মহীয়সীর কলাম 

হতে পারে বিচ্ছিন্ন ভাবনা
-নুরে আলম মুকতা
মনে যদি অবারিত শান্তি না থাকে তবে মনে হয় নিরঙ্কুশ ভাবনা পাখা মেলতে পারে না। শান্তির বিষয়টিকে আমরা আরো যদি একটু বাংলায় উপসর্গ যোগ করে বলি তবে এটি প্রশান্তি হবে। কদিন আগে একটি নিউজে দেখছিলাম যে, কোন ধর্মের লোকেরা শান্তিতে যার অর্থ প্রশান্তচিত্তে বর্তমান সময়ে জীবন যাপন করছে? এ বিষয়ে একটি জার্মান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাদের জরীপ চালিয়েছে। জরীপটি যদিও আমার কাছে পূর্নাঙ্গ মনে হয়নি। তারপরেও জরীপ তো। এখানে অবশ্যই বেশকিছু জনগোষ্ঠীর ওপর জরীপটি পরিচালিত হয়েছে। জরীপের ফলাফলটি আমার কাছে অতুলনীয় মনে হয়েছে। মনে হবার যথেষ্ট কারনও আছে। এখানে জীবন আর বৈষয়িক ভাবনা , ভবিষ্যতের কর্মপন্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে। আসলে কারা নিজ উপার্জন, অর্জিত সম্পদ আর ভবিষ্যতের বিষয়ে তুষ্ট। আমরা বিংশ শতাব্দীতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। অসুস্থ প্রতিযোগিতার বিষয়ে নাই বা বললাম। আমি যেটি অসুস্থ বলবো সেটি কেউ সুস্থ বলতে পারেন। কিন্তু যা আসলে মোক্ষম লক্ষ্য তাতো কখনও কেউ অসুস্থ বলবেন না। সম্পদ উপার্জন আর সংসার নির্বাহের বিষয়ে আমাদের কারো দ্বিমত নেই। সবাই আমরা এ বিষয়ে সচেতন। একটি জায়গায় কেহই আমরা ছাড় দিতে রাজী নই। তাহলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানুষ হবার বিষয়ে। এটি তো তাহলে চমৎকার ভাবনা। আসুন তাহলে একসাথে বসা যাক এবার। মানুষ যখন হতে হবে মানবিক গুণাবলী অবশ্যই অর্জন করতে হবে। আমি আমার সন্তান সন্ততি দের মানুষ হবার জন্য যদি প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাই তবে মানুষ হবার জন্য মৌলিক বিষয়গুলো অবশ্যই আমাকে খেয়াল রাখতে হবে। এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যে, মানুষ হবার জন্য কি যথেষ্ট উপকরণ বা কৌশল আমার জানা আছে? আদিম যুগের মানুষ সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে সমাজের সৃষ্টি করেছিলেন। সমাজবিজ্ঞানীদের নিকট থেকে আমরা জেনেছি মাতৃতান্ত্রিক পরিবার আমাদের সভ্যতার বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষার বিষয়টিকে অনেক বিশেষজ্ঞ আপেক্ষিক ভাবে বিচার করেছেন কখনও কখনও। আসলে সার্বিক শিক্ষাটি কখনও পণ্যের মতো ছিলো না। এটি মুলত পরিবার থেকে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়ে একজন মানুষকে পুর্নাঙ্গতার দিকে নিয়ে যায়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে গবেষণা কখন শেষ হবে আমরা জানি না। কিন্তু একটি বিষয়ে আমরা জোর গলায় বলতে পারি আমাদের একদম নিজের শিক্ষা সিলেবাস সমাপ্ত করে অনেক মেধাবী পাশ্চাত্যের নামীদামী প্রতিষ্ঠানে স্ব-সম্মানে  নিজেদের উপস্থাপন করতে পেরেছেন। কোন অভিভাবক যদি মনে করে থাকেন যে তার সন্তান সন্ততি ভালো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষালাভ না করলে মানুষ হবে না। তবে তার কাছে আমার সবিনয় প্রশ্ন, আপনি কি আপনার শিশুটিকে কিছু শিখিয়েছেন?  সবই যদি কিনে নেন তবে আমার বলার কিছু নেই। আমাদের আদি শিক্ষা মক্তব বা মন্দির গুরু নির্ভর ছিলো। মহাভারত,রামায়ন, পবিত্র আল কুরআনের বাইরে অবশ্যই নয়। তবে হঠাৎ করে সমাজ অস্থির হয়ে উঠলো কেন?  আমার সমাজ বিজ্ঞানী বন্ধুকে প্রশ্ন করে আমি অবাক হয়েছি জেনে যে, আর্থিক সংযোগ অপরাধের মুল বিষয়! টাকা না থাকলে তো মাদক কেনা যায় না, অপ্রাপ্ত বয়সে কেউ বাইকার হয়ে ওঠেনা। সম্ভ্রম আর অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও টাকার গরমে কমে যায়। লজ্জা তুচ্ছ হয়ে যায়। আমি যদি আমার কন্যার কথা ভেবে অস্থির থাকি তবে আপনি আপনার সন্তানের কথা ভেবেও অস্থির থাকতে পারেন। মোদ্দা বিষয়টি এমন দাঁড়ালো যে, কন্যা যদি ধর্ষিতা হয় তবে সন্তান ধর্ষক হবে। এমন ভয়ানক অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় আমাদের বের করতে হবে। একা রাষ্ট্র বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে এটি মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। আমাদের মানবিক মুল্যবোধ আর দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন জরুরী হয়ে গিয়েছে। আমরা কেহই নিরাপদ নই। শুরুতে একটি জরীপের কথা বলছিলাম। জার্মান সংস্থাটির মতে তাদের জরীপে মুসলিম সম্প্রদায় সবচেয়ে মানসিক শান্তিতে জীবন কাটায়। কারন হিসেবে ওরা বলছে, মুসলিমেরা অল্পে তুষ্ট আর কর্মের ফলাফল ও বিধি লিপির বিষয়ে এক সৃষ্টি কর্তার প্রতি অনুগত। এজন্য মুসলিমদের মনে অস্থিরতা কম। এখানে আমরা আশায় বুক বাঁধতে পারি এ বলে যে, আমাদের পারিবারিক শিক্ষা আর মুল্যবোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানুষ হয়ে উঠবার জন্য অপরিহার্য। আমরা আশাবাদী আর স্বপ্নচারী।
নুরে আলম মুকতা, কবি, সাহিত্যিক,কলামিস্ট, অনুবাদক,সহ-সম্পাদক’মহীয়সী
আরও পড়ুন