়তে লাগুন বা পবিত্র কুরআন পড়তে পারেন
•  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে অবস্থানের বিষয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখুন
•  আমাদের যত কষ্ট থাকুক, সন্তান সন্ততিদের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন।
(চলমান)
লেখকঃ সাহিত্যিক,শিক্ষক ও সহ-সম্পাদক,মহিয়সী।
আরও পড়ুন