কবি গোলাম মোস্তফা ও বিশ্বনবী

-নুরে আলম মুকতা

কবি গোলাম মোস্তফার আজ প্রয়াণ দিবস। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এ মহান কবির মহান কর্ম আর গুনাবলী। ১৮৯৭ সালের ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপায় এ মহান কবি জন্মগ্রহন করেছিলেন। আমরা জানি কোন মানুষ তার সামাজিকতার উর্ধে উঠতে পারেন না। সমাজে যা কিছু তাই নিয়ে টিকে থাকতে হয়। রবীন্দ্র-নজরুল যুগে যে সকল কবি লেখক নিজের কীর্তিতে টিকে গিয়েছিলেন তাঁদের মেধা আর গুনাবলী সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। ঐ সময়টিতে মুসলমান লেখক কবি হলে তো কথা আরো বেশি খরচ করা লাগে। আমরা এ ক্ষুদ্র পরিসরে ও পথ মাড়াচ্ছি না। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন,মধ্যযুগে যে সকল মুসলিম কবি সাহিত্যিক বাংলাকে এক উঁচু স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁদের আমাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা উচিত। কবি গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশের মাটির মানুষ। তাঁর লেখার বিচার করতে গিয়ে সময়টি বিবেচনায় নিতে হয়। তাঁর সময়টি ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিকে নজর দিতে হয়। তিনি মানবিক মুল্যবোধের বিষয়ে এমন কিছু সৃষ্টি করে গিয়ে বাংলা ভাষাকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন যা তাঁর নিজের কীর্তিতে ভাস্বর হয়ে আছে। আমরা ধর্মীয় বিষয়গুলো একদম ব্যক্তিগত বিষয় বলে এড়িয়ে গিয়ে সাহিত্য চর্চা করি। কিন্তু ধর্ম এসেই যায়। এটি অপরিহার্য। কারন মানবিক গুণাবলি ধর্ম বিশ্বাসের সাথে যুক্ত। একজন মানুষকে বিচার করার সময় তিনি তাঁর ধর্মে কতটুকু অনুগত তা মনে হয় বিচার্য হতে পারে। ধার্মিক কখনও নষ্ট হয় না। বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন। মুহাম্মদ ( সাঃ) এক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতম মহাপুরুষ। আমি যখন এ মহাপুরুষের বাড়ি ভ্রমনে গিয়েছিলাম তখন দেখি সৌদী রাজ ওখানে লিখে রেখেছেন, “মুহাম্মদ (সাঃ) একজন মানুষ ছাড়া অন্য কিছু নন। তিনি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের মেসেজ ধারক এবং প্রচারক ছিলেন। এজন্য সৃষ্টিকর্তা বিশেষ ভাবে তাঁকে প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি সৃষ্টি কর্তার বিশেষ আশীর্বাদ পুষ্ট। দয়া করে এখানে কেউ শিরক করবেন না।”
বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে চমৎকার আর সুললিত ধারায় মুহাম্মদের(সাঃ) জীবন আর কর্ম উপস্থাপনের বিস্ময়কর কাজটি কবি গোলাম মোস্তফা করে গিয়েছেন। প্রমান দাখিল করেছেন বিশ্বের সমস্ত বড় বড় ধর্মগুরু কিভাবে সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ মুহাম্মদের (সাঃ) আগমন স্বীকার করেছেন অকপটে। সব নদী এসে একসাগরে মিশে গিয়ে মানুষের চিরমুক্তি আর প্রশান্তির পথ তৈরি হয়ে গিয়েছে। বিশ্বনবী লেখার সময় কবি গোলাম মোস্তফা পৃথিবীর কোন ধর্মে সামান্য আঁচড় লাগুক একাজ করেন নি। এক অমর সাহিত্য সৃষ্টি করে বাংলা কবি সাহিত্যেকদের পথ সুগম করে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বনবী লেখার পর যদি আর কিছুই না লিখতেন তবুও কবি গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশের ভাষা সাহিত্যে অমর হয়ে রইবেন। তিনি কোলকাতার রিপন কলেজের গ্রাজুয়েট ছিলেন এবং ডেভিড হেয়ার ট্রেনিং কলেজ থেকে বিটি ডিগ্রী অর্জন করেছিলেন। কবি গোলাম মোস্তফার প্রথম কাব্যগ্রন্থ রক্তরাগ প্রকাশিত হলে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ বিখ্যাত কবিকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছিলেন,
“তব নব প্রভাতের রক্তরাগখানি
মধ্যাহ্নে জাগায় যেন জৌতির্ময়ী বানী ”
বাংলা ভাষার এ মহান কবি আজ ১৩ অক্টোবর ১৯৬৪ পরলোক গমন করেন। আমরা পরম শ্রদ্ধায় তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

নুরে আলম মুকতা কবি,  সাহিত্যিক ও  সহ-সম্পাদক মহীয়সী।

আরও পড়ুন